মূলঃ যুবায়ের আলী যাঈ 

ভাষান্তরঃ আবূ মুবাশশির আহমাদ বিন আব্দুত তাওয়াব আনসারী (আহমাদুল্লাহ সৈয়দপুরী)

 

তাকলীদের পারিভাষিক অর্থ

(১) হানাফীদের নির্ভরযোগ্য গ্রন্থ ‘মুসাল্লামুস সুবূত’-এ লেখা আছে,

التقليد : العمل بقول الغير من غير حجة كأخذ العامي والمجتهد من مثله، فالرجوع إلي النبي عليه الصلاة والسلام أو إلي الإجماع ليس منه وكذا العامي إلي المفتي والقاضي إلي العدول لإيجاب النص ذلك عليهما لكن العرف علي أن العامي مقلد للمجتهد، قال الإمام : وعليه معظم الأصوليين

‘তাকলীদ : (নবী ব্যতীত) অন্য কারো কথার উপর দলীল-প্রমাণ ছাড়া আমল করা। যেমন সাধারণ মানুষ (মূর্খ) তার মত আরেকজনের এবং মুজতাহিদের তার মত আরেকজন মুজতাহিদের কথাকে গ্রহণ করা। তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বা ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা এই (তাকলীদের) অন্তর্ভুক্ত নয়। অনুরূপভাবে সাধারণ মানুষের মুফতীর দিকে এবং বিচারকের সাক্ষীর দিকে প্রত্যাবর্তন করা (তাকলীদ নয়)। কেননা দলীল এ দুটিকে ওয়াজিব করেছে। কিন্তু প্রচলিত আছে যে, সাধারণ মানুষ মুজতাহিদের মুকাল্লিদ। (শাফেঈ মাযহাবের অন্তর্ভুক্ত) ইমামুল হারামাঈন বলেছেন, ‘এই (সংজ্ঞার) উপরেই অধিকাংশ উসূলবিদ (একমত) আছেন’।[১৪]

(২) হানাফীদের গ্রহণযোগ্য গ্রন্থ ‘ফাওয়াতিহুর রাহামূত’-এর মধ্যে লিখিত আছে,

(فصل: التقليد العمل بقول الغير من غير حجة) متعلق بالعمل والمراد بالجحة حجة من الحجج الأربع وإلا فقول المجتهد دليله وحجته (كأخذ العامي) من المجتهد (و) أخذ (المجتهد من مثله فالرجوع الي النبي عليه) وآله وأصحابه (الصلاة والسلام او الي الاجماع ليس منه) فإنه رجوع الي الدليل (وكذا) رجوع (العامي الي المفتي والقاضي الي العدول) ليس هذا الرجوع نفسه تقليدا، وان كان العمل بما أخذوا بعده تقليدا (لا يجاب النص ذلك عليهما) فهو عمل بحجة لا بقول الغير فقط (لكن العرف) دل (علي ان العامي مقلد للمجتهد) بالرجوع اليه. (قال الامام) امام الحرمين (وعليه معظم الاصوليين) وهو المشتهرالمعتمد عليه

‘(অনুচ্ছেদ : নবী ব্যতীত অন্য কারো কথার উপর দলীল ছাড়া আমল করাকে তাকলীদ বলে)। এটি আমলের সাথে স¤পৃক্ত। আর হুজ্জাত দ্বারা উদ্দেশ্য হল চারটি দলীলের একটি। নতুবা মুজতাহিদের বক্তব্য তার (সাধারণ মানুষ) জন্য দলীল ও হুজ্জাত। যেমন সাধারণ মানুষের মুজতাহিদের নিকট থেকে গ্রহণ করা এবং মুজতাহিদের তার মত অন্য আরেকজন মুজতাহিদের নিকট থেকে গ্রহণ করা। আর নবী করীম এবং ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা তাকলীদের অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটি দলীলের দিকে প্রত্যাবর্তন। অনুরূপভাবে সাধারণ মানুষের মুফতীর দিকে এবং বিচারকের সাক্ষীদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা তাকলীদ নয়। যদিও পরবর্তীগণ এই আমলকে তাকলীদ বলেছেন। কিন্তু এই (তাকলীদ না হওয়া আমল)-এর আবশ্যকতা দলীল দ্বারা প্রমাণিত আছে। এজন্য এটি দলীলের উপর আমল, নবী ব্যতীত অন্যের কথার উপর আমল নয়। কিন্তু ‘উরফ’ (সামাজিক প্রথা) নির্দেশ করেছে যে, সাধারণ মানুষ মুজতাহিদের দিকে প্রত্যাবর্তন করার কারণে তারা মুকাল্লিদ হয়। ইমামুল হারামাঈন বলেছেন, এর উপর অধিকাংশ উছূলবিদ রয়েছেন (যে এটি তাকলীদ নয়)। আর এটি প্রসিদ্ধ ও নির্ভরযোগ্য অভিমত’।[১৫]

(৩) কামাল ইবনুল হুমাম হানাফী (মৃ. ৮৬১ হি.) লিখেছেন,

مَسْأَلَةُ التَّقْلِيد الْعَمَلُ بِقَوْلِ مَنْ لَيْسَ قَوْلُهُ إحْدَى الْحُجَجِ بِلَا حُجَّةٍ مِنْهَا فَلَيْسَ الرُّجُوعُ إلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْإِجْمَاعُ مِنْهُ

‘তাকলীদের মাসলা : ঐ ব্যক্তির কথার উপর দলীলবিহীন আমল করাকে তাকলীদ বলে, যার কথা (চারটি) দলীলের মধ্য হতে একটি নয়। সুতরাং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা তাকলীদের অন্তর্ভুক্ত নয়’।[১৬]

এর ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ইবনু আমীর আল-হাজ্জ (হানাফী, মৃ. ৮৭৯ হি.) লিখেছেন,

(مَسْأَلَةُ التَّقْلِيدِ الْعَمَلُ بِقَوْلِ مَنْ لَيْسَ قَوْلُهُ إحْدَى الْحُجَجِ) الْأَرْبَعِ الشَّرْعِيَّةِ (بِلَا حُجَّةٍ مِنْهَا فَلَيْسَ الرُّجُوعُ إلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْإِجْمَاعُ مِنْهُ) أَيْ مِنَ التَّقْلِيدِ عَلَى هَذَا؛ لِأَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا حُجَّةٌ شَرْعِيَّةٌ مِنْ الْحُجَجِ الْأَرْبَعِ، وَكَذَا لَيْسَ مِنْهُ عَلَى هَذَا عَمَلُ الْعَامِّيِّ بِقَوْلِ الْمُفْتِي وَعَمَلُ الْقَاضِي بِقَوْلِ الْعُدُولِ؛ لِأَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا، وَإِنْ لَمْ يَكُنْ إحْدَى الْحُجَجِ فَلَيْسَ الْعَمَلُ بِهِ بِلَا حُجَّةٍ شَرْعِيَّةٍ لِإِيجَابِ النَّصِّ أَخْذَ الْعَامِّيِّ بِقَوْلِ الْمُفْتِي وَأَخْذَ الْقَاضِي بِقَوْلِ الْعُدُولِ-

‘মাসলা : তাকলীদ হল ঐ ব্যক্তির কথার উপর দলীলবিহীন আমল করা যার কথা শরীয়তের চারটি দলীলসমূহের মধ্যে নয়। আর নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইজমার প্রতি ধাবিত হওয়া এর অর্থাৎ তাকলীদের মধ্যে নয়। কারণ, এর প্রত্যেকটি শরীয়তের চারটি দলীলের অন্যতম শরঈ দলীল। এমনিভাবে সাধারণের মুফতীর কথানুসারে আমল করা ও কাযীর ন্যায়-পরায়ণের (সাক্ষীর) কথার দ্বারা আমল করা এর (তাকলীদের) মধ্যে নয়। কেননা দুটিই যদি শরীয়তের দলীল না হত তবে তার দ্বারা শরঈ দলীল ব্যতীত আমল করা হত না। সাধারণের মুফতীর কথাকে এবং কাযীর সাক্ষীর সাক্ষ্যকে গ্রহণ করাকে ‘নস’ (দলীল) ওয়াজিব করেছে।[১৭]

জ্ঞাতব্য : এ বক্তব্যের সারমর্মও ওটাই, যা পূর্বের উদ্ধৃতিতে আছে। অর্থাৎ নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর দিকে প্রত্যাবর্তন করা তাকলীদ নয়।

(৪) কাযী মুহাম্মাদ আলা থানবী হানাফী (মৃ. ১১৯১ হি.) লিখেছেন,

التقليد… الثاني العمل بقول الغير من غير حجة واريد بالقول ما يعم الفعل والتقرير تغليبا ولذا قيل في بعض شروح الحسامي التقليد اتباع الانسان غيره فيما يقول أو يفعل معتقدا للحقية من غير نظر إلي الدليل كأن هذا المتبع جعل قول الغير أو فعله قلادة في عنقه من غير مطالبة دليل كأخذ العامى والمجتهد بقول مثله أي كأخذ العامى بقول العامي واخذ المجتهد بقول المجتهد وعلي هذا فلا يكون الرجوع إلي الرسول عليه الصلاة والسلام تقليدا له وكذا إلي الإجماع وكذا رجوع العامى إلي المفتي أي الي المجتهد وكذا رجوع القاضي إلي العدول في شهادتهم لقيام الحجة فيها فقول الرسول بالمعجزة والإجماع بما تقرر من حجته وقول الشاهد والمفتي بالاجماع…

‘তাকলীদ… দ্বিতীয়ত : অন্যের কওলের (কথা ও কাজ) উপর দলীল ব্যতিরেকে আমল করা। আর কওল দ্বারা উদ্দেশ্য হল যা সচরাচর কাজ ও বিবরণকে শামিল করে। এ কারণেই হুস্সামীর কতিপয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, তাকলীদ হল মানুষষের আনুগত্য করা, যা সে বলে কিংবা সম্পাদন করে সত্য হিসাবে বিশ্বাসী হয়ে, দলীলের প্রতি ভ্রƒক্ষেপ না করেই। যেন এই অনুসরণকারী অন্যের (গায়ের নবীর) কথা ও কাজকে তার গলায় হার বানিয়ে নিয়েছে দলীলের আবেদন ছাড়াই। যেমন সাধারণ মানুষের ও মুজতাহিদের তার মত আরেকজনকে গ্রহণ করা। অর্থাৎ এক সাধারণ লোকের আরেকজন সাধারণ লোকের কওলকে এবং এক মুজতাহিদের আরেকজন মুজতাহিদের কওলকে গ্রহণ করা। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর প্রতি প্রত্যাবর্তন করা তার তাকলীদ করা নয়। আর ইজমার বিষয়টিও অনুরূপ। এমনিভাবে দলীল প্রতিষ্ঠার জন্য ন্যায়-পরায়ণদের প্রতি কাযীর তাদের সাক্ষ্যর ক্ষেত্রে প্রত্যাবর্তন করা। আর রাসূলের মুজিযা বিষয়ক বক্তব্য, ইজমা -যা হুজ্জতের মধ্যে গণ্য- সাক্ষীর সাক্ষ্য ও মুফতীর কথা গ্রহণ করা (তাকলীদ নয়) ইজমানুপাতে’।[১৮]

জ্ঞাতব্য : এ বক্তব্যেরও সারমর্ম এটাই যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা তাকলীদ নয়। অনুরূপভাবে সাধারণ মানুষের মুজতাহিদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং বিচারকের সাক্ষীদের সাক্ষীর ভিত্তিতে বিচার-ফায়সালা করা তাকলীদ নয়।

(৫) আলী বিন মুহাম্মাদ বিন আলী আল-জুরজানী হানাফী (মৃ. ৮১৬ হি.) বলেছেন,

(التقليد) عبارة عن قبول قول الغير بلا حجة ولا دليل

‘তাকলীদ হল (নবী ব্যতীত) অন্য কারো কথাকে দলীল ও প্রমাণ ছাড়া গ্রহণ করা’।[১৯]

(৬) মুহাম্মাদ বিন আব্দুর রহমান ঈদ আল-মাহলাবী হানাফী বলেছেন,

التَّقْلِيدُ… وَفِي الِاصْطِلَاحِ : هُوَ الْعَمَلُ بِقَوْلِ الْغَيْرِ مِنْ غَيْرِ حُجَّةٍ مِنَ الْحُجَجِ الْأَرْبَعِ فَيَخْرُجُ الْعَمَلُ بِقَوْلِ الرَّسُولِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ وَالْعَمَلُ بِالْإِجْمَاعِ لِأَنَّ كُلًّا مِنْهُمَا حُجَّةٌ وَخَرَجَ أَيْضًا رُجُوعُ الْقَاضِي إِلَى شَهَادَةِ الْعُدُولِ لِأَنَّ الدَّلِيلَ عَلَيْهِ مَا فِي الْكِتَابِ وَالسُّنَّةِ، مِنَ الْأَمْرِ بِالشَّهَادَةِ، وَالْعَمَلِ بِهَا، وَقَدْ وَقَعَ الْإِجْمَاعُ عَلَى ذَلِكَ-

পরিভাষায় তাকলীদ হল, অন্যের কথার উপর আমল করা দলীল ছাড়া যা চারটি দলীলের অন্তর্ভুক্ত নয়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কওল ও ইজমা দ্বারা আমল করা এ (এই সঙ্গা) হতে বের হয়ে যায়। কেননা উভয়ের প্রত্যেকটি হল দলীল। আর কাযীর ন্যায়-পরায়ণ সাক্ষীদের সাক্ষ্যর প্রতি প্রত্যাবর্তন করাও (তাকলীদের এই সঙ্গা হতে) বেরিয়ে গেল। কারণ সাক্ষ্য গ্রহণ করা এবং তার উপর আমল করার দলীল কুরআন ও সুন্নাতে রয়েছে। আর এর উপর ইজমা সংঘটিত হয়েছে’।[২০]

জ্ঞাতব্য : এই ভাষ্যেরও এটাই মর্ম যে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং বিচারকের সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ফায়ছালা করা তাকলীদ নয়।

(৭) মুহাম্মাদ ওবায়দুল্লাহ আল-আসআদী বলেছেন,

তাকলীদ (ক) সংজ্ঞা :

(১) আভিধানিক অর্থ : গলায় কোন বস্তু পরা। (২) পারিভাষিক অর্থ : বিনা দলীলে কারো কথাকে মেনে নেয়া।
তাকলীদের প্রকৃত স্বরূপ এটাই। কিন্তু ফকীহদের নিকটে এর মর্ম হল ‘কোন মুজতাহিদের সকল বা অধিকাংশ মূলনীতি ও কায়েদাসমূহ অথবা সম্পূর্ণ বা অধিকাংশ আনুষঙ্গিক বিষয়ের প্রতি নিজেকে অনুগত করে নেয়া’।[২১]

(৮) কারী চান মুহাম্মাদ দেওবন্দী লিখেছেন, ‘আর দলীল ছাড়া কোন কথাকে মেনে নেয়াই হল তাকলীদ। অর্থাৎ বিনা দলীলে কোন কথার অনুসরণ করা ও মেনে নেয়া এটাই হল তাকলীদ’।[২২]

(৯) মুফতী সাঈদ আহমাদ পালনপুরী দেওবন্দী লিখেছেন, ‘কেননা কারো কথার দলীল জানা ব্যতীত তা গ্রহণ করার নাম তাকলীদ। আলেমগণ বলেছেন যে, এই সংজ্ঞার আলোকে ইমামের কথাকে দলীল জেনে গ্রহণ করা তাকলীদ থেকে বের হয়ে গেছে। কেননা তা তাকলীদ নয়; বরং দলীল দ্বারা মাসলা গ্রহণ করা, মুজতাহিদের নিকট থেকে মাসলা গ্রহণ করা নয়’।[২৩]

(১০) আশরাফ আলী থানবী দেওবন্দীর ‘মালফূযাত’ গ্রন্থে লিখিত আছে, ‘এক ভদ্রলোক জানতে চান যে, তাকলীদের স্বরূপ কি? তাকলীদ কাকে বলে? তিনি বললেন, দলীল ছাড়া উম্মতের কারো কথা মানাকে তাকলীদ বলে। তিনি আরয করলেন যে, আল্লাহ ও রাসূলের কথা মানাকেও কি তাকলীদ বলা হবে? (থানবী) বললেন, আল্লাহ ও রাসূলের হুকুম মানাকে তাকলীদ বলা হবে না। একে ইত্তিবা বলা হয়’।[২৪]

(১১) সরফরায খান সফদর দেওবন্দী গাখড়–বী লিখেছেন, ‘এই বাক্য দ্বারা স্পষ্ট হল যে, পারিভাষিকভাবে তাকলীদের মর্ম এই যে, যার কথা হুজ্জত (দলীল) নয় তার কথার উপর আমল করা। যেমন- সাধারণ মানুষের জাহেলের কথা এবং মুজতাহিদের অন্য মুজতাহিদের কথা গ্রহণ করা, যা হুজ্জাত (প্রমাণ) নয়। এর বিপরীত হল, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর নির্দেশের দিকে প্রত্যাবর্তন করা তাকলীদ নয়। কেননা তাঁর নির্দেশ তো দলীল। আর এভাবে ইজমাও দলীল এবং একইভাবে সাধারণ মানুষের মুফতীর দিকে প্রত্যাবর্তন করা

فَاسْأَلُوْا أَهْلَ الذِّكْرِ

‘তোমরা জ্ঞানীদেরকে জিজ্ঞেস কর’ (নাহল ১৬/৪৩) আয়াতটির আলোকে ওয়াজিব। আর এভাবেই বিচারকের

مِمَّنْ تَرْضَوْنَ مِنَ الشُّهَدَاءِ

‘তাদের মধ্য হতে যাদের সাক্ষ্যে তোমরা সন্তুষ্ট থাক’ (বাকারাহ ২/২৮২) ও

يَحْكُمُ بِهِ ذَوا عَدْلٍ مِنْكُمْ

‘আর সমান নির্ধারণের বিষয়টি ফায়সালা করবে তোমাদের মধ্যকার দুজন ন্যায়নিষ্ঠ ব্যক্তি’ (মায়েদাহ ৫/৯৫) দলীলগুলোর আলোকে ন্যায়পরায়ণ সাক্ষীদের দিকে রুজূ করাও তাকলীদ নয়। কেননা শরঈ দৃষ্টিকোণ থেকে তার কথা দলীল’।[২৫]

(১২) মুফতী আহমাদ ইয়ার নাঈমী ব্রেলভী লিখেছেন, ‘মুসাল্লামুস সুবূত গ্রন্থে আছে

الْعَمَلُ بِقَوْلِ الْغَيْرِ مِنْ غَيْرِ حُجَّةٍ التَّقْلِيدُ

অনুবাদ সেটাই যা উপরে বর্ণিত হয়েছে। এই সংজ্ঞা দ্বারা প্রতীয়মান হল যে, হুযূর আলাইহিস সালাম-এর অনুসরণ করাকে তাকলীদ বলা যাবে না। কেননা তাঁর প্রতিটি কথা ও কাজ শারঈ দলীল। তাকলীদের মধ্যে শারঈ দলীলকে না দেখার প্রবণতা থাকে। সুতরাং আমাদেরকে হুযূর আলাইহিস সালাম-এর উম্মত বলা হবে, মুকাল্লিদ নয়। একইভাবে সাহাবায়ে কেরাম এবং আইম্মায়ে দীন হুযূর আলাইহিস সালাম-এর উম্মত, মুকাল্লিদ নন। এভাবে আলেমের আনুগত্য যা সাধারণ মুসলমান করে থাকে, তাকেও তাকলীদ বলা যাবে না। কেননা কেউই ঐ আলেমদের কথা বা তাদের কাজকে নিজের জন্য হুজ্জাত বানায় না। বরং এটা মনে করে তাদের কথা মানে যে, আলেম মানুষ। বই দেখে বলে থাকবেন হয়ত’।[২৬]

(১৩) গোলাম রাসূল সাঈদী ব্রেলভী লিখেছেন, ‘তাকলীদের অর্থ হল দলীলসমূহ থেকে দৃষ্টি ফিরিয়ে কোন ইমামের কথার উপর আমল করা। আর ইত্তিবা দ্বারা এটা উদ্দেশ্য যে, কোন ইমামের কথাকে কিতাব ও সুন্নাতের অনুকূলে পেয়ে এবং শারঈ দলীলসমূহ দ্বারা প্রমাণিত জেনে সেই কথাকে অগ্রাধিকার দেয়া’।[২৭]

সাঈদী সাহেব আরো লিখেছেন, ‘শায়খ আবূ ইসহাক বলেছেন, দলীল ছাড়া কথা গ্রহণ করা এবং তার উপর আমল করা তাকলীদ…। কিন্তু রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথার দিকে প্রত্যাবর্তন করা বা মুজতাহিদগণের ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা বা সাধারণ মানুষের মুফতীর দিকে প্রত্যাবর্তন করা বা বিচারকের সাক্ষীদের বক্তব্যের আলোকে ফায়ছালা করা তাকলীদ নয়’।[২৮]

সাঈদী সাহেব আরো লিখেছেন, ‘ইমাম গাযালী লিখেছেন যে,

التَّقْلِيدُ هُوَ قَبُوْلُ قَوْلٍ بِلَا حُجَّةٍ

‘তাকলীদ হল বিনা দলীলে কারো কথাকে গ্রহণ করা’।[২৯]

সাঈদী সাহেব লিখছেন, ‘তাকলীদের যতগুলি সংজ্ঞা উলে­খ করা হয়েছে সেগুলির মধ্যে এই কথা শামিল আছে যে, দলীল জানা ব্যতিরেকে কারো কথার উপর আমল করা তাকলীদ’।[৩০]
সরফরায খান সফদর দেওবন্দী লিখেছেন, ‘আর এটি সর্বসম্মত কথা যে, ইক্তিদা ও ইত্তিবা এক জিনিস আর তাকলীদ অন্য জিনিস’।[৩১]
জ্ঞাতব্য : এই সর্বসম্মত কথার বিপরীতে সরফরায খান সফদর সাহেব নিজেই লিখেছেন যে, ‘তাকলীদ ও ইত্তিবা একই জিনিস’।[৩২]
এতে বুঝা গেল যে, বৈপরীত্য ও বিরোধিতার উপত্যকায় সরফরায খান সাহেব নিমজ্জিত আছেন।
সারকথা : হানাফী, দেওবন্দী ও ব্রেলভীদের উক্ত সংজ্ঞাগুলি ও ব্যাখ্যাসমূহ হতে প্রমাণিত হল-
(১) চোখ বন্ধ করে, চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই, দলীল ও প্রমাণ ব্যতিরেকে নবী ব্যতীত অন্য কারো কথা মানার নাম তাকলীদ।
(২) কুরআন, হাদীস ও ইজমার উপর আমল করা তাকলীদ নয়। আলেমের নিকট থেকে মূর্খের মাসলা জিজ্ঞাসা করা এবং বিচারকের সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে ফায়সালা করা তাকলীদ নয়।

(৩) তাকলীদ ও দলীল অনুসরণের (اتباع بالدليل) মাঝে পার্থক্য রয়েছে।

খতীব বাগদাদী রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৪৬৩ হি.) বলেছেন,

وَجُمْلَتُهُ أَنَّ التَّقْلِيدَ هُوَ: قَبُولُ الْقَوْلِ مِنْ غَيْرِ دَلِيلٍ

‘মোটকথা তাকলীদ হল দলীল ছাড়া কারো কোন কথা মেনে নেওয়া’।[৩৩]

হাফেয ইবনু আব্দিল বার্র রহিমাহুল্লাহ (মৃ. ৪৬৩ হি.) লিখেছেন,

وَقَالَ أَبُو عَبْدِ اللهِ بْنُ خُوَيْزٍ مِنْدَادٌ الْبَصْرِيُّ الْمَالِكِيُّ: التَّقْلِيْدُ مَعْنَاهُ فِي الشَّرْعِ الرُّجُوْعُ إِلَى قَوْلٍ لَا حُجَّةَ لِقَائِلِهِ عَلَيْهِ، وَهَذَا مَمْنُوْعٌ مِنْهُ فِي الشَّرِيْعَةِ، وَالِاتِّبَاعُ مَا ثَبَتَ عَلَيْهِ حُجَّةٌ

‘আবূ আব্দুল্লাহ বিন খুয়াইয মিনদাদ আল-বাসরী আল-মালেকী বলেছেন, শরীয়তে তাকলীদের অর্থ হল এমন কথার দিকে প্রত্যাবর্তন করা, যে কথার কথকের কাছে এর কোন দলীল নেই। এটি শরীয়তে নিষিদ্ধ। আর ইত্তিবা হল যার উপর দলীল সাব্যস্ত হয়েছে’।[৩৪]

জ্ঞাতব্য : সরফরায খান সফদর দেওবন্দী ‘আদ-দীবাজুল মুযাহ্হাব’ গ্রন্থ থেকে ইবনু খুয়াইয মিনদাদ (মুহাম্মাদ বিন আহমাদ বিন আব্দুল্লাহ, মৃ. সম্ভবত ৩৯০ হি.) সম্পর্কে দোষ-ত্রæটি বর্ণনা করেছেন।[৩৫]

নিবেদন হল যে, ইবনু খুয়াইয মিনদাদ এই কথায় একক ব্যক্তি নন। বরং হাফেয ইবনু আব্দিল বার্র, হাফেয ইবনুল কাইয়িম এবং আল্লামা সুয়ূতী তার অনুকূলে রয়েছেন। তাঁরা তার উক্তিকে সমালোচনা ছাড়াই বর্ণনা করেছেন। এমনকি সরফরায খান সফদর তার একটি বক্তব্যে ইবনু খুয়াইয মিনদাদের অনুকূলে আছেন।[৩৬]

দ্বিতীয় এই যে, উপরোল্লিখিত ইবনু খুয়াইয মিনদাদের উপর কড়া সমালোচনা নেই। বরং

ولم يكن بالجيد النظر ولا قوي الفقه

প্রভৃতি শব্দাবলী আছে।[৩৭]

আবূল ওয়ালীদ আল-বাজী ও ইবনু আব্দিল বার্র-এর সমালোচনাও সুস্পষ্ট নয়।[৩৮]

ইবনু খুয়াইয মিনদাদের জীবনী নিম্নোক্ত গ্রন্থসমূহেও আছে, শীরাযীর ‘তাবাকাতুল ফুকাহা’ (পৃ. ১৬৮), কাযী ইয়াযের ‘তারতীবুল মাদারিক’ (৪/৬০৬), ‘মুজামুল মুওয়াল্লিফীন’ (৩/৭৫)।
হানাফী, ব্রেলভী ও দেওবন্দী আলেমগণ এমন ব্যক্তিদের বক্তব্য পেশ করে থাকেন, যাদের ন্যায়পরায়ণতা ও ব্যক্তিত্বের ব্যাপারে অনেক মুহাদ্দিসের কঠোর সমালোচনা রয়েছে। যেমন- (১) কাযী আবূ ইউসুফ। (২) মুহাম্মাদ ইবনুল হাসান আশ-শায়বানী। (৩) হাসান বিন যিয়াদ আল-লুলুঈ। (৪) আব্দুল্লাহ বিন মুহাম্মাদ বিন ইয়াকূব আল-হারিসী প্রমুখ দেখুন : মীযানুল ইতিদাল; লিসানুল মীযান প্রভৃতি।

জালালুদ্দীন মুহাম্মাদ বিন আহমাদ আল-মাহল্লী আশ-শাফেঈ (মৃ. ৮৬৪ হি.) বলেছেন,

والتقليد قبُول قَول الْقَائِل بِلَا حجَّة فعلى هَذَا قبُول قَول النَّبِي صلى الله عَلَيْهِ وَسلم لا يُسمى تقليْدا

‘তাকলীদ হল প্রমাণ ছাড়া কারো কোন কথা গ্রহণ করা। তবে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা গ্রহণ করাকে তাকলীদ বলা হয় না’।[৩৯]

ইবনুল হাজেব আন-নাহবী আল-মালেকী (মৃ. ৬৪৬ হি.) বলেছেন,

 فَالتَّقْلِيدُ الْعَمَلُ بِقَوْلِ غَيْرِكَ مِنْ غَيْرِ حُجَّةٍ. وَلَيْسَ الرُّجُوعُ إِلَى الرَّسُولِ وَإِلَى الْإِجْمَاعِ، وَالْعَامِّيُّ إِلَى الْمُفْتِي، وَالْقَاضِي إِلَى الْعُدُولِ بِتَقْلِيدٍ لِقِيَامِ الْحُجَّةِ. وَلَا مُشَاحَةَ فِي التَّسْمِيَةِ

‘সুতরাং তাকলীদ হল, দলীল ছাড়া অন্যের কথার উপর আমল করা। আর নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা, সাধারণ মানুষের মুফতীর দিকে এবং বিচারকের সাক্ষীদের দিকে প্রত্যাবর্তন করা তাকলীদ নয় দলীল সাব্যস্ত থাকার কারণে। আর (এই) নামের ব্যাপারে কোনই বিবাদ নেই’।[৪০]

আলী বিন মুহাম্মাদ আল-আমেদী আশ-শাফেঈ (মৃ. ৬৩১ হি.) বলেছেন,

أَمَّا (التَّقْلِيدُ) فَعِبَارَةٌ عَنِ الْعَمَلِ بِقَوْلِ الْغَيْرِ مِنْ غَيْرِ حُجَّةٍ مُلْزِمَةٍ… فَالرُّجُوعُ إِلَى قَوْلِ النَّبِيِّ عَلَيْهِ السَّلَامُ وَإِلَى مَا أَجْمَعَ عَلَيْهِ أَهْلُ الْعَصْرِ مِنَ الْمُجْتَهِدِينَ، وَرُجُوعُ الْعَامِّيِّ إِلَى قَوْلِ الْمُفْتِي، وَكَذَلِكَ عَمَلُ الْقَاضِي بِقَوْلِ الْعُدُولِ لَا يَكُونُ تَقْلِيدًا

‘তাকলীদ হল, অন্যের কথার উপর আবশ্যকীয় দলীল ব্যতিরেকে আমল করা…। সুতরাং নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা এবং সমকালীন মুজতাহিদগণের ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা, সাধারণ মানুষের মুফতীর কথার দিকে প্রত্যাবর্তন করা এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচারকের ফায়সালা করা তাকলীদ নয়’।[৪১]

আবূ হামিদ মুহাম্মাদ বিন মুহাম্মাদ আল-গাযালী (মৃ. ৫০৫ হি.) বলেছেন,

التَّقْلِيدُ هُوَ قَبُوْلُ قَوْلٍ بِلَا حُجَّةٍ

‘বিনা দলীলে কারো কোন কথা গ্রহণ করাই হল তাকলীদ’।[৪২]

হাফেয ইবনুল কাইয়িম বলেছেন,

وَأَمَّا بِدُوْنِ الدَّلِيلِ فَإِنَّمَا هُوَ تَقْلِيدٌ

‘আর যা দলীল ব্যতীত হবে তাই তাকলীদ’।[৪৩]

আব্দুল্লাহ বিন আহমাদ বিন কুদামা হাম্বলী বলেছেন,

وهو في عرف الفقهاء قبول قول الغير من غير حجة، أخذًا من هذا المعنى فلا يسمى الأخذ بقول النبي صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّم والإجماع تقليدًا

‘আর ফকীহদের নিকটে এটা (তাকলীদ) হল বিনা দলীলে কারো কথা গ্রহণ করা। এই অর্থের দৃষ্টিকোণ থেকে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কথা এবং ইজমাকে গ্রহণ করাকে তাকলীদ বলা হয় না’।[৪৪]

ইবনু হাযম আন্দালুসী যাহেরী (মৃ. ৪৫৬ হি.) বলেছেন,

لأن التقليد على الحقيقة إنما هو قبول ما قاله قائل دون النبي صلى الله عليه وسلم بغير برهان، فهذا هو الذي أجمعت الأمة على تسميته تقليدا وقام البرهان على بطلانه

‘কেননা প্রকৃতপক্ষে তাকলীদ হল নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছাড়া অন্য কারো কথাকে দলীল ছাড়াই গ্রহণ করা। আর এটির নাম তাকলীদ হওয়ার ব্যাপারে মুসলিম উম্মাহ্র ইজমা রয়েছে। আর এটি বাতিল হওয়ার ব্যাপারে দলীল কায়েম আছে’।[৪৫]

হাফেয ইবনু হাজার আসকালানী (মৃ. ৮৫২ হি.) বলেছেন,

وَقَدِ انْفَصَلَ بَعْضُ الْأَئِمَّةِ عَنْ ذَلِكَ بِأَنَّ الْمُرَادَ بِالتَّقْلِيدِ أَخْذُ قَوْلِ الْغَيْرِ بِغَيْرِ حُجَّةٍ وَمَنْ قَامَتْ عَلَيْهِ حُجَّةٌ بِثُبُوتِ النُّبُوَّةِ حَتَّى حَصَلَ لَهُ الْقَطْعُ بِهَا فَمَهْمَا سَمِعَهُ مِنَ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ كَانَ مَقْطُوعًا عِنْدَهُ بِصِدْقِهِ فَإِذَا اعْتَقَدَهُ لَمْ يَكُنْ مُقَلِّدًا لِأَنَّهُ لَمْ يَأْخُذْ بِقَوْلِ غَيْرِهِ بِغَيْرِ حُجَّةٍ وَهَذَا مُسْتَنَدُ السَّلَفِ قَاطِبَةً فِي الْأَخْذِ بِمَا ثَبَتَ عِنْدَهُمْ مِنْ آيَاتِ الْقُرْآنِ وَأَحَادِيثِ النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فِيمَا يَتَعَلَّقُ بِهَذَا الْبَابِ فَآمَنُوا بِالْمُحْكَمِ مِنْ ذَلِكَ وَفَوَّضُوا أَمْرَ الْمُتَشَابِهِ مِنْهُ إِلَى رَبِّهِمْ-

‘কতিপয় ইমাম এ থেকে (এই মাসলাকে) আলাদা করেছেন। কেননা তাকলীদ দ্বারা উদ্দেশ্য হল, দলীল ছাড়া অন্যের কথা গ্রহণ করা। আর তার উপর নবুয়তের প্রমাণের সাথে সাথে দলীল কায়েম হয়ে যায়। এমনকি তার দৃঢ় বিশ্বাস এসে যায়। সুতরাং সে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে যা শ্রবণ করেছে তার কাছে তা নিশ্চিতরূপে সত্য। যখন সে এ আকীদা পোষণ করবে তখন সে মুকাল্লিদ নয়। কেননা সে অন্যের কথাকে দলীল ছাড়া গ্রহণ করেনি। আর এটাই সকল সালাফে সালেহীনের পুরাপুরি নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি যে, এ বিষয়ে কুরআন ও হাদীস থেকে যা তাদের নিকটে প্রতীয়মান হয়েছে তা গ্রহণ করা। ফলে তারা ‘মুহকামাত’ (কুরআনের সুস্পষ্ট হুকুম-আহকাম সংক্রান্ত আয়াত সমূহ)-এর উপর ঈমান এনেছেন এবং ‘মুতাশাবিহাত’ (যার মর্মার্থ অস্পষ্ট)-এর বিষয়টি তাদের প্রতিপালকের নিকট সোপর্দ করে দিয়েছেন (যে তিনিই এর অর্থ ভাল জানেন)।[৪৬]

হাফেয ইবনুল কাইয়িম রহিমাহুল্লাহ লিখেছেন,

وَالتَّقْلِيدُ لَيْسَ بِعِلْمٍ بِاتِّفَاقِ أَهْلِ الْعِلْمِ

‘আলেমদের ঐক্যমত অনুযায়ী তাকলীদ কোন ইলম নয়’।[৪৭]

সারকথা : হানাফী, দেওবন্দী, ব্রেলভী, শাফেঈ, মালেকী, হাম্বলী, যাহেরী এবং হাদীসের ভাষ্যকারগণের উক্ত সংজ্ঞাগুলি থেকে প্রতীয়মান হল, তাকলীদের মর্ম এটাই যে, দলীল ও প্রমাণ বিহীন বক্তব্যকে (চিন্তা-ভাবনা ছাড়াই, অন্ধের মত) মেনে নেয়া।

(মুকাল্লিদদের) একটি চালাকি

আধুনিক যুগে দেওবন্দী ও ব্রেলভী আলেমগণ এই চালাকি করেন যে, তারা তাকলীদের অর্থই পরিবর্তন করে দেন। যাতে সাধারণ মানুষ তাকলীদের প্রকৃত অর্থ জেনে না যায়। কতিপয় উদাহরণ নিম্নরূপ-
(১) মুহাম্মাদ ইসমাঈল সাম্ভলী বলেছেন, ‘কোন ব্যক্তির কোন আলেমের এবং দীনের অনুসৃত ব্যক্তির কথা ও কাজকে স্রেফ সুধারণা ও নির্ভরতার ভিত্তিতে শরীয়তের হুকুম মনে করে তার উপর আমল করা এবং আমল করার জন্য সেই মুজতাহিদের উপর নির্ভরতার ভিত্তিতে দলীলের অপেক্ষা না করা এবং দলীল অবগত হওয়া পর্যন্ত আমলকে মুলতবী না করাকে পরিভাষায় তাকলীদ বলা হয়’।[৪৮]

(২) মুহাম্মাদ যাকারিয়া কান্ধলভী তাবলীগী দেওবন্দী বলেছেন, ‘কেননা তাকলীদের সংজ্ঞা এভাবে করা হয়েছে যে, শাখা-প্রশাখাগত ফিকহী মাসায়েলে মুজতাহিদ নন এমন ব্যক্তির মুজতাহিদের কথাকে গ্রহণ করে নেয়া এবং তার কাছ থেকে দলীল তলব না করা এই ভরসায় যে, এই মুজতাহিদের কাছে দলীল রয়েছে’।[৪৯]

(৩) মুহাম্মাদ তাকী ওসমানী দেওবন্দী বলেছেন, ‘বস্তুতঃ আল্লামা ইবনুল হুমাম ও ইবনু নুজায়েম এই শব্দগুলোর মাধ্যমে ‘তাকলীদ’-এর সংজ্ঞা প্রদান করেছেন,

التَّقْلِيدُ الْعَمَلُ بِقَوْلِ مَنْ لَيْسَ قَوْلُهُ إحْدَى الْحُجَج بِلَا حُجَّةٍ مِنْهَاء

‘ঐ ব্যক্তির কথার উপর দলীলবিহীন আমল করাকে তাকলীদ বলে, যার কথা (চারটি) দলীলের মধ্য হতে একটি নয়’।[৫০]

‘তাকলীদের উদ্দেশ্য এটা যে, যে ব্যক্তির কথা শরীয়তের উৎসমূহের অন্তর্ভুক্ত নয়, দলীল তলব করা ছাড়াই তার কথার উপর আমল করা’।[৫১]

এই অনুবাদ ও উদ্ধৃতিগুলিতে দুটি চালাকি করা হয়েছে।
প্রথমত : হুজ্জত ছাড়াই (দলীল ব্যতীত)-এর অনুবাদ ‘দলীল তলব ব্যতিরেকে’ করে দেওয়া হয়েছে। মূল ভাষ্যে তলবের কোন কথাই উল্লেখ নেই।
দ্বিতীয়ত : অবশিষ্ট ইবারত (ভাষ্য) গোপন করা হয়েছে। যেখানে এটা স্পষ্টভাবে আছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং ইজমার দিকে প্রত্যাবর্তন করা, সাধারণ মানুষের ‘মুফতী’র (আলেম) কাছে মাসলা জিজ্ঞাসা করা এবং সাক্ষীদের সাক্ষ্যের ভিত্তিতে বিচারকের ফায়সালা করা তাকলীদ নয়।
(৪) মাস্টার আমীন উকাড়বী দেওবন্দী বলেছেন, ‘হাকীমুল উম্মত হযরত মাওলানা আশরাফ আলী থানবী রহিমাহুল্লাহ তাকলীদের সংজ্ঞা প্রদান করতে গিয়ে লিখেছেন, ‘তাকলীদ বলা হয় কারো কথাকে স্রেফ এই সুধারণার ভিত্তিতে মেনে নেওয়া যে, ইনি দলীলের অনুকূলে বলবেন এবং তার থেকে দলীলের তাহকীক না করা’।[৫২] তাকলীদের এই সংজ্ঞা মোতাবেক রাবীর বর্ণনাকে গ্রহণ করা তাকলীদ ফির-রিওয়ায়াহ (বর্ণনায় তাকলীদ)’।[৫৩]

(৫) মুহাম্মাদ নাযিম আলী খান কাদেরী ব্রেলভী বলেছেন, ‘কুরআনের আয়াত মুজমাল (সংক্ষিপ্ত) এবং মুশকিল (দুর্বোধ্য) হয়। এর মধ্যে কিছু আয়াত বিবাদমূলক রয়েছে। কিছু আয়াত কিছু আয়াতের সাথে সাংঘর্ষিকও আছে। সমন্বয়ের ও বিরোধ দূর করার পদ্ধতি তার জানা নেই। তার দোদুল্যমনতা ও সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে। এমতাবস্থায় মানুষ কেবল নিজের বিবেক, চিন্তা-গবেষণা ও শুধুমাত্র মস্তিষ্কের দ্বারাই কাজ নিবে না। বরং কোন গভীর জ্ঞানের অধিকারী আলেম ও মুজতাহিদের অনুসরণ ও অনুকরণ করবে। তার নিকটে রাস্তা ও পন্থা অনুসন্ধান করবে। অন্য কারো দিকে প্রত্যাবর্তন করবে না। এটাই হল তাকলীদে শাখসী। যা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ও সাহাবায়ে কেরামের যুগ হতে রয়েছে’।[৫৪]

(৬) সাঈদ আহমাদ পালনপুরী দেওবন্দী লিখেছেন, ‘আলেমদের নিকট থেকে মাসলা জিজ্ঞেস করা, অতঃপর তার অনুসরণ করাই তাকলীদ’।[৫৫]

তাকলীদের এই মনগড়া ও সূত্রবিহীন সংজ্ঞা দ্বারা জানা গেল যে, দেওবন্দী ও ব্রেলভী সাধারণ জনতা যখন তাদের আলেমের (মৌলভী সাহেব) নিকট থেকে মাসলা জিজ্ঞাসা করে তার উপর আমল করে, তখন তারা ঐ আলেমের মুকাল্লিদ বনে যায়। সাঈদ আহমাদের কাছ থেকে মাসলা জিজ্ঞাসাকারী হানাফী থাকে না। বরং সাঈদ আহমাদী (অর্থাৎ সাঈদ আহমাদ সাহেবের মুকাল্লিদ) বনে যায়।
এ সকল সংজ্ঞা মনগড়া। যেগুলির প্রমাণ পূর্ববর্তী আলেমদের কাছ থেকে পাওয়া যায় না। এ সংজ্ঞাগুলিকে বিকৃতি (تَحْرِيْفَاتٌ) বলাই সঙ্গত।
তাকলীদের মর্ম স্রেফ এটাই যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত অন্য কারো দলীলবিহীন কথাকে হুজ্জত (দলীল) হিসাবে মেনে নেয়া, যা চারটি দলীলের অন্তর্ভুক্ত নয়। এই সংজ্ঞার উপর জমহূর বিদ্বানের ঐক্যমত রয়েছে।

জ্ঞাতব্য : অভিধানে তাকলীদের অন্যান্য অর্থও আছে। কতিপয় আলেম এই আভিধানিক অর্থগুলিকে কোন কোন সময় ব্যবহার করেছেন। যেমন-
১. আবূ জাফর তাহাবী হাদীস মানাকে তাকলীদ বলেছেন। যেমন তিনি বলেছেন,

فَذَهَبَ قَوْمٌ إِلَى هَذَا الْحَدِيْثِ فَقَلَّدُوْهُ

‘একটি দল এই (মারফ‚) হাদীসের দিকে গিয়েছেন। ফলে তারা এই (হাদীসের) তাকলীদ করেছেন’।[৫৬]

পূর্বে হানাফী, মালেকী, শাফেঈ ও হাম্বলীদের গ্রন্থসমূহ হতে বিস্তারিতভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর কথা (অর্থাৎ হাদীস) মানা তাকলীদ নয়। সুতরাং ইমাম ত্বাহাবীর হাদীসের ব্যাপারে তাকলীদ শব্দটি ব্যবহার করা ভুল। ইমাম আবূ হানীফা রহিমাহুল্লাহ-এর ব্যাপারে এটি প্রমাণিত সত্য যে, তিনি হাদীস মানতেন। তাহলে কি এখন এ কথা বলা ঠিক হবে যে, ইমাম আবূ হানীফা মুজতাহিদ নন; বরং মুকাল্লিদ ছিলেন? হাদীস মেনে তিনি যদি মুকাল্লিদ না হন, তাহলে অন্য মানুষ হাদীস মেনে কিভাবে মুকাল্লিদ হতে পারে?

২. ইমাম শাফেঈ রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,

ولا يقلد أحد دون رسول الله صلى الله عليه وسلم

‘রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত কারো তাকলীদ করা যাবে না’।[৫৭]

এখানে তাকলীদ শব্দটি রূপকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ইমাম শাফেঈর কথার উদ্দেশ্য এটা যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যতীত কোন ব্যক্তির কথাকে দলীল ছাড়াই গ্রহণ করা উচিত নয়।
তাকলীদের অন্তর্নিহিত মর্মের সারাংশ : যেমনটা পূর্বে বর্ণনা করে দেয়া হয়েছে যে, নবী ব্যতীত অন্যের দলীলবিহীন কথাকে চোখ বন্ধ করে, চিন্তা-ভাবনা ছাড়া মানাকে তাকলীদ বলা হয়।

 

পাদটীকা

[১৪]মুসাল্লামুছ ছুবূত (ছাপা : ১৩১৬ হিঃ), পৃ. ২৮৯; ফাওয়াতিহূর রাহমূত ২/৪০০।

[১৫]ফাওয়াতিহূর রাহমূত বি-শারহি মুসাল্লামিস সুবূত ফী উসূলিল ফিকহ ২/৪০০।

[১৬]ইবনু হুমাম, তাহরীর ফী ইলমিল উছূল ৩/৪৫৩।

[১৭]আত-তাক্বরীর ওয়াত-তাহবীর ফী ইলমিল উছূল ৩/৪৫৩, ৪৫৪।

[১৮]কাশ্শাফু ইছতিলাহাতিল ফুনূন ২/১১৭৮।

[১৯]কিতাবুত তারীফাত পৃ. ২৯।

[২০]তাসহীলুল উছূল ইলা ইলমিল উছূল, পৃ. ৩২৫।

[২১]উছূলুল ফিক্বহ, পৃ. ২৬৭। এই গ্রন্থ সম্পর্কে মুহাম্মাদ তাক্বী ওছমানী দেওবন্দী ছাহেব অভিমত লিখেছেন।

[২২]গায়ের মুক্বালি­দীন সে চান্দে মা‘রূযাত (হামীদ, আটোক : জমঈয়তে ইশা‘আতুত তাওহীদ ওয়াস-সুন্নাহ), পৃ. ১, আরয-১।

[২৩]আপ ফতওয়া ক্যায়সে দেঁ (করাচী : মাকতাবা নু‘মানিয়া), পৃ. ৭৬।

[২৪]আল-ইফাযাতুল ইয়াওমিয়াহ মিনাল ইফাদাতিল ক্বওমিয়াহ/মালফূযাতে হাকীমুল উম্মত ৩/১৫৯, বচন নং ২২৮।

[২৫]আল-কালামুল মুফীদ ফী ইছবাতিত তাকলীদ (ছাপা : ছফর ১৪১৩ হিঃ), পৃ. ৩৫, ৩৬।

[২৬]জা-আল হক্ব (পুরাতন সংস্করণ), ১/১৬।

[২৭]শরহ ছহীহ মুসলিম (লাহোর : ফরীদ বুক স্টল), ৫/৬৩।

[২৮]ঐ, ৩/৩২৯।

[২৯]ঐ, ৩/৩৩০।

[৩০]ঐ।

[৩১]আল-মিনহাজুল ওয়াযেহ ই‘য়ানী রাহে সুন্নাত (৯ম সংস্করণ, জুমাদাছ ছানিয়াহ, ১৩৯৫ হিঃ/জুন ১৯৭৫ইং), পৃ. ৩৫।

[৩২]আল-কালামুল মুফীদ ফী ইছবাতিত তাকলীদ, পৃ. ৩২।

[৩৩]আল-ফাক্বীহ ওয়াল মুতাফাক্কিহ ২/৬৬।

[৩৪]জামে‘উ বায়ানিল ইলম ওয়া ফাযলিহি ২/১১৭, অন্য সংস্করণ ২/১৪৩; ইবনুল ক্বাইয়িম, ই‘লামুল মুওয়াক্কি‘ঈন ২/১৯৭; সুয়ূত্বী, আর-রদ্দু ‘আলা মান উখলিদা ইলাল আরয ওয়া জাহিলা আন্নাল ইজতিহাদা ফী কুলি­ আছরিন ফারয, পৃ. ১২৩।

[৩৫]আল-কালামুল মুফীদ, পৃ. ৩৩, ৩৪।

[৩৬]রাহে সুন্নাত, পৃ. ৩৫।

[৩৭]আদ-দীবাজুল মুযাহ্হাব, পৃ. ৩৬৩, জীবনী ক্রমিক নং ৪৯১; লিসানুল মীযান ৫/২৯১।

[৩৮]যাহাবী, তারীখুল ইসলাম ২৭/২১৭; ছাফাদী, আল-ওয়াফী বিল-অফায়াত ২/৩৯, জীবনী ক্রমিক নং ৩৩৯।

[৩৯]শারহুল ওয়ারাক্বাত ফী ইলমি উছূলিল ফিক্বহ, পৃ. ১৪।

[৪০]মুনহাতাল উছূল ওয়াল আমাল ফী ইলমাই আল-উছূল ওয়াল জাদল, পৃ. ২১৮, ২১৯।

[৪১]আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম ৪/২২৭।

[৪২]আল-মুসতাছফা মিন ইলমিল উছূল ২/৩৮৭।

[৪৩]ই‘লামুল মুওয়াক্কিঈন ১/৭।

[৪৪]রাওযাতুন নাযির ওয়া জুন্নাতুল মুনাযির ২/৪৫০।

[৪৫]আল-ইহকাম ফী উছূলিল আহকাম ৬/২৬৯।

[৪৬]ফাৎহুল বারী ১৩/৩৫১, হা/৭৩৭২-এর আলোচনা দ্রঃ।

[৪৭]ই‘লামুল মুওয়াক্কিঈন ২/১৮৮।

[৪৮]তাক্বলীদে আইম্মায়ে দ্বীন আরো মাক্বামে আবূ হানীফা, পৃ. ২৪-২৫।

[৪৯]শরী‘আত ওয়া তরীকত কা তালাযুম, পৃ. ৬৫।

[৫০]আমীর বাদশাহ আল-বুখারী, তায়সীরুত তাহরীর (মিসরীয় ছাপা ১৩৫১ হিঃ), ৪/২৪৬, ইবনু নুজায়েম, ফাৎহুল গাফ্ফার শারহুল মানার (মিসরীয় ছাপা: ১৩৫৫ হিঃ), ২/৩৭।

[৫১]তাকলীদ কী শারঈ হায়ছিয়াত (ষষ্ঠ প্রকাশ ১৪১৩ হিঃ), পৃ. ১৪।

[৫২]আল-ইক্বতিছাদ, পৃ. ৫।

[৫৩]তাহক্বীক্ব মাসলায়ে তাকলীদ, পৃ. ৩; মাজমূ‘আয়ে রাসায়েল (ছাপা : অক্টোবর ১৯৯১), ১/১৯।

[৫৪]তাহাফ্ফুযে আক্বায়েদে আহলে সুন্নাত (লাহোর : ফরীদ বুক স্টল), পৃ. ৮০৬।

[৫৫]তাসহীল : আদিল্লায়ে কামেলাহ (করাচী : ক্বাদীমী কুতুবখানা), পৃ. ৮৬।

[৫৬]শারহু মা‘আনিল আছার ৪/৩, ‘ক্রয়-বিক্রয়’ অধ্যায়, ‘গমের বিনিময়ে যব অতিরিক্ত পরিমাণে বিক্রি করা’ অনুচ্ছেদ।

[৫৭]মুখতাছারুল মুযানী, ‘বিচার’ অনুচ্ছেদ। গৃহীত : সুয়ূত্বীর ‘আর-রাদ্দু ‘আলা মান উখলিদা ইলাল আরয’, পৃ. ১৩৮।