আল বারবাহারি আল হাম্বালি সম্পর্কে জারহ-তা’দীলের ইমাম আল আলবানির কথোপকথন

 

ভাষান্তরঃ আবু হিশাম মুহাম্মাদ ফুয়াদ

 

প্রশ্নকারীঃ আল বারবাহারির আস সুন্নাতে আছে যে…..

 

আল আলবানিঃ কার?

 

প্রশ্নকারীঃ আল বারবাহারি। এটি একটি বইয়ের পান্ডুলিপি।

 

আল আলবানিঃ একারণেই এটি আমার কাছে অপরিচিত লাগলো। আমি এটি সম্পর্কে অবগত ছিলাম না, তায়্যিব।

 

প্রশ্নকারীঃ তিনি রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর হাউদ্ব সম্পর্কে বলতে গিয়ে বলেছেন সালিহ ছাড়া প্রত্যেক নবীরই হাউদ্ব আছে। তার জন্য হাউদ্ব হলো তার উটের বাট বা দুধ। [১]

 

আল আলবানিঃ এটা একটু অদ্ভুত! তিনি কি এটি কোনো সানাদ ছাড়া বলেছেন?

 

প্রশ্নকারীঃ তার বইটি খুব শীঘ্রই প্রকাশিত হবে।

 

আল আলবানিঃ দ্রুতই ছাপা হবে?

 

প্রশ্নকারীঃ হ্যাঁ, শীঘ্রই।

 

আল আলবানিঃ আচ্ছা, এটি পান্ডুলিপি?

 

প্রশ্নকারীঃ এটা সম্পাদনা করা হয়েছে। এটি একটি বই।

 

আল আলবানিঃ আচ্ছা। তিনি কি এটির কোনো সানাদ উল্লেখ করেছেন?

 

প্রশ্নকারীঃ আমরা কি এটি পড়তে পারি?

 

আল আলবানিঃ আল বারবাহারি, বৈশিষ্ট্যে তিনি একজন হাম্বালি…

 

প্রশ্নকারীঃ আবু মুহাম্মাদ আল হাসান।

 

আল আলবানিঃ তিনি একজন হাম্বালি।

 

প্রশ্নকারীঃ তিনি কি চতুর্থ শতাব্দীর?

 

অন্য একজনঃ সম্ভবত, চতুর্থ শতাব্দীর।

 

আল আলবানিঃ আমার মনে হয়, তার মাঝে বাড়াবাড়ি আছে। তাই কি?

 

প্রশ্নকারীঃ পান্ডুলিপিটির সম্পাদক যখন তার সম্পর্কে বলছিলেন, তার ব্যাপারে অনেক আলেমদের মত উল্লেখ করেছিলেন। তার সময়ে তিনি আহলুস সুন্নাহর ইমাম ছিলেন।

 

আল আলবানিঃ বিদআতিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করার জন্য তিনি অবশ্যই প্রশংসিত হবেন। তবে এটাও সত্যি যে, তিনি আহলুস সুন্নাহ ও সালাফি মানহাজেই অটল। কিন্তু অনেক ব্যাপারেই বাড়াবাড়ি আছে।

 

যেমন, আল ইবানাহর লেখক ইবনুল বাত্ত্বাহ হাম্বালি। তিনিও এজাতীয়ই। তার ইবনাতে তিনি সব ধরণের (দ্বইফ বা জাল হাদীস সহ) হাদীস বর্ণনা করেছেন, এমনকি (আল্লাহর) সিফাত সম্পর্কেও।

 

তাই এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। সিফাত বর্ণনাকারী সকল লেখকই তাদের বর্ণনাসমূহ যে যাচাই করেন এমনটি নয়।

 

যাহোক, প্রশ্নে যে ব্যাপারটি বলা হয়েছে এটি আমি এই প্রথম শুনলাম। হাউদ্বের ব্যাপারে যে মুতাওয়াতির হাদীসগুলো এসেছে তার বিপরীতে আমার মনে হয়না এটি একটি সাহীহ রেওয়ায়েত। ইবনে আবি আসিমের আস সুন্নাহতে হাউদ্ব সম্পর্কে রেওয়ায়েতের বিশাল সংকলন করা হয়েছে, সেখানেও এমন ব্যতিক্রম সম্পর্কে বলা নেই। সর্বশেষ আমরা এটিকে গরিব[২] ধরে নিতে পারি। তবুও যতক্ষণ না তা যেভাবে দ্বীনে কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয় সেভাবে না আসছে ততক্ষণ তা আমরা মেনে নিতে পারি না।

 

প্রশ্নকারীঃ আচ্ছা। ইবনুল বাত্তাহর এই আল ইবানাহ আস সুগরা থেকে কি আমরা আল্লাহর সিফাত ও নামাবলি সম্পর্কে কিছু নিতে পারবো? আপনি যে আল ইবানাহর কথা বললেন, আপনি আলইবানাহ আসসুগরা না কুবরা সম্পর্কে বললেন?

 

আল আলবানিঃ আমি ঠিক মনে করতে পারছি না। দামেস্কের দাঈরিয়্যাহ লাইব্রেরিতে আমাদের একটি হাতে লেখা আল ইবানাহর পান্ডুলিপি আছে। সেটা একটু উল্টাপাল্টা হয়ে গেছে, পানিতে কিছু অংশ নষ্টও হয়ে গেছে। আমি এটা থেকে অনেক উপকৃতও হয়েছি। তবে আমি এটা স্পষ্ট বুঝতে পেরেছি যে তিনি একজন হাম্বালি ছিলেন। এবং তারও সিফাতগুলোর ব্যাপারে বাড়াবাড়ি রয়েছে। তারা এমন সিফাতসমূহ নিয়ে আলোচনা করেন যেগুলো সাধারণত দ্বইফ বা মওযু রেওয়ায়েতে বর্ণিত হয়েছে, যদি সহীহও হয় তবুও মাওক্বুফ অথবা মাক্বতু হওয়ায় সেগুলোকে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দিকে নিসবত করা যায় না।

 

এবং এই একই ব্যাপার আল মারেসির খন্ডনের ক্ষেত্রে আদ দারিমির মাঝেও পাওয়া যায়।

পাদটীকা

[১] সংকলক লিখেছেন, “জাল। আল উকাইলি আদ দ্বুআফা(৩/৬৪-৬৫)তে উল্লেখ করেছেন এবং ইবনু যাওজীর তার থেকে বর্ণনা করেছেন আল মাওদুআতে (৩/২৪৪) এবং বলেছেন, ‘এটি একটি ভিত্তিহীন জাল বর্ণনা’। ”

মাওসু’আতুল আল্লামাহ, আল ইমাম, মুযাদ্দিলিল আসর, মুহাম্মদ নাসিরুদ্দিন আল আলবানি, শাইখ সাদি নোমান, খন্ড: ৯,পৃ: ৩৫৪-৩৫৬

 

[২] হয়তোবা শাইখ এখানে হাদীসের পরিভাষায় গরিব বলেন নি। কেননা গরিব হাদীস গ্রহণযোগ্য। এখানে গরিবের শাব্দিক অর্থ অর্থাৎ ‘আজব’ বা ‘অপরিচিত’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। আল্লাহু আ’লাম।