মুহাক্কিকঃ আবূ মুবাশশির আহমাদ বিন আব্দুত তাওয়াব আনসারী (আহমাদুল্লাহ সৈয়দপুরী)

 

প্রশ্নঃ নীচের হাদীসটি কি সহীহ? এটা কোন কোন গ্রন্থে আছে?
‘হযরত আবূ হুরায়রা রাযিআল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাম ফেরানোর পর কিবলামুখী হয়েই হাত উঠিয়ে দুআ করতেন, হে আল্লাহ! ওয়ালীদ বিন ওয়ালীদকে, আইয়াশ বিন আবূ রবীআকে সালামা ইবনে হিশামকে ও অন্যান্য সমস্ত শক্তিহীন মুসলিমদেরকে কাফেরদের হতে রক্ষা করুন। যারা না পারে কোন উপায় করতে আর না পায় কোন পথ’।

 

উত্তরঃ এটা ইবনু কাসীরে আছে,
وَقَالَ ابْنُ أَبِي حَاتِمٍ : حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا أَبُو مَعْمَرٍ الْمَقْرِيُّ حَدَّثَنَا عَبْدُ الْوَارِثِ، حَدَّثَنَا عَلِيِّ بْنِ زَيْدٍ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ المسَّيب، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ : أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ رَفَعَ يَدَهُ بَعْدَمَا سَلَّمَ، وَهُوَ مُسْتَقْبَلٌ الْقِبْلَةَ فَقَالَ : اللَّهُمَّ خَلِّصِ الْوَلِيدَ بْنَ الْوَلِيدِ، وَعَيَّاشَ بْنَ أَبِي رَبِيعَةَ، وسَلَمة بْنَ هِشَامٍ، وَضَعَفَةَ الْمُسْلِمِينَ الَّذِينَ لَا يَسْتَطِيعُونَ حِيلَةً وَلَا يَهْتَدُونَ سَبِيلًا مِنْ أَيْدِي الْكُفَّارِ-
(তাফসীর ইবনু কাসীর ২/১০০)।

এটি সহীহ নয়। কেননা এর রাবী আলী বিন যায়েদ হলেন যঈফ। তাকে ইমামগণ সমালোচনা করেছেন। যেমনঃ

(১) আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
قلت : وهذا إسناد ضعيف، لسوء حفظ علي بن زيد- وهو ابن جدعان- واختلاطه، وقد اضطرب في إسناده ومتنه-
‘এ সনদটি যঈফ। আলী বিন যায়েদের বাজে স্মৃতিশক্তি ও ইখতিলাতের কারণে। আর তিনি হলেন ইবনু জুদআন। এছাড়াও তিনি এর সনদে ও মতনে ইযতিরাব করেছেন’ (যঈফা, হাদীস নং ৬৬৩০)।

(২) ইবনু হাজার রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, عَلِيُّ بْنُ زَيْدِ بْنِ جُدْعَانَ وَهُوَ ضَعِيفٌ ‘আলী বিন যায়েদ বিন জুদআন যঈফ রাবী’ (ফাতহুল বারী ১/৩৭৩; তাকরীবুত তাহযীব, জীবনী নং ৪৭৩৪)।

(৩) আব্দুল কাদীর আরনাঊত রহিমাহুল্লাহ তাকে যঈফ বলেছেন (জামেউল উসূল ২/১৯২, টীকা দ্র.)।

(৪) ইবনু মাঈন রহিমাহুল্লাহ বলেছেন, لَيْسَ بِذَاكَ الْقوي ‘তিনি শক্তিশালী নন’ (তারীখে ইবনু মাঈন, দূরীর বর্ণনা রাবী নং ৪৭২)।

(৫) যাহাবী রহিমাহুল্লাহ তাকে যঈফ রাবী বলেছেন (সিয়ারু আলামিন নুবালা ২/২৯৫)।

(৬) হায়সামী রহিমাহুল্লাহ বলেছেন,
قُلْتُ : فِي الصَّحِيحِ أَنَّهُ قَنَتَ بِهِ. رَوَاهُ الْبَزَّارُ، وَفِيهِ عَلِيُّ بْنُ يَزِيدَ، وَفِيهِ خِلَافٌ، وَبَقِيَّةُ رِجَالِهِ ثِقَاتٌ-
‘আমি বলেছি, সহীহ-এর মধ্যে রয়েছে যে, তিনি কুনূত (নাযেলা) পড়েছেন। এটি বাযযার বর্ণনা করেছেন। আর এতে আলী বিন যায়েদ নামক রাবী আছেন। তাকে নিয়ে মতানৈক্য রয়েছে। এর অবশিষ্ট রাবীগণ সিকাহ’ (মাজমাউয যাওয়ায়েদ হাদীস নং ১৭২৩৭)।
এই বর্ণনাটি আরেকটি গ্রন্থে এসেছে। তবে সেখানে হাত তোলার কথা নেই। বরং সালাম ফেরানোর পর মাথা তুলে কিবলামুখী হয়ে দুআ করার কথা রয়েছে (মুসনাদুল বাযযার হাদীস নং ৭৮৪৫)।

অর্থাৎ একেক বর্ণনায় একেক রকম বক্তব্য পাওয়া যায়। সে জন্য আলবানী রহিমাহুল্লাহ বলেন, ‘তিনি এর সনদে ও মতনে ইযতিরাব করেছেন’।

আরো অসংখ্য ইমাম ও মুহাক্কিক তাকে যঈফ বলেছেন। যার দ্বারা প্রতীয়মান হয়, আলী বিন যায়েদ বিন জুদআন একজন যঈফ রাবী। সুতরাং তার বর্ণিত অত্র বর্ণনাটি গ্রহণযোগ্য নয়।

তাছাড়াও এই বর্ণনা দিয়ে ইমাম ও মুক্তাদীর সম্মিলিত মুনাজাত প্রমাণও করা যায় না। কারণ এখানে সেরূপ কোন বক্তব্য নেই।

আল্লাহ্ই ভাল জানেন।