fatawa-1_edited

ডাউনলোড করে পড়ুন

মূলঃ  আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী  

সম্পাদনাঃ  আবু হিশাম মুহাম্মাদ ফুয়াদ

 

প্রশ্নঃ বর্তমানে আধুনিকতার যুগে পুরুষদের মত নারীরাও চায় তাদের উন্নত ক্যারিয়ার গড়তে, লেখাপড়া শিখতে। কেউই নিজেদেরকে গৃহে আবদ্ধ রাখতে চায় না। নারীদের এই ক্যারিয়ার-মুখী চিন্তাভাবনা বা এর প্রয়োজনিয়তা সম্পর্কে ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে আমাদের জন্য দয়া করে একটু বিস্তারিত জানাবেন প্লিজ।

 

উত্তরঃ ইসলাম নারী পুরুষ উভয়কেই কল্যাণকর জ্ঞান বা ইলমুন নাফে’ শিখতে উৎসাহ দেয়। তবে প্রশ্নকারীর প্রশ্নে কিছু ভুল ইঙ্গিত রয়েছে আমরা যেগুলোর দিকে প্রথমে নজর দিতে চাই। প্রথম কথা হচ্ছে মেয়েরা তাদের বাড়ি ছেড়ে বার হয়ে মাঠে ঘাটে ঘুরে বেড়াবে – ইসলাম এমন ধরণের চিন্তার ঘোর বিরোধী। আল্লাহ্‌ সুবহানু ওয়া তা’আলা ইরশাদ করেনঃ

 

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ
وَلا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ

এবং তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে। প্রাচীন জাহিলী যুগের সৌন্দর্য প্রদর্শনের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।[১]

 

ইবন কাথীর এই আয়াতের তাফসীরে বলেন, অর্থাৎ তোমরা তোমাদের স্বগৃহে অবস্থান করবে এবং একেবারে জরুরী প্রয়োজন ব্যতিরেকে বাড়ি থেকে বার হবে না। আর শরিয়তি প্রয়োজনীয়তার মধ্যে রয়েছে মাসজিদে সালাতের উদ্দেশ্যে বার হওয়া। যেমনটি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেনঃ
لا تمنعوا إماء الله مساجد الله ، وليخرجن وهن تفلات
আল্লাহ্‌র বাঁদিদের মাসজিদে যেতে বাঁধা দিও না। ও তারা যেন সুগন্ধি ব্যবহার পূর্বক না বেরোয়।

এছাড়া সুরাহ আহযাবের ৩৩ নং আয়াতে আমরা আরো দেখি বাড়িতে মেয়েদের থাকার আদেশের সাথে সাথে মেয়েদের জাহিলিয়্যাতের জমানার মত সৌন্দর্য প্রদর্শন করা থেকে বিরত থাকতেও বলা হচ্ছে। আর আমরা জানি অসৎ নারীরা নিজেদের বাহিরেই মূলতঃ এমন ভাবে প্রদর্শন করে থাকে। যেহেতু এই একই আয়াতের আগের অংশে বাড়িতে থাকাকে মেয়েদের জন্যে ওয়াজিব করা হয়েছে, এ থেকেই প্রতীয়মান হয় বাহিরে যাওয়ার ব্যাপারেও নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।
উপরোক্ত আয়াত থেকে আমরা বুঝতে পারি নারীদের আসল বা মূল হচ্ছে ঘরে থাকা। এবং এটিই নারীর জন্যে ওয়াজিব। আর একে “গৃহে আবদ্ধ রাখা” বলে হেয় করার কোন অবকাশ নেই।
এ কথাই বলেছেন অতীতের ও বর্তমানের সকল উলামা।

শাইখ আল আলবানী বলেন,

পড়ালেখার ক্ষেত্রে যদি বিয়ের শুরুর দিকে হয়, যখন সন্তান থাকবে না, তখন ইখতিলাত বা ফ্রি মিক্সিং ব্যাতীত পড়ালেখা করতে পারবে। কিন্তু যদি সন্তান হয়ে যায়, তবে সে ক্ষেত্রে স্ত্রীর কাজ হলো সন্তান দেখা আর স্বামীর কাজ বাহিরে কাজ করা। এর উল্টোটি আল্লাহ্‌র নিজামের উল্টো ও নাজায়েয।
এর পর তিনি উপরোক্ত আয়াতের উল্লেখ করে মেয়েদের ঘরে থাকা ওয়াজিব বলে উল্লেখ করেন। [২]

 

শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দিল্লাহ বিন বায সুরাতুল আহযাবের ৩৩ নম্বর আয়াত উল্লেখ করে বলেন,

সুতরাং আল্লাহ্‌সুবহানু ওয়া তা’আলা প্রথম আয়াতে নারীদের আদেশ করেছেন তাদের বাড়িতে থাকতে। কেননা তাদের বাহিরে যাওয়া মূলতঃ ফিতনার কারণসমূহ হতে। শরিয়াতের দলিলসমূহ তার বাড়ি হতে কেবলমাত্র প্রয়োজনীয় কারণে বার হওয়া ও সন্দেহজনক বিষয় হতে দূরে থাকতে নির্দেশ করে, কিন্তু তার বাড়িতে থাকাই হচ্ছে এটিই মূল কথা। এটি তার জন্যে উত্তম, অধিকতর সুন্দর ও ফিতনা হতে দূরে। [৩]

শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উথাইমীনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, সে নারীর ব্যপারে যে তার সন্তানদের তাদের নানী/দাদীর কাছে রেখে কাজে যায়। শাইখ বলেন,

কোন নারীর সন্তান রেখে বা স্বামীর বাড়ির বাহিরে যাওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক বিষয়। কেননা কোন নারীর কোন প্রয়োজন নেই কাজ করার, কেননা তার বাড়িতেই (তার স্বামীকে) তার জন্যে খরচ করার আদেশ করা হয়েছে। আল্লাহ্‌ বলেন,

وَعَلَى الْمَوْلُودِ لَهُ رِزْقُهُنَّ وَكِسْوَتُهُنَّ بِالْمَعْرُوفِ
আর সন্তানদের জনকগণ বিহিতভাবে প্রসূতিদের খোরাক ও তাদের পোশাক দিতে বাধ্য।[৪]

 

ও নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের বক্তব্য বিদায় হজ্বের ভাষণে ,
ولهن عليكم رزقهن وكسوتهن بالمعروف
তাদের জন্যে তোমাদের উপর (দায়িত্ব রয়েছে) তাদের রিযকের ও তাদের পোশাকের ব্যপারে।

আল্লাহ্‌ আরো বলেন,

لِيُنفِقْ ذُو سَعَةٍ مِّن سَعَتِهِ ۖ وَمَن قُدِرَ عَلَيْهِ رِزْقُهُ فَلْيُنفِقْ مِمَّا آتَاهُ اللَّهُ
সামর্থ্যবান নিজ সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যয় করবে এবং যার জীবনোপরকণ সীমিত সে আল্লাহ্‌যা দান করেছেন তা হতে ব্যয় করবে। [৫]

 

এই সুরাহতে আল্লাহ্‌ বলেন নি, যখন তার রিযক কমিয়ে দেওয়া হবে, তখন তার স্ত্রী শুধু তার পাশে থাকবে, এটিই তার জন্যে যথেষ্ট হবে। ইসলাম পরিপূর্ণ নিজাম, এতে প্রত্যেক মানুষের জন্যে রয়েছে যা তার জন্যে প্রযোজ্য। সুতরাং স্বামীর জন্যে খরচ করা ও স্ত্রীর জন্যে বাড়ির দেখভাল করা।

শাইখ আরো মত পোষণ করেন, যদি নারী মনে করে, তার জন্যে একান্ত জরুরী (অর্থাৎ বিশেষ অবস্থায়), তবে সে নারীদের পরিবেশে কাজ করতে পারবে। কিন্তু যদি তার সন্তানদের জন্যে সে অত্যন্ত জরুরী হয়, এমন অবস্থায় যে তাদের নানী তাদের জরুরী কাজ করতে অপারগ হবেন, তখন এই নারীর জন্যে একেবারেই জায়েয হবে না, এমনকি নারীদের মাঝে কাজের জন্যেও।[৬]

এরপর শাইখকে প্রশ্ন করা হয়, যদি সে কাজের মেয়ে রাখে তাহলে?
শাইখ বলেন, যদিও সে কাজের মেয়ে রাখে। কেননা কাজের মেয়ে কখনো মা বা নানী বা কাছের কারো মত করে সন্তানদের দেখবে না। [৬]

এছাড়াও আমরা শারিয়াতে পাই বরং পুরুষেরাই উপার্জন করবে। আল্লাহ্‌ বলেন,

الرِّجَالُ قَوَّامُونَ عَلَى النِّسَاءِ بِمَا فَضَّلَ اللَّهُ بَعْضَهُمْ عَلَى بَعْضٍ وَبِمَا أَنْفَقُوا مِنْ أَمْوَالِهِمْ

পুরুষগণ নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল, যেহেতু আল্লাহ্‌তাদের মধ্যে একের উপর অপরকে প্রাধান্য দান করেছেন এবং এ হেতু যে, তারা স্বীয় ধন-সম্পদ হতে ব্যয় করে থাকে।[৭]

 

সুতরাং আয়াত থেকে স্পষ্ট যে নারীর জন্যে সাধারণ অবস্থায় কোন প্রকার অর্থনৈতিক কাজ গুরুত্বপূর্ণ নয়। আল্লাহ্‌ তার উপর এ ধরণের দায়িত্ব অর্পন করেননি। তাই এ বিষয়ে অধিক গুরুত্ব দিতে গিয়ে আসল অর্পিত দায়িত্বের প্রতি অবহেলা করা যাবে না।

শ্রদ্ধেয় শাইখ মুকবিল বিন হাদী আল ওয়াদিয়ী পড়ালেখার ক্ষেত্রেও বলছেনঃ

তার জন্যে শুধু জরুরী কাজে বার হওয়া জায়েয। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিষয় সঠিক মত হচ্ছে এ সকল প্রতিষ্ঠান বরং অনেক নারীকে কল্যাণকর জ্ঞানার্জনে (অর্থাৎ দীনের জ্ঞান) বাধা দেয়, আর তাদের বিয়ে শাদীর ক্ষেত্রেও বাধার সৃষ্টি করে।হয়ত কোন নারী ততক্ষণ পর্যন্ত বিয়ে করবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে। কিন্তু হয়ত ততদিনে যে নারী বিয়ে করে ফেলেছে তার তিনটি সন্তান হয়ে যাবে, আর প্রথম নারীর বয়স ২৫ উর্ধ্ব হয়ে যাবে। এ তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ, বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ এবং একই ভাবে আমাদের চিকিৎসালয় সমূহ ইসলামিক ভিত্তিতে স্থাপিত নয়, বরং এ সকল প্রতিষ্ঠান ইসলামের শত্রুদের অন্ধ অনুসরণের উপর স্থাপিত।
সুতরাং আমি উপদেশ দিই বাড়িতে অবস্থান করবার জন্যে।
এবং নবী ﷺ বলেছেন,

ما تركت بعدي فتنة اضر على الرجال من النساء
আমি আমার পরে পুরুষদের জন্যে নারী অপেক্ষা আর কোন কিছু ক্ষতিকর রেখে যাইনি। [৮]

বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সুতরাং আমাদের উপদেশ হচ্ছে বাড়িতে অবস্থান করা, আর আপনারা বাড়ি হতে বাহির হবেন না যদি না কোন দরকার পরে।”[৯]

সুতরাং ইসলাম নারীদের কাফিরাহ মুশরিকাদের ন্যায় ঘর সংসার ফেলে ক্যারিয়ার গড়তে একেবারেই উৎসাহ দেয় না। বরং আল্লাহ্‌নারী পুরুষ উভয়কে মু’আমালাতের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন কাজের জন্যে বানিয়েছেন। পুরুষ বাহিরের কাজ করবে আর স্ত্রী ঘরের কাজ করবে।
তবে হ্যাঁ, যদি কোন জরুরী অবস্থায় পরে (যেমন স্বামী মৃত্যু বরণ করেছে ও কোন টাকা রেখে যায় নি, ইত্যাদি) তার চাকরি করতে হয়, তবে সে কর্মক্ষেত্রে সাবধানতা অবলম্বন করবে। সে ক্ষেত্রে তার শর্তসমূহ নিম্নরূপঃ

১। কর্মক্ষেত্রে যেন ফ্রি মিক্সিং না থাকে।
২। তার কর্মক্ষেত্রে যেন পুরুষেরা না থাকে।
৩। তিনি যেন কর্মক্ষেত্রেও হিজাব পড়ে চলেন।
৪। তিনি যেন ঘরের দায়িত্ব অবহেলা না করেন।
৫। তার স্বামী যেন এতে তাকে অনুমতি দেন।
৬। তার সন্তান যদি হয়ে যায়, সে ক্ষেত্রে তিনি শুধু সন্তানের দিকেই মনোযোগ দেবেন, এ ধরণের কাজে যাবেন না। বরং ঘরের কাজেই তিনি মনোযোগ দেবেন।

আমাদের জানা মতে এমন কর্মক্ষেত্র খোদ সৌদি আরবেও যদি হয়, তাতেও সন্দেহ আছে। বাকি কোন দেশে এমনটি নেই, আমাদের দেশে তো একেবারেই এমন পাওয়া যায় না।ইউরোপ আমেরিকায় এমন পরিবেশ একেবারেই নেই। আমি নিজে একজন ব্রিটিশ হওয়ার বিধায় ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি।
এছাড়া আমরা জানি, মুসলিমের জন্যে আমল সমূহের মধ্যে শ্রেষ্ঠতর আমল সমূহের একটি হচ্ছে জিহাদ। কিন্তু শাইখ ইবনু কাথীর বলছেন,

وقال الحافظ أبو بكر البزار : حدثنا حميد بن مسعدة حدثنا أبو رجاء الكلبي ، روح بن المسيب ثقة ، حدثنا ثابت البناني عن أنس ، رضي الله عنه ، قال : جئن النساء إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقلن : يا رسول الله ، ذهب الرجال بالفضل والجهاد في سبيل الله تعالى ، فما لنا عمل ندرك به عمل المجاهدين في سبيل الله ؟ فقال رسول الله صلى الله عليه وسلم : ” من قعد – أو كلمة نحوها – منكن في بيتها فإنها تدرك عمل المجاهدين في سبيل الله “

আনাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, কিছু নারী রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নিকট এলো ও বললো, ও আল্লাহ্‌র রাসূল। পুরুষেরা কল্যাণ ও আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদে গিয়েছে। আমাদের জন্যে এমন কি আমল রয়েছে যার মাধ্যমে আমরা আল্লাহ্‌র রাস্তায় জিহাদ করতে যাওয়ার আমল (অর্থাৎ সওয়াব) পাব? তখন রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন, তোমাদের মধ্য হতে যে বাড়িতে বসবে (যার অর্থ থাকবে ) সে নিশ্চিতভাবে মুজাহিদদের আমল পাবে।[১০]

অর্থাৎ জিহাদের মত এত বড় আমল থাকা স্বত্বেও মেয়েদের সে পথে তিনি যেতে দেননি, বরং তাদের বাড়িতে অবস্থান করাই তাদের জন্যে জিহাদের সমমানের বলেছেন। সে ক্ষেত্রে একটা নারী ঘরে থাকাকে কিভাবে বন্দী থাকা হিসেবে দেখবে, এটি আমি বুঝতে পারি না।

 

নারীর ক্যারিয়ার সম্পর্কিত চিন্তাভাবনা পাশ্চাত্য কাফিরদের থেকে আমদানী করা একটি বিষয় বই আর কিছু নয়। বর্তমানে ইখওয়ানী মেয়েদের মধ্যেও এ ধরণের প্রবণতা দেখ্যা যায়। দুনিয়াবি পড়ালেখা ও তার বাস্তবায়ন কেবলমাত্র অর্থনৈতিক কর্মকান্ডের জন্যে ফলপ্রসূ, অথচ জরুরী অবস্থা ব্যাতীত নারীর উপার্জনের কোন প্রয়োজনিয়তা আমাদের শারিয়াতে পাওয়া যায় না। আমরা মনে করি, আখিরাতের পড়ালেখা একজন মুসলিম নারীর জন্যে অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ। তবে এ ক্ষেত্রেও সতর্কতা অবলম্বন করা উচিৎ, যাতে তা ইসলামী আদর্শ হতে বিচ্যুত কোন উপায়ে না হয়, যদিও তা ইসলামী জ্ঞান হয়।

 

সর্বশেষে বলতে চাই, যে ভাইয়ের ভুল ফাতাওয়াকে আমরা সংশোধন করে দিলাম, তিনি একজন মাদিনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করে বার হয়েছেন। তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মাধ্যমে লিখেন এবং ক্লাস নেন। তার অনেক ফাতাওয়ার বিরুদ্ধে আমাদের ভাইয়েরা আমাদের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলছেন, ইসলাম মেয়েদের বাড়ির বাহিরে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহ দেয়। এটি একটি ডাহা মিথ্যা কথা বলে আমরা মনে করি। উপরোক্ত আলোচনা ও আলেমগণের মতামত সাপেক্ষে ও কলেবর রক্ষার্থে উল্লেখ না করা উলামাদের বক্তব্য সহ সকল উলামাবৃন্দ এ ধরণের উদ্ভট মতামতের সম্পূর্ণ বিপরীত মত রেখেছেন। বরং আমরা মনে করে তা আল কুরআনের সুস্পষ্ট আদেশের খেলাপ।

 

এই ভাই আরো বলছেন, মেয়েরা আজকাল ব্যাংকিং এর মত সেক্টরে কাজ করছে। অথচ সৌদি আরবে কোন কিছু হলেই সেটা ইসলামের হুজ্জা বনে না। বরং হুজ্জা হচ্ছে আল কুরআন ও আস সুন্নাহ। আর বিশ্বের কোন কোন দেশে এমন মেয়েদের কাজ করার জন্যে হালাল কর্মক্ষেত্র রয়েছে? এই ভাই আরো বলছে রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নারীদের জন্যে নিরাপদ কর্মক্ষেত্র তৈরী করা, অথচ প্রশ্নকারী বা প্রশ্নকারিনী ঘরের বাহিরে গিয়ে এসব কাজের কথা বলছে। রাষ্ট্র যদি স্বপ্রণোদিত হয়ে এমন ব্যবস্থা নেয়, তাহলে সংসারগুলোর কি অবস্থা হবে একবার ভেবে দেখেছেন? বরং রাষ্ট্রের দায়িত্ব হতে পারে পুরুষ যেন অকর্মন্য না হয়ে যায় সে ব্যবস্থা করা ও শুধুমাত্র জরুরী অবস্থাতে নারীর কাজের জন্যে বাড়ি থেকে করতে পারে এমন সুবিধা তৈরী করে দেওয়া। রাস্তায় ঘাটে নারীকে নামিয়ে দেওয়া কখনো রাষ্ট্রের দায়িত্ব হতে পারে?

 

লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ। ওয়াল্লাহুল মুসতা’আন।

 

এই ভাইয়ের প্রতি আমাদের উপদেশ হবে, তিনি যেন আমাদের সালাফদের নকল করেন, নিজে ফাতাওয়া লিখতে গিয়ে এভাবে ভুল ভ্রান্তিতে না পরেন ও আল্লাহকে ভয় করেন। আমরা আল্লাহর কাছে ভাইয়ের সঠিক বুঝের জন্যে দোয়া করি।

আল্লাহ আমাদের সবাইকে বুঝার তৌফিক দান করুন।

ওয়াল্লাহু তা’আলা আ’লাম

পাদটীকা

[১] সুরাহ আহযাব, আয়াত ৩৩
[২] https://www.youtube.com/watch?v=1DlHgu2qQBk
[৩] https://binbaz.org.sa/fatwas/891/حكم-عمل-المراة
[৪] সুরাতুল বাক্বারাহ, আয়াত- ২৩৩
[৫] সুরাহ আত তালাক্ব, আয়াত- ৭
[৬] http://binothaimeen.net/content/7489
[৭] সুরাহ আন নিসা, আয়াত- ৩৪
[৮] সহীহুল বুখারী, আবু ‘আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ইসমাইল আল বুখারী, হাদিস নম্বর- ৫০৯৬
[৯] الأجوبة الوادعية على الأسإلة النساإية , শাইখ মুকবিল বিন হাদী আল ওয়াদে’য়ী, দ্বিতীয় ফাতাওয়া, সংক্ষেপিত।
[১০] http://quran.ksu.edu.sa/tafseer/katheer/sura33-aya33.html