মূল বইঃ শাইখ আব্দুর রাহমান বিন নাসির আস সা’দি
ব্যাখ্যাঃ আবুল হারিথ বিন সা’য়িদ আত তা’মিরি
অনুবাদঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী।

 

 

 

ভূমিকা

প্রশংসা আল্লাহর, আমরা তার প্রশংসা করি তাঁর সুন্দর নাম সমূহের ব্যপারে, আর সুউচ্চ আর পরিপূর্ণ গুণাবলীর ব্যপারে, আর তাঁর নির্ধারিত সাধারণ হুকুম সমূহের ব্যপারে যা তিনি নির্ধারণ করেছেন সকল সৃষ্টি আর অস্তিত্বের উপর, আর শারীয়াতের অন্তর্ভূক্ত সকলের জন্যে সংশ্লিষ্ট শারীয়াতের হুকুম সমূহের উপর, আর মুহসিনদের জন্যে পুরস্কারের হুকুম সমূহ এবং গুনাহগারদের উপর শাস্তির জন্যে।

আমি এই সাক্ষ্য দিচ্ছি যে নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীত, তিনি এক, তাঁর কোন শরীক নেই তাঁর নাম এবং গুণাবলীতে, ইবাদাতে এবং হুকুমে। এবং আমি এও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে মুহাম্মাদ আল্লাহর বান্দা ও তাঁর রাসূল, যিনি বর্ণনা এবং বিশ্লেষণ করেছেন হিকমাহ এবং হুকুম সমূহকে। এবং পরিষ্কার করেছেন আল হালাল আর হারাম। আর উসুল সমূহ বিন্যাস করেছেন এবং তাদের বিশ্লেষণ করেছেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত সম্পূর্ণ হয়েছে এই দীন এবং দীনের উপর ইস্তিকামাহ।

ও আল্লাহ, তুমি সালাত ও সালাম বর্ষণ কর মুহাম্মাদের উপর, তাঁর পরিবারের উপর, তাঁর সঙ্গী সাথীর উপর এবং অনুসারীদের উপর, বিশেষ করে এ দুনিয়ার উলামাদের উপর।

আম্মা বা’দ,

সুতরাং উসুল আল ফিকহের উপর এ সুন্দর রিসালাহ, শব্দের দিক থেকে সহজ, অর্থের দিক থেকে পরিষ্কার, সাহায্যকারী দীনের আহকাম শিখবার জন্যে, প্রত্যেক অর্থ বুঝবার জন্যে।

আমরা আল্লাহর কাছে এই সাহায্য চাই যেন তিনি কল্যাণ প্রদান করেন এর সংকলক এবং পাঠকদের। নিশ্চয়ই তিনি মহান দয়ালু।

 

 

 

فصل: تعريف أصول الفقه
অধ্যায়ঃ উসুল আল ফিকহ এর অর্থ

মূল বাক্যঃ
أصول الفقه (উসুল আল ফিকহ)

ব্যাখ্যাঃ

এটি একটি যুক্ত শব্দের নাম, যার অর্থ এর প্রত্যেকটি শব্দের অর্থে নিহিত। আর এ ভিত্তিতে এর অর্থ দু ভাগ্যে বিভক্তঃ

প্রথমটিঃ বর্ণনার ক্ষেত্রে আলাদা করে الإضافية (আল ইদাফিয়্যাহ, সম্পৃক্ততা)
দ্বিতীয়টিঃ বর্ণনার ক্ষেত্রে চিহ্নের মাধ্যমে এই বিশেষ কৌশলের উপর العلمية (আল আলামিয়্যাহ, চিহ্ন)

 

الإضافية(আল ইদাফিয়্যাহ, সম্পৃক্ততা) ঃ 

الإضافية এর ক্ষেত্রে, এ ক্ষেত্রে প্রয়োজন এ বাক্যের مضاف এর অর্থ, যা হচ্ছে أصول ,আর অর্থ مضاف إليه এর ক্ষেত্রে, আর সেটি হচ্ছে الفقه।

أصول শব্দটি أصل শব্দের বহুবচন, আর أصل শব্দটির অর্থ ভাষাগতভাবেঃ

أساس الذي بني على غيره

(মূল যার উপর অপরকিছু তৈরী)

হোক তা স্থাপিত অনুভবযোগ্য ভাবে, যেমন ছাদ এবং দেওয়ালের ভিত্তি। অথবা হোক তা আক্কেলগত, যেমন হুকুমের স্থাপনা দলিলের উপর।

আর ইসতিলাহে الأصل শব্দটি সাধারণভাবে কিছু অর্থে ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে রয়েছেঃ

 

 

১। الدليل(আদ দালিল, অর্থাৎ দলিল)ঃ

যেমন বক্তব্যেঃ

أصل هذه المسألة الكتاب و السنة

এই মাস’আলার أصل হচ্ছে আল্লাহর কিতাব এবং আস সুন্নাহ। – অর্থাৎ এর দলিল। সুতরাং আমরা বলি, সালাত ওয়াজিব হবার أصلঃ

وَأَقِيمُوا الصَّلاةَ

এবং সালাত কায়েম কর। (২৪ঃ৫৬)

অর্থাৎ এর দলিল। আর এর মধ্যে রয়েছে উসুল উল ফিকহ। অর্থাৎ এর দলিল সমূহ।

 

 

২। القاعدة الكلية المستمرة (আল কায়িদা আল কুল্লিয়্যাহ আল মুস্তামাররাহ, অর্থাৎ সাকল্যে ধারাবাহিক অবিচ্ছিন্ন কায়িদা)ঃ

যেমন বক্তব্যেঃ

إباحة الميتة للمضطر على خلاف الأصل

পরিস্থিতির কারণে মজবুর ব্যক্তির জন্যে মৃত প্রাণীর মাংশ ভক্ষণ আসলের খিলাফ।

অর্থাৎ, এটি القاعدة المستمرة (ধারাবাহিক কা’য়িদা) এর খিলাফ।

আবার বক্তব্যেঃ

اليقين لا يزول بالشك

ইয়াকিন বা দৃঢ় বিশ্বাস সন্দেহের কারণে বিনষ্ট হয় না।

এটি শারিয়াতের আসল সমূহের মধ্যে একটি আসল।

 

 

৩। الرجحان (আর রাজহান, অর্থাৎ তুলনামূলক শক্তিশালী মত)ঃ

যেমন বক্তব্যেঃ

الأصل في الكلام الحقيقة

বাক্যের আসল হচ্ছে বাস্তবতা।

অর্থাৎ, কোন বাক্যের শ্রোতা এই বাক্যের হাকিকাত বা বাস্তবতার অর্থকে বহন করা তার উপমাগত অর্থ বহন করবার অপেক্ষা অধিকতর সম্ভাবনাময়।
৪। المقيس عليه (আল মাকিস আলাইহি, কোন কিছুর পরিবর্তে অন্য কিছু গ্রহন করা কিয়াসের মাধ্যমে) অর্থাৎ তা যা কিয়াসের শাখা প্রশাখার সাথে তুলনাযোগ্যঃ

যেমন বক্তব্যেঃ

الأصل النبيذ الخمر

আন নাবিধ (ওয়াইন) এর আসল হচ্ছে তা খামর (মদ)।

এক্ষেত্রে আন নাবিধ مقيس (মাকিস, তুলনাকৃত), আর খামর হচ্ছে আসল যা مقيس عليه (মাকিস আলাইহি, যার সাথে তুলনা করা হয়েছে)

আর এভাবেই এতে রয়েছে, বাবা সন্তানের আসল, অর্থাৎ, সন্তান জন্মলাভ করেছে তার বাবা হতে এবং বেড়ে উঠেছে।

 

 

৫। المستصحب (আল মুস্তাসহাব), অর্থাৎ কোন কিছুর তার উপর থাকা যার উপর সে রয়েছে।

যেমন বক্তব্যেঃ

الأصل الطهارة في كل شيء

সকল কিছুতে আসল হচ্ছে পবিত্রতা।

অর্থাৎ কোন কিছু নাপাক হওয়া থেকে মুক্ত যতক্ষণ না পর্যন্ত তা নাপাক বলে প্রমাণিত হবে।

 

(চলবে)