মূল বইঃ শাইখ মুকবিল বিন হাদী আল ওয়াদি’ইয়ি
অনুবাদঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী।

প্রশ্নঃ যদি বিশ্ববিদ্যালয়ে শারীয়াগত বা শারীয়া বহির্ভূত জ্ঞানার্জন হয়ে থাকে, আর যদি এতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা হয়ে থাকে, সেক্ষেত্রে তা পরিষ্কারভাবে হারাম বর্ণনাকৃত। কিন্তু যদি এতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা না থাকে, তবে সেক্ষেত্রে এ সিদ্ধান্তের প্রমান কোথায়? সুতরাং অনেক মুসলিম নারী এই মনে করেন যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা থেকে দূরে থাকাই সঠিক সিদ্ধান্ত যে কারণে অনেকেই এখন পর্যন্ত তাদের বাড়ি হতে বাহির হন না, আমি আশা করি আপনি এ বিষয়টি পরিষ্কার করবেন।

শাইখ মুকবিল বিন হাদী আল ওয়াদি’ইয়িঃ এ ক্ষেত্রে প্রমাণ হচ্ছেঃ ঘরে অবস্থান করা। আরে এতে কোন প্রকার সমস্যা বা দ্বিমত নেই। আর আল্লাহ তা’আলার এই বক্তব্যঃ

وَقَرْنَ فِي بُيُوتِكُنَّ

এবং তোমরা স্বগৃহে অবস্থান করবে। (৩৩ঃ৩৩)

(অনুবাদকঃ একই আয়াতের পরের অংশও গুরুত্বপূর্ণ, লক্ষ্য করুনঃ وَلا تَبَرَّجْنَ تَبَرُّجَ الْجَاهِلِيَّةِ (প্রাচীন জাহিলী যুগের সৌন্দর্য প্রদর্শনের মত নিজেদেরকে প্রদর্শন করে বেড়াবে না।) (৩৩ঃ৩৩))

যা নিজ অবস্থান আর এর উদ্দেশ্য অবস্থান কর তোমাদের নিজেদের বাড়িতে। এবং তার জন্যে এটি জায়েয যে সে জরুরী কাজে বাহির হবে।

এখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আর বিশ্ব বিদ্যালয়ের বিষয়ে, এক্ষেত্রে সঠিক হচ্ছে এ সকল প্রতিষ্ঠান বরং অনেক নারীকে কল্যাণকর জ্ঞানার্জন (অর্থাৎ দীনের জ্ঞান) হতে বাধা দেয়, আর তাদের বিয়ে শাদীর ক্ষেত্রেও বাধার সৃষ্টি করে। হয়ত কোন নারী ততক্ষণ পর্যন্ত বিয়ে করবে না যতক্ষণ না পর্যন্ত সে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ শেষ করে। হয়ত সে যদি বিয়ে করে পঁচিশ বছর পর, যা হয়ত কোন নারীর তুলনায় যে বিশ বছরের, যার হয়ত ইতিমধ্যে তিন জন সন্তান রয়েছে। সুতরাং সঠিক মত হচ্ছে একে বাধাপ্রদানকারী হিসেবেই বর্ণনা করা হয়। এ তথ্য জানা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যে আমাদের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সমূহ, বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ এবং একই ভাবে আমাদের চিকিৎসালয় সমূহ ইসলামিক ভিত্তিতে স্থাপিত নয়, বরং এ সকল প্রতিষ্ঠান ইসলামের শত্রুদের অন্ধ অনুসরণের উপর স্থাপিত।

সুতরাং আমি উপদেশ দিই বাড়িতে অবস্থান করবার জন্যে। আর নিশ্চিতভাবে আপনারা (বোনেরা) শুনেছেন নবী ﷺ এর বাণীঃ

المرأة عورة, فإذا خرجت استشرفها الشيطان

নারী আওরাহ, সুতরাং যদি সে বাহিরে যায়, তবে শয়তান তাকে পর্যবেক্ষণ করে (অর্থাৎ তার আশা বেড়ে যায়)। (তিরমিযী খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ৩৩৭)

অর্থাৎ তাকে বলে, তুমি কারো দ্বারা পরীক্ষিত হবে না এ ব্যতীত যে সে তোমার প্রতি আশ্চর্যানবিত (অর্থাৎ গভীরভাবে আকর্ষিত) হবে।

এবং নবী ﷺ বলেছেন,

ما تركت بعدي فتنة اضر على الرجال من النساء

আমি আমার পরে পুরুষদের জন্যে নারী অপেক্ষা আর কোন কিছু ক্ষতিকর রেখে যাইনি।  (বুখারী  ৫০৯৬)

বিষয়টি অত্যন্ত বিপজ্জনক। সুতরাং আমাদের উপদেশ হচ্ছে বাড়িতে অবস্থান করা, আর আপনারা বাড়ি হতে বাহির হবেন না যদি না কোন দরকার পরে।