মূলঃ শাইখ আব্দুর রাহমান বিন নাসির আস সা’দি
তা’লীক্কঃ আব্দুল্লাহ বিন যা’ল আল ‘ইনযী
অনুবাদঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

 

 

باب الإستنجاء و آدب قضاء الحاجة – ইস্তিঞ্জা ও প্রয়োজনীয়তা আদায় (মল-মূত্র ত্যাগ) করবার আদব অধ্যায় উপপর্ব – ২

 

১৯। দেওয়াল অথবা অন্য কিছু দ্বারা পর্দা করবে।[১]

২০। যদি সে উম্মুক্ত স্থানে থাকে, তবে সে দূরে বসবে।[২]

২১। তাঁর জন্যে জায়েয নয় যে সে মল মূত্র ত্যাগ করবে এরূপ স্থানেঃ

ক। রাস্তা

খ। লোকেদের বসবার স্থানে।

গ। ফলদায়ক বৃক্ষের নীচে।

ঘ। অথবা এমন কোন স্থান যাতে দ্বারা লোকের ক্ষতি হয়।[৩]

২২। সে কিবলামুখী হবে না। অথবা মল মূত্র ত্যাগ করবার সময় কিবলার দিকে পিঠ দেওয়া। কেননা তিনি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন,

إذا اتيتم الغائط فلا تستقبلوا القبلة بغائط و لا بول ولا تستدبروها و لكن شرقوا أو غربوا

যদি তোমাদের কারো পায়খানা আসে, তবে তোমরা পায়খানারত বা মূত্ররত অবস্থায় কিবলামুখী হবে না এবং পশ্চাৎমুখিও হবেনা। বরং হয় পূবমুখি হও নয়ত পশ্চিমমুখি। (মুত্তাফাকুন আলাইহি)[৪]

২৩।সুতরাং যদি প্রয়োজনীয়তা শেষ হয়ঃ

ক। তিনটি পাথর অথবা অনুরূপ কিছু দ্বারা ইস্তিজমার করবে, অবস্থা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া। [৫]

খ। এরপর পানি দ্বারা ইস্তিঞ্জা করা।

২৪। এ দুটোর একটি ব্যবহার করবার মাধ্যমে সংক্ষেপ করাও যথেষ্ট।

২৫। এবং এসব দ্বারা ইস্তিজমার না করাঃ

ক। পশু পাখির মল-মূত্র, হাড় ইত্যাদি; যেসবের ব্যপারে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম নিষেধ করেছেন।

খ। এবং সে সকল কিছু যার ব্যপারে তার জন্যে হারাম হবার আদেশ রয়েছে।

 

 

 

পাদটীকা

 

[১] আব্দুল্লাহ বিন জা’ফার রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (রাসুলুল্লাহﷺ এর নিকট তাঁর প্রয়োজনীয়তা আদায়ের সময় যার দ্বারা পর্দা করা সবচাইতে পছন্দনীয় ছিল তা হচ্ছে কোন বড় বস্তু অথবা খেজুড়ের ঝোপ।) ইবনু আসমা এ হাদিস সম্বন্ধে বলেন, এর অর্থ খেজুড় গাছের দেওয়াল। (মুসলিম ৩৪২)

[২] মুগিরাহ বিন শু’বাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (আমি নবী ﷺ এর সাথে এক সফরে ছিলাম। তিনি বললেন, ও মুগিরাহ, “পাত্রটি নাও”। আমি তা নিলাম। এর পর রাসুলুল্লাহ ﷺ আমার হতে সরে গেলেন যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি আমার চোখের আড়ালে চলে গেলেন। এর পর তিনি তাঁর প্রয়োজনীয়তা সম্পাদন করলেন। (বুখারি ৩৬৩, মুসলিম ২৭৪)

[৩] আবু হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেন, তোমরা দুই অভিশপ্তদের ব্যপারে সাবধান! তাঁরা (সাহাবীরা) বলল, কারা এই দুই অভিশপ্তদ্বয় ও রাসুলুল্লাহ? তিনি বললেন, “যে রাস্তায় মল-মূত্র ত্যাগ করে, অথবা তাদের ছায়ায়।”(মুসলিম ২৬৯)

মু’আয বিন জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন, (সাবধান তিন প্রকার অভিশপ্তদের ব্যপারেঃ কুয়া/ঝর্নাতে ও রাস্তার মাঝে ও ছায়ায় মলত্যাগকারী।(আবু দাউদ ২৬, ইবনু মাজাহ ৩২৮, হাকিম ১/২৫৯, বায়হাকী ১/১৫৮)

আল হাকিম বলেছেন, (এই হাদিসটির সনদ সাহীহ।) আয যাহাবী তাঁর সাথে একমত হয়েছেন। এর সনদকে আন নাওয়াওয়ী তাঁর মাজমু’ বইয়ে স্থান দিয়েছেন(২/৭২) এবং হাফিয ইবনু হাজার বলেছেন আত তালখিস গ্রন্থে বলেছেন (১/১১৫)ঃ (একে ইবনু সাকান ও হাকিম সাহীহ বলেছেন, কিন্তু এতে সমস্যা রয়েছে। কেননা আবু সা’ঈদ মু’আয থেকে শোনেননি। আর এ হাদিসটি এই সনদ ব্যতীত জানা যায় না। এ কথা বলেছেন ইবনু কিত্তান।)

আল আলবানী বলেছেন, এই হাদিসের কিছু শাওয়াহীদ (সাক্ষী হাদিস সমষ্টি যারা অন্য সনদে হলেও তাদের বক্তব্য এক) রয়েছে যারা একে হাসান পর্যায়ে উন্নীত করে এ বিষয়ে কম হাদিস থাকায়।)

এবং আহমাদ (১/২৯৯) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস হতে এবং এতে বাড়তি যোগ করেছেন, “অথবা জমা পানিতে।” আল হাফিয ইবনু হাজার আল আসকালানী বলেছেন আত তালখীস গ্রন্থে (১/১১৫)ঃ (এতে দূর্বলতা রয়েছে ইবনু বাহী’আহ এর কারণে, আর আব্দুল্লাহ ইবনু আব্বাস হতে রেওয়ায়াতকারী রাওয়ী দোষারোপকৃত)

[৪] বুখারী (৩৯৪), মুসলিম (২৬৪), আবু আইয়ুব আল আনসারী রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনাকৃত।

[৫] সালমান রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, (রাসুলুল্লাহ ﷺ আমাদের তিনটি পাথরের কম পাথর দ্বারা ইস্তিনজা করতে মানা করেছেন। অথবা গোবর বা হাড় দ্বারা ইস্তিনজা করতে। ) মুসলিম (২৬২)

এবং আব্দুল্লাহ বিন মাস’উদ রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেছেন, (নবী ﷺ মল ত্যাগ করলেন, তখন আমাকে আদেশ করলেন তাঁকে তিনটি পাথর নিয়ে আসবার জন্যে। আমি দুটো পাথর খুঁজে পেলাম। তৃতীয়টি আমি খুঁজলাম কিন্তু পেলাম না। তখন আমি গোবর খুঁজে নিলাম। তখন আমি তা নিয়ে হাজির হলাম। তখন তিনি দুটো পাথর নিলেন, গোবরটিকে ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। এবং বললেন, এটি বর্জনীয়।) বুখারী (১৫৬)