মূলঃ শাইখ আব্দুর রাহমান বিন নাসির আস সা’দি
তা’লীক্কঃ আব্দুল্লাহ বিন যা’ল আল ‘ইনযী
অনুবাদঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

 

باب الإستنجاء و آدب قضاء الحاجة – ইস্তিঞ্জা ও প্রয়োজনীয়তা আদায় (মল-মূত্র ত্যাগ) করবার আদব অধ্যায় উপপর্ব – ১

১৬। পায়খানায় প্রবেশ করবার সময় মুস্তাহাব হচ্ছে বাম পা[১] দিয়ে প্রবেশ করা এবং বলাঃ

بسم الله

বিসমিল্লাহ্‌[২]

اللهم إني اعوذ بك من الخبث و الخبائث

আল্লাহুম্মা ইন্নি আউ’যু বিকা মিনাল খুবথি ওয়াল খাবাইথ।[৩]

১৭। আর যদি তা হতে বাহির হয়ঃ

ক। ডান পা আগে বাড়ানো।

খ। এবং বলাঃ

غفرانك

গুফরানাকা।[৪]

الحمد لله الذي اذهب عني الأذى و عافاني

আলহামদুলিল্লাহিল্লাযি আযহাবা আ’ন্নিল আযা ওয়া আ’ফানি।[৫]

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি আমার হতে কষ্ট দূর করেছেন এবং আমাকে নিস্তার দিয়েছেন।

১৮। বসবার সময় সে তার বাম পায়ের উপর ভর দেবে এবং ডান পায়ের উপর হালকাভাবে বসবে।[৬]

 

 

পাদটীকা

[১] কেননা সাধারণভাবে আ’য়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহার হাদিস হতে বর্ণিত, তিনি বলেছেন,

كان النبي يعجبه التيمن في تنعله و ترجله و طهوره  و في شئنه كله

নবী ﷺ পছন্দ করতেন ডান দিক ব্যবহার করা জুতো পরিধান, চুল আঁচড়াবার, পরিষ্কার হওয়ার ক্ষেত্রে এবং তাঁর সকল ক্ষেত্রে।(বুখারী ৫৩৮০, মুসলিম ২৬৭)

আন নাওয়াওয়ী রাহিমাহুল্লাহ এই হাদিসের ব্যাখ্যায় বলেছেন,

এটি শারিয়াতে একটি قائدة مستمرة (কায়িদাহ মুস্তামাররাহ, বা চলমান নিয়ম) আর তা হচ্ছে, যা কিছুই সৌজন্যতা, সম্মান প্রদর্শন ইত্যাদির দৃষ্টিকোণ হতে – যেমন জুব্বা, সিরওয়াল, মোজা পরিধান করা ইত্যাদি বা মাসজিদে প্রবেশ করা বা মিসওয়াক ব্যবহার করা, সুরমা দেওয়া, নোখ কাঁটা, গোঁফ ছাটা, চুল আঁচড়ানো, বগল পরিষ্কার করা, চুল কাঁটা, সালাতের মধ্যে সালাম, পরিচ্ছন্নতা অর্জনে শরীরের অঙ্গসমূহ ধৌত করা, শৌচাগার হতে বাহির হওয়া, খাবার খাওয়া, পান করা, হাত মেলানো, হাজর আল আসওয়াদ (কাবা ঘরের কালো পাথর)কে পরিদর্শন এবং অন্যান্য সকল কিছু যা এ অর্থে – এ সকল ক্ষেত্রে ডান দিক হতে করাই মুস্তাহাব। আর যে সকল বিষয় এর উল্টো – যেমন শৌচাগারে প্রবেশ করা, মাসজিদ হতে বাহির হওয়া, নাক ঝাড়া, ইন্তিঞ্জা (মূত্র ত্যাগের পর পানি ব্যবহার করা), পোশাক, সিরওয়াল, মোজা খোলা এবং এ প্রকার যা কিছু আছে – এ সকল ক্ষেত্রে বাম দিক হতে করাই মুস্তাহাব। আর এ সকল কিছুই ডান দিকের সুউচ্চ সম্মানের কারণে। (সহীহ মুসলিমের ব্যাখ্যা,  আন নাওয়াওয়ী, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬০)

[২] আলী ইবনু আবি তালিব রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনাকৃত, রাসুলুল্লাহ ﷺ বলেছেন,

ستر ما بين أعين الجن و عورات بني آدم إذا دخل أحدكم الخلاء, أن يقول بسم الله

যা জিনের নজর এবং আওরাহ (শারীয়াতমতে ঢেকে রাখবার হুকুম এমন শারীরিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ সমূহ) এর মধ্যে পর্দা করা হল, যদি কেউ বলে বিসমিল্লাহ্‌। (তিরমিযী ৬০৬, ইবনু মাজাহ ২৯৭)

আত তিরমিযী বলেন, (এই হাদিসটি গরীব আর আমরা একে এ রূপ ব্যতীত আর কোন রূপে দেখি না। আর এর সনদও শক্তিশালী নয়। ) আল মুনাওয়ী বলেন, (এই লেখক – অর্থাৎ আস সুয়ুতি- এই হাদিসের সত্যতা সম্পর্কে  এই ইঙ্গিত করেছেন – আল জামে’ আস সাগীর গ্রন্থে- এটি যেভাবে বর্ণিত হয়েছে অথবা আরও উঁচু। নিশ্চিতভাবে মুগলাতাঈ এর সত্যটার দিকেই ঝুঁকেছেন। তিনি যখন তিরমিযী হতে এই বক্তব্য উল্লেখ নকল করেছেন যে তা শক্তিশালী নয়, তখন তিনি বলেন, “আমি জানি না কি তাঁকে এ কথা বলতে বাধ্য করল, কেননা এই সনদে যারা রয়েছেন তাদের ব্যপারে এ রূপ হতে সে রূপে কোন প্রকার অভিযোগ পাওয়া যায় না। বরঞ্চ যদি বক্তা বলতেন যে এই সনদটি সাহীহ তবে সেটাই সঠিক হত।” ) (ফাইদুল কাদীর, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৯৬) শাইখ আহমাদ শাকির বলেন, (যদি এটি সাহীহ নাও হয়, তবে এ হাদিসটি কমপক্ষে হাসান) (আহমাদ শাকির কর্তৃক সত্যতা যাচাইকৃত সুনান তিরমিযী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৫০৪) আল আলবানী একে সাহীহ বলেছেন, তাঁর সিলসিলাতুল আহাদিস আস সাহীহাহ গ্রন্থে, যার সংখ্যা ৩৬১১। আর তিনি আরও বলেন ইরওয়া আল গালীল গ্রন্থে (এই হাদিসটি সাহীহ তার সকল রাস্তা হতে।) (খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৮৯)

ফায়দাহঃ আন নাওওয়ায়ী বলেন, এই আদবটি পালন করা মুস্তাহাব হওয়ার বিষয়টি সর্বজন স্বীকৃত। আর তা লোকালয় বা জনশূন্য স্থান নির্বিশেষে। (আল মাজমু’, আন নাওওয়ায়ী, খন্ড ২, পৃষ্ঠা ৬২)

[৩] আনাস বিন মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন, (নবী ﷺ যদি শৌচাগারে প্রবেশ করতেন, তবে বলতেনঃ

اللهم إني اعوذ بك من الخبث و الخبائث

ও আল্লাহ্‌ আমি আশ্রয় প্রার্থনা করছি তোমার কাছে খুবথ আর খাবাইথ হতে। ) (বুখারী ১৪২, মুসলিম ৩৭৫)

[৪] আয়িশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, যদি নবী ﷺ শৌচাগার হতে বাহির হতেন, তবে বলতেন,

غفرانك

আপনার নিকট ক্ষমাপ্রার্থী। (আহমাদ ২/১৫৫, তিরমিযী ৭, আবু দাউদ ৩০, ইবনু মাজাহ ৩০০, হাকিম ১/২৪৮, দারিমী ১/১১৬, ইবনু খুযাইমাহ ১/৮৭, বায়হাকী ১/১৫৬)

আত তিরমিযী বলেন, (এই হাদিসটি হাসান গরীব।) আল আইনী বলেন, (আবু হাতিম আর রাযী বলেন, এটিই এ বিষয়ে সব চাইতে সাহীহ।) দেখুন উমদাতুল কারী ২/২৭২-২৭৩। একে সাহীহ বলেছেন আল হাকিম, আবু হাতিম আর রাযী, ইবনু খুযাইমাহ, ইবনু হিব্বান, ইবনু জারুদ, আন নাওওয়ায়ী, আধ ধাহাবী ও আল আলবানী। দেখুন আন নাওওয়ায়ীর আল মাজমু’ ২/৬৪, গালীল ১/৯১।

[৫] আনাস ইবনু মালিক বলেন, যদি নবী ﷺ শৌচাগার হতে বাহির হতেন, তবে বলতেন,

الحمد لله الذي اذهب عني الأذى و عافاني

সকল প্রশংসা আল্লাহ্‌র যিনি আমার হতে কষ্টদায়ক বিষয় সমূহ দূর করে দিয়েছেন এবং আমাকে নিস্তার দিয়েছেন। (ইবনু মাজাহ, ৩০১)

আন নাওওয়ায়ীর আল মাজমু’ তে একে দূর্বল হাদিস বলেছেন (২/৬৪)। আল মুনাওয়ী বলেন, (আবু দাউদের ব্যাখ্যাকারী ইবনু মাহমুদ বলেন, এর সনদ মুধতারিব যা শক্তিশালী নয়। আদ দারাকুতনী বলেন, এই হাদিসটি মাহফুয নয়। আল মুনযিরী বলেন, দুর্বল। ইবনু মাজাহ গ্রন্থের ব্যাখ্যায় মুগলাতাঈ বলেন, হাদিসটি দুর্বল।) (ফাইদুল কাদীর, ৫/১২২)

আল ইরওয়া গ্রন্থে আল আলবানী বলেন, দুর্বল। (১/৯১)

[৬] সারাকাহ ইবনু মালিক রাদিয়াল্লাহু আনহু বলেন,

علمنا رسول الله صلى الله عليه و سلم إذا دخل أحدنا الخلاء أن يعتمد اليسرى و ينصب اليمنى

আমাদের রাসুলুল্লাহ ﷺ শিখিয়েছেন, যদি আমাদের কেউ শৌচাগারে প্রবেশ করে তবে সে যেন তার বাম পায়ের উপর ভর দেয় এবং ডান পায়ের উপর হালকাভাবে বসে। (বায়হাকী ১/১৫৬, এই বর্ণনার শব্দ চয়ন এখান থেকেই), (আল কাবির, আত তাবারানী, ৭/১৩৬)

আন নাওওয়ায়ী একে দুর্বল ঘোষণা করেছেন তাঁর মাজমু’ গ্রন্থে, ২/৭৪। আল হাইথামী বলেন, (এতে এমন লোক রয়েছে যাদের নাম উল্লেখ করা হয়নি।)(মাজমু’ আয যাওয়াঈদ, ১/৪৮৮)। ইবনু হাজার বলেন বুলুগুল মারামের ৩৬ পৃষ্ঠায়ঃ এটি আল বায়হাকী দুর্বল সনদে বর্ণনা করেছেন। শাইখ ইবনু বায বলেন, (বায়হাকীতে পাওয়া এ হাদিসের সনদে দুজন অজ্ঞাত লোক রয়েছে, আর এর মাধ্যমেই এর দুর্বল রূপ প্রকাশ পায়, যেভাবে লেখক রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেছেন।) (হাশিয়াতু ইবনু বায ‘আলা বুলুগিল মারাম ১/১১৬)