মূলঃ আব্দুর রাহমান বিন নাসির আস-সাদী
অনুবাদঃ মুহাম্মাদ আসিম উল্লাহ নাবিল ইবন মুহিব
সংশোধন ও পুনঃনিরীক্ষণঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

 

চৌদ্দতম প্রশ্ন :  কদর এ বিশ্বাস কতপ্রকার এবং কি কি? এর স্তরগুলো কি কি?

উত্তরঃ এটি চার স্তরের। এবং একজন ব্যক্তি এগুলোর সবগুলো না জেনে আল-কদরে পরিপূর্ণ বিশ্বাস রাখতে পারে না।  এগুলো হলঃ

১। এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ সবকিছুর ব্যাপারে জ্ঞান রাখেন এবং  তাঁর জ্ঞান সবকিছুকে পরিবেষ্টন করে রাখে। তাঁর রয়েছে যে কোন ক্ষুদ্র বা বৃহৎ বিষয় সম্পর্কিত পরিপূর্ণ জ্ঞান ।

২। এর সব কিছুই তিনি আল-লাওহে আল-মাহফুয (সংরক্ষিত ফলক)–এ লিপিবদ্ধ করেছেন।

৩। এর সব কিছুই সংঘটিত হয় তাঁরই অনুমতিক্রমে ও তাঁর ক্ষমতাবলে এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন সে অনুযায়ী। এবং তিনি যা ইচ্ছা না করেন তা বাস্তবায়িত হয় না।

৪। এছাড়াও তিনি তাঁর বান্দাদের নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাদের তাদের কর্ম সম্পাদনের অনুমতি দেন। যেমন আল্লাহ উল্লেখ করেনঃ

“তুমি কি জান না যে, আল্লাহ জানেন যা কিছু আকাশে ও ভুমন্ডলে আছে এসব কিতাবে লিখিত আছে। এটা আল্লাহর কাছে সহজ”। (সূরা হাজ্জ ২২:৭০)

“তার জন্যে, যে তোমাদের মধ্যে সোজা চলতে চায়। তোমরা আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের অভিপ্রায়ের বাইরে অন্য কিছুই ইচ্ছা করতে পার না”। (সূরা তাকওয়িইর ৮১:২৮-২৯)

 

পনেরতম প্রশ্ন : শেষ দিনে বিশ্বাস সম্পর্কিত ঈমানের সংজ্ঞা কি? এবং এতে  কি কি রয়েছে? 

উত্তরঃ মৃত্যুর পর যা কিছু ঘটবে তার সবকিছুই যা আমাদের কাছে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর মাধ্যমে এসেছে- তার ওপর বিশ্বাস করা  শেষ দিনে বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত।

যেমন, একজন ব্যক্তির তার কবর এবং বারযাকের অবস্থা এগুলোর  অন্তর্ভুক্ত। এর আরাম এবং শাস্তি,  কেয়ামতের বিভিন্ন ঘটনাবলী এবং এতে যা রয়েছে হিসাব-পুরস্কার ও শাস্তি থেকে, কৃতকর্মের বই, মিজান ও  সুপারিশ, জান্নাত ও জাহান্নামের অবস্থা, তার বিবরণ, এর অধিবাসীদের বিবরণ এবং আল্লাহ তাদের জন্য যা কিছু প্রস্তুত রেখেছেন- সাধারণভাবে এবং বিস্তারিতভাবে এর সব কিছুই শেষদিনের ঈমানের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

 

ষোলতম প্রশ্ন : নিফাক বলতে কী বোঝায়? তার ধরণ এবং বৈশিষ্ট্যাবলী কি?

উত্তরঃ নিফাক (কপটতা) হল ভালো কাজের বাহ্যিক প্রদর্শন, তথাপি অন্তরে মন্দ ইচ্ছা পোষণ করা। এটি দুই ধরনের হয়:

প্রথম প্রকার: নিফাক আল-আকবর (বড় নিফাক) যা বিশ্বাসে নিফাক, যা একজন ব্যক্তির চিরস্থায়ী আগুনে বাসিন্দা হওয়ার কারণ। এর একটি উদাহরণ হল যা আল্লাহ আমাদের মুনাফিকদের  সম্পর্কে অবগত করেছেনঃ

“ আর মানুষের মধ্যে কিছু লোক এমন রয়েছে যারা বলে, আমরা আল্লাহ ও পরকালের প্রতি ঈমান এনেছি অথচ আদৌ তারা ঈমানদার নয়” । সূরা বাকারাহ ২:৮

এই আয়াতটি যারা কুফর গোপনে করে এবং বাহ্যিকভাবে ইসলাম প্রদর্শন করে তাদের সংক্রান্ত।
দ্বিতীয় প্রকার: নিফাক আল-আসগর (ছোট নিফাক), যা কর্মের মধ্যে নিফাক। এর  উদাহরণ হল রাসূল (ﷺ) যা উল্লেখ করেছেন তাঁর বক্তব্যেঃ “মুনাফিকের লক্ষণ তিনটি: যখন সে কথা বলে সে মিথ্যা বলে, যখন সে ওয়াদা করে, তা ভঙ্গ করে এবং যখন তাকে বিশ্বাস করা হয় তার খেয়ানত করে”। (বুখারী ও মুসলিম, আবু হুরায়রা থেকে বর্ণিত)

কুফর আল আকবর বা নিফাকে পতিত হলে ঈমান থাকা বা আমল করা স্বত্বেও এসব কোন কল্যাণ বয়ে আনে না।
নিফাক আল আসগর ঈমানের সাথে উপস্থাপিত হতে পারে এবং এটা সম্ভব যে একজন ব্যক্তির মধ্যে ভাল ও মন্দ দুইই থাকতে পারে এবং একইভাবে পুরস্কার ও শাস্তির কারণগুলোও থাকতে পারে।

 

এই পর্ব থেকে আমরা যা শিখলামঃ

  • কদর এ বিশ্বাস চার স্তরের। এগুলো হলঃ ১। এ বিশ্বাস রাখা যে আল্লাহ সবকিছুর ব্যাপারে জ্ঞান রাখেন এবং  এই জ্ঞান  ক্ষুদ্র বা বৃহৎ যে কোন বিষয় সম্পর্কে অবহিত ২। এর সব কিছুই তিনি আল-লাওহে আল-মাহফুয লিপিবদ্ধ করে রেখেছেন। ৩। এর সব কিছুই সংঘটিত হয় তাঁরই অনুমতিক্রমে ও তাঁর ক্ষমতাবলে এবং তিনি যা ইচ্ছা করেন সে অনুযায়ী।  ৪। এছাড়াও তিনি তাঁর বান্দাদের নিজেদের স্বাধীন ইচ্ছা ও ক্ষমতা অনুযায়ী তাদের তাদের কর্ম সম্পাদনের অনুমতি দেন।
  • মৃত্যুর পর যা কিছু ঘটবে তার সবকিছুই বিশ্বাস করা শেষ দিনে বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত। কবর, বারযাকের অবস্থা, এর আরাম এবং শাস্তি, কেয়ামতের বিভিন্ন ঘটনাবলী, হিসাব-পুরস্কার ও শাস্তি, কৃতকর্মের বই, মিজান ও  সুপারিশ, জান্নাত ও জাহান্নাম ও এদের অধিবাসীদের অবস্থা – এর সব কিছুই শেষদিনে বিশ্বাসের অন্তর্ভুক্ত।
  • নিফাক হল ভালো কাজের বাহ্যিক প্রদর্শন, তথাপি অন্তরে মন্দ ইচ্ছা পোষণ করা। বড় নিফাক হল বিশ্বাসে নিফাক থাকা, যা একজন ব্যক্তির চিরস্থায়ী আগুনে বাসিন্দা হওয়ার কারণ। ছোট নিফাক হল কর্মের মধ্যে নিফাক থাকা। বড় নিফাকে পতিত হলে ঈমান থাকা বা আমল করা স্বত্বেও তা বাতিল বলে গণ্য হবে।