মূলঃ আব্দুর রাহমান বিন নাসির আস-সাদী
অনুবাদঃ মুহাম্মাদ আসিম উল্লাহ নাবিল ইবন মুহিব
সংশোধন ও পুনঃনিরীক্ষণঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

দ্বাদশ প্রশ্ন: আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিস্তারিত বর্ণনা বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ আমরা আমাদের অন্তরে ও আমাদের জবানে এ কথা স্বীকার করি যে যে আল্লাহ ওয়াজিব আল ওযুদ (তাঁর অস্তিত্বের অপরিহার্যতা )। তিনি এক, অনন্ত, অনন্য এবং প্রতিটি পরিপূর্ণতা, মহানুভবতা, এবং সুমহান গুনাবলীতে অদ্বিতীয়। আল্লাহ পরিপূর্ণতার সর্বোচ্চ অধিকারী।   যা কোন সৃষ্ট হৃদয়ঙ্গম করার ক্ষমতা রাখে না।

তিনি আল-আওয়াল (সর্বপ্রথম) এবং তাঁর আগে কিছুই ছিল না।

তিনি আল-আখির (সর্বশেষ) এবং তাঁর পরে কিছুই নেই।

তিনি আদ-দাহির (সর্বোচ্চ) এবং তাঁর উপরে কোন কিছুই নেই।

তিনি আল-বাতিন (সর্বনিকটস্থ) এবং তাঁর চেয়ে নিকটতম আর কেউ নেই।

তিনি আল-আলী (সর্বোচ্চ); তাঁর স্বত্বায়, তাঁর  ক্ষমতায় এবং তাঁর শক্তিতে তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন।

তিনি আল-আলিম (সর্বজ্ঞ) এবং আল-কাদির (সর্বক্ষমতার অধিকারী) সবকিছুর উপর।

তিনি আস-সামী (সর্ব শ্রোতা) যে কোন ধরনের শব্দের ব্যপারে। হোক তা যে কোন ভাষা অথবা যে কোন প্রয়োজনীয় জ্ঞানের বিষয়ে।

তিনি আল-বাসির (সর্বদ্রষ্টা), আল- হাকিম (সর্ববিজ্ঞ) তাঁর সৃষ্টি এবং শরীয়তে।

তিনি আল হামিদ (সুপ্রশংসনীয়) তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর কাজ সমূহে।

তিনি আল-মজিদ (মহিমান্বিত) তাঁর মহিমা এবং তাঁর সম্মানে।

তিনি আর-রাহমান এবং আর-রহীম যার রহমত সুবিস্তৃত এবং সবকিছুর উপর সুবিস্তৃত। তার মহানুভবতা এবং দান সকল অস্তিত্বমানের উপর বিস্তৃত।

আল-মালিক (প্রভু), তাঁর রাজত্ব, তাঁরই জন্য সকল সার্বভৌম ক্ষমতা। তাঁর জন্যই সেই বিশেষণঃ আল মুলক (সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী)। প্রতিটি রাজ্যই তাঁরই সাম্রাজ্য। উচ্চ এবং নিম্ন সকলকিছুই তাঁর মালিকানাধীন এবং তাঁর বান্দা। এবং সব কিছুর উপর তাঁর রয়েছে পরিপূর্ণ কর্তৃত্বাধীনতা।

তিনি আল-হাই (অনন্তকাল জীবিত) যার রয়েছে একটি সম্পূর্ণ  জীবন যা সকল স্বত্বাগত গুণের উপর স্থাপিত।

তিনি আল-কাইয়্যুম (স্বনির্ভর) যিনি নিজেই স্থাপিত (স্বাধীন এবং স্বনির্ভর) এবং অন্যের উপরও স্থাপিত (অর্থাৎ তাদের ভরণ পোষণ করেন)।

তাঁর সব কর্মের গুণাবলী তাঁরই জন্য।  তিনি যা ইচ্ছে করেন তাই ঘটে।  এবং তিনি যা ইচ্ছে করেন না তা ঘটে না।

তিনি আমাদের রব (প্রভু), আল-খালিক (স্রষ্টা), আল-বারি (সত্য ইলাহ), আল-মুসাওয়ির (যিনি সৃষ্টি করেছেন, যেভাবে তিনি পরিকল্পনা করেছেন)। তিনি সৃষ্টিকে অস্তিত্ব এবং পরিপূর্ণতা দেন। সর্বোত্তম পন্থায় সবকিছু সংগঠিত করেন।

আর তিনি হচ্ছেন আল্লাহ্ যিনি ব্যতীত অন্য কোন ইলাহ নেই।

তিনি আল মা’বুদ (উপাস্য) যার ব্যতীত আর কারো জন্যে ইবাদাতের প্রাপ্তি প্রযোজ্য নয়।

আল্লাহ ব্যতীত অন্য কেউ আমাদের বিনম্রতা, আত্মসমর্পণ এবং নির্ভরতার যোগ্য নন।

তিনি আল-ওয়াহিদ (এক), আল-কাহহার (মহাপরাক্রান্ত), আল-আজিজ (মহাশক্তিধর) এবং আল-গাফফার (মহা ক্ষমাশীল)।

আমরা এক তাঁরই এবাদত করি, শুধুমাত্র তাঁরই সাহায্য চাই। তাঁর প্রতিই আমাদের সকল প্রত্যাশা এবং আমরা তাঁকে ভয় করি।

আমরা তাঁর দয়ার আশা করি কিন্তু তার বিচার ও শাস্তিকে ভয় করি। তিনি ছাড়া আমাদের আর কোন রব বা পালনকর্তা নেই। আমরা তাঁর থেকে মিনতি করি এবং তাঁর কাছে প্রার্থনা করি।  আমাদের আর কোন উপাস্য নেই। আমাদের আশা তাঁরই উপর, কারণ তিনি আমাদের ধর্ম এবং দুনিয়া এর শুদ্ধির মধ্যে আমাদের রক্ষাকর্তা এবং অভিভাবক । তিনি  সব দুষ্ট ও ক্ষতি থেকে  সর্বোত্তম সাহায্যকারী ।

 

ত্রয়োদশ প্রশ্ন : নবীদের উপর ঈমানের বিষয়ে বিশদ বর্ণনা দিন।

উত্তরঃ এটি আমাদের উপর বর্তায় যে, সাধারণভাবে ও বিস্তারিতভাবে সব নবী ও রসূলগণ যাদের জন্য নবুয়্যত ও রিসালাত দেওয়া হয়েছে হয়েছে তার উপর বিশ্বাস স্থাপন করা। আমরা বিশ্বাস করি সুমহান আল্লাহ তাঁদেরকে ওহী ও বার্তার মাধ্যমে নির্বাচন করেছেন। তিনি তাঁদেরকে তাঁর নিজ ও সৃষ্টের মাঝে পথ হিসেবে বানিয়েছেন তাঁর স্বীয় ধর্ম এবং তাঁর আইন প্রচারের লক্ষ্যে।

আল্লাহ তাঁদের সাহায্য করেছেন আয়াতের (লক্ষণ) মাধ্যমে যা তারা যা নিয়ে এসেছিলেন তার সত্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে নির্দেশ করে তাদের সমর্থন করেন । তাঁরা  জ্ঞান ও কর্মের মধ্যে সৃষ্টির সবচেয়ে নিখুঁত ছিলেন।  তাঁরা সবচেয়ে সত্যবাদী, ধার্মিক এবং নিখুঁত ছিলেন তাঁদের আচার আচরণ এবং কর্মের মধ্যে।

আল্লাহ তাদের জন্য কিছু গুণাবলী নির্ধারণ করেছেন যাতে কেউ অনুরূপ হতে না পারে এবং তাদের কোনরূপ ঘৃণ্য বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত করেছেন।  তারা তাদের পালনকর্তার বার্তা বহনে ত্রুটিমুক্ত ছিলেন।  যে কোন তথ্য যা তারা এনেছিলেন তা সত্য এবং সঠিক। এটি আমাদের উপর বাধ্যতামূলক যে তাদের সকলের উপর ঈমান আনা এবং সবকিছু যা তারা আল্লাহ থেকে এনেছিলেন। তাদের ভালবাসা, তাদের শ্রদ্ধা করা এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা দেয়া ওয়াজিব।

এই সব কিছুই  নবী (ﷺ) এর জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য যথাযথভাবে। আমাদের সর্বোচ সাধ্যের মধ্যে এটা আমাদের জন্য বাধ্যতামূলক তাঁর সম্পর্কে জ্ঞান রাখা এবং তিনি ঐশ্বরিক আইন সম্পর্কিত যা নিয়ে এসেছেন তা সম্পর্কে সম্পূর্ণ এবং বিস্তারিত জ্ঞান রাখা । আমাদের অবশ্যই তিনি যা আবশ্যক করেছেন তার প্রতি সত্যে অটুট থাকতে হবে। এবং আমাদের অবশ্যই তাঁকে সবকিছুতে মানতে হবে সত্যায়নের মাধ্যমে যা তিনি আমাদের অবহিত করেছেন এবং তাঁর হুকুম পালনে এবং তাঁর নিষেধাজ্ঞা  থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে।

আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করি তিনিই নবীদের মধ্যে সর্বশেষ, তাঁর পরে আর কোন নবী নেই। তিনি যে বিধান নিয়ে এসেছেন তা আগের সব শরীয়াহকে রহিত করেছে এবং তা শেষ সময় পর্যন্ত বলবত থাকবে।.

একজন ব্যক্তির তাঁর প্রতি তার বিশ্বাস পরিপূর্ণ হয় না যতক্ষণ না পর্যন্ত তিনি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে, যা কিছু রাসূলﷺ নিয়ে  এসেছিলেন তা সত্য। যে কোন যুক্তি, আবেগ, বা অন্য কোন প্রমাণ দ্বারা তিনি যা এনেছিলেন তার বিপরীতে যাওয়া অসম্ভব। বরং কারো সুস্থ বুদ্ধি ও অনুভূতি রাসূল ﷺ-কে বাস্তব ও সত্য হওয়ার সাক্ষ্য বহন করে।

 

 

এই পর্ব থেকে আমরা যা শিখলাম

  • আল্লাহর প্রতি ঈমানের বিস্তারিত বর্ণনা। তাঁর আগে কিছুই ছিল না, পরে কিছুই নেই। তাঁর উপরে কোন কিছুই নেই। তাঁর চেয়ে নিকটতম আর কেউ নেই। তাঁর স্বত্বায়, তাঁর  ক্ষমতায় এবং তাঁর শক্তিতে তিনি সর্বোচ্চ মর্যাদা সম্পন্ন। তিনি সর্বজ্ঞ এবং সর্বক্ষমতার অধিকারী।  তিনি সর্ব শ্রোতা, সর্বদ্রষ্টা,  এবং সর্ববিজ্ঞ । তিনি সুপ্রশংসনীয়, মহিমান্বিত। তিনি আর-রাহমান এবং আর-রহীম, আল-মালিক, আল-হাই, আল-কাইয়্যুম। তিনি আমাদের প্রভু, স্রষ্টা, সত্য ইলাহ। তিনি আমাদের উপাস্য, তিনি এক, মহাপরাক্রান্ত, মহাশক্তিধর এবং মহা ক্ষমাশীল। আমরা এক তাঁরই এবাদত করি, শুধুমাত্র তাঁরই সাহায্য চাই।
  • এ বিশ্বাস রাখা যে, নবী ও রসূলগণকে নবুয়্যত ও রিসালাত দেওয়ার জন্য ওহী ও বার্তার মাধ্যমে নির্বাচন করা হয়েছে । তাঁরা ছিলেন সবচেয়ে সত্যবাদী। আল্লাহ তাদের কোনরূপ ঘৃণ্য বৈশিষ্ট্য থেকে মুক্ত করেছেন। যে কোন তথ্য যা তারা এনেছিলেন তা সত্য এবং সঠিক। । তাদের ভালবাসা, তাদের শ্রদ্ধা করা এবং তাদের যথাযথ মর্যাদা দেয়া ওয়াজিব।
  • একইভাবে এই সব কিছুই নবী (ﷺ) এর জন্য বিশেষভাবে প্রযোজ্য যথাযথভাবে। আমরা অবশ্যই বিশ্বাস করি তিনিই নবীদের মধ্যে সর্বশেষ, তাঁর পরে আর কোন নবী নেই। তিনি যে বিধান নিয়ে এসেছেন তা আগের সব শরীয়াহকে রহিত করেছে এবং তা শেষ দিন পর্যন্ত বলবত থাকবে।.