মূলঃ আব্দুর রাহমান বিন নাসির আস-সাদী
অনুবাদঃ মুহাম্মাদ আসিম উল্লাহ নাবিল ইবন মুহিব
সংশোধন ও পুনঃনিরীক্ষণঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

 

 

অষ্টম প্রশ্নঃ মিল্লাতে (ধর্মে অন্তর্ভুক্ত) একজন মুসলিম ফাসিক(প্রকাশ্যে গুনাহকারী)-এর ব্যাপারে হুকুম কি?

উত্তরঃ কেউ যদি বিশ্বাসী এবং আল্লাহর একত্ববাদের উপর প্রতিষ্ঠিত ব্যক্তি হয়, কিন্তু তিনি ক্রমাগত পাপে লিপ্ত থাকেন তাহলে তার ঈমানের স্তর অনুযায়ী তিনি মু’মিন। ওয়াজিব পরিত্যাগের অনুযায়ী তিনি ফাসিক। সুতরাং, তার ঈমান থাকলেও তা হ্রাসপ্রাপ্ত। সে তার ঈমানের জন্য পুরস্কারের দাবিদার এবং  এর বিরূদ্ধাচরণের জন্য শাস্তির দাবি রাখে । তিনি জাহান্নামে খালিদ বা চিরস্থায়ী হবেন না। সুতরাং পরিপূর্ণ ঈমান জাহান্নামে প্রবেশে বাধা দেয় এবং হ্রাসকৃত ঈমান জাহান্নমে চিরস্থায়ী হওয়াতে বাধা দেয়।

 

 

নবম প্রশ্নঃ মু’মিনের কয়টি স্তর আছে? কি কি?

উত্তরঃ মু’মিনের স্তর তিনটি

– অগ্রবর্তী দল যারা সৎকাজে ধাবিত হয়। তারা  ওয়াজিব (বা বাধ্যতামূলক কর্মসমূহ) ও সেইসাথে মুস্তাহাব  (পছন্দনীয় কাজ) কায়েম করে।  যা কিছু হারাম ও মাকরূহ তা পরিত্যাগ করে।

– যারা এরচেয়ে কম করে। অর্থাৎ তারা ওয়াজিব কায়েমে ঘাটতি থাকে । হারাম পরিত্যাগেও তাদের ঘাটতি থাকে।

– শেষতঃ যারা নিজেদের উপর জুলুম করে। যারা নিজেদের ভালো কাজগুলো খারাপের সাথে মিলিয়ে ফেলে।

 

 

দশম প্রশ্নঃ মানুষের কর্মের হুকুম কী?

উত্তরঃ একজন ব্যক্তির সকল কর্ম – বাধ্যতা বা বিরুদ্ধাচরণ- সবই আল্লাহর সৃষ্টি থেকে। হয় তাঁর হুকুম অথবা ক্ষমতা থেকে। যদিও বান্দা হল তারা যারা কর্ম সম্পাদন করে, এবং তারা আল্লাহর দ্বারা এ কাজ করতে বাধ্য নয়।

একইসাথে, কোন কাজ বান্দার ইচ্ছা, ক্ষমতা এবং কর্ম সম্পাদনের মাধ্যমে সংঘটিত হয়। বাস্তবে কর্ম বান্দা দ্বারাই সম্পন্ন হয় এবং কর্ম তাদের উপর আরোপিত হয়। এর উপরে এই বান্দাকে পুরস্কৃত বা বিচার করা হয়। একইসাথে, কর্মগুলো আল্লাহর সৃষ্ট। আল্লাহ সকল বান্দাদের সৃষ্টি করেছেন এবং তাদের ইচ্ছা ও ক্ষমতাসমূহকেও এবং এ কিছু দ্বারা যা কিছু সংগঠিত হয়- তাও সৃষ্টি করেছেন।

সুতরাং আমরা বিশ্বাস করি আল কিতাব এবং আস সুন্নাতের সে সকল লেখনীকে যা নির্দেশ করে আল্লাহ্র সৃষ্টি ও তাঁর ক্ষমতা প্রত্যেক কিছুর ব্যপারে – তাঁর চোখ, তাঁর গুণাবলী এবং তাঁর কর্মসমূহের উপর – ঠিক যেভাবে আমরা বিশ্বাস করি আল কিতাব এবং আস সুন্নাতের সে সকল লেখনীকে যা নির্দেশ করে এ দিকে যে বান্দাই সত্যিকার অর্থে কর্ম সম্পাদনকারী – হোক তা ভালো অথবা মন্দ। আর তারা তাদের কর্মসমূহ বেছে নেয়। নিশ্চিতভাবে আল্লাহ্ তাদের ক্ষমতা ও ইচ্ছার স্রষ্টা, আর দুটো তাদের কর্ম ও বক্তব্য বাস্তবায়িত হওয়ার কারণ। আল্লাহই পরিপূর্ণ কারণের ও ফলাফলের স্রষ্টা। কিন্তু আল্লাহ্ তাদেরকে এ সকল কাজ জোরপূর্বক করানো হতে অনেক মহান এবং ন্যায়পরায়ণ।

 

 

এগারতম প্রশ্নঃ শিরক কী এবং তার প্রকারগুলো কি কি?

উত্তরঃ শিরক (আল্লাহ সঙ্গে অংশীদার) দুই ধরনেরঃ  রুবুবিয়্যাহর মধ্যে শিরক, যা একজন ব্যক্তির এ বিশ্বাস করা যে আল্লাহর ক্ষমতায় সৃষ্টি বা নিয়ন্ত্রণে অন্য কোন অংশীদার রয়েছে।

দ্বিতীয় প্রকার হল ইবাদতের মধ্যে শিরক। এই প্রকার শিরকের আবার দুটি শাখা রয়েছে– বড় শিরক ও ছোট শিরক।

– বড় শিরক হল যখন একজন ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে ইবাদাতের কোন প্রকার করে। উদাহরণস্বরূপ আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো কাছে দু’আ করা বা আশা করা বা ভয় করা।  এই ধরণের কাজ একজন ব্যক্তিকে ইসলাম থেকে বের হয়ে যাওয়ার কারণ হয় এবং এর জন্য জাহান্নামে অনন্তকাল অবস্থান করতে হবে।

– ছোট শিরক হল বড় শিরকের দিকে কোন প্রকার মাধ্যম বা প্রশস্ত রাস্তা, যা ইবাদাতের পর্যায়ে পৌঁছায় না। যেমনঃ যেমন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন কিছুর নামে শপথ করা বা রিয়া (লোক দেখানো কাজ) বা অনুরূপ কর্মসাধন।

 

 

এই পর্ব থেকে আমরা যা শিখলাম

  • ক্রমাগত পাপে লিপ্ত একজন ফাসিকের দুর্বল ঈমানের অধিকারী। সে তার ঈমানের জন্য পুরস্কারের দাবিদার এবং এর বিরূদ্ধাচরণের জন্য শাস্তির দাবি রাখে । কিন্তু জাহান্নামে খালিদ বা চিরস্থায়ী হবে না।
  • মু’মিনের তিনটি স্তররের মধ্যে অগ্রবর্তী দলটি দ্রুত সৎকাজে ধাবিত হয়। তারা  ওয়াজিব,  মুস্তাহাব কাজ পালনের সাথে সাথে  সব ধরণের হারাম ও মাকরূহ কাজ পরিত্যাগ করে। পরবর্তী দলটির ওয়াজিব কাজ পালন ও হারাম পরিত্যাগে ঘাটতি থাকে । আর শেষ দলটি নিজেদের ভালো কাজগুলো খারাপের সাথে মিলিয়ে ফেলার মাধ্যমে নিজেদের উপর জুলুম করে।
  • আল্লাহর ক্ষমতায়, সৃষ্টি বা নিয়ন্ত্রণে অন্য কোন অংশীদার মানা, আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে ইবাদাত করা, শপথ করা বা রিয়া- সবই শিরকের অন্তর্ভুক্ত।