মূলঃ আব্দুর রাহমান বিন নাসির আস-সাদী
অনুবাদঃ মুহাম্মাদ আসিম উল্লাহ নাবিল ইবন মুহিব
সংশোধন ও পুনঃনিরীক্ষণঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

 

চতুর্থ প্রশ্নঃ আল্লাহর সৃষ্টির ঊর্দ্ধে অবস্থান ও তাঁর আরশ বা রাজ-আসনে আরোহনের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?

উত্তরঃ আমরা জানি যে, আমাদের পালনকর্তা সবচেয়ে উচ্চ, তিনি সবকিছুর ঊর্দ্ধে। অর্থাৎ সম্ভাব্য সব অর্থ এবং ধারণার ঊর্দ্ধে। তিনি উচ্চ তাঁর মূল, পদমর্যাদা, গুণাবলী, আয়ত্তিতে।
তিনি স্বতন্ত্র ও তাঁর সৃষ্টি থেকে পৃথক। তিনি তার রাজ আসনে আরোহন করেছেন ঠিক সেভাবে যেভাবে তিনি নিজে তা তাঁর নিজের জন্য বর্ণনা করেছেন। সুতরাং, ঊর্ধে আরোহনের বিষয়টি পরিচিত হলেও এর কৈফিয়ত বা ধরন অজানা। তিনি আমাদের তাঁর রাজ আসনে আরোহনের ব্যপারে জানিয়েছেন, কিন্তু কিভাবে আরোহন করেছেন তা জানাননি। [১]একইভাবে আমরা আল্লাহর সব গুণাবলীর জন্যও বলব, তিনি আমাদের তাঁর গুণাবলী সম্পর্কে বলেছেন কোনরূপ কৈফিয়ত বা ধরন ব্যতীত। আমাদের জন্যে এটি অবশ্য কর্তব্য যে, তাঁর কিতাবে ও রাসূল (ﷺ) এর বক্তব্যে যা কিছু অবহিত করা হয়েছে তাতে আমরা ঈমান আনব কোনরূপ বৃদ্ধি বা বর্জন ব্যতীত।

 

পঞ্চম প্রশ্নঃ আল্লাহর রহমত ও অবতরণের ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কি?

উত্তরঃ আল্লাহ নিজের জন্য যা কিছু বর্ণনা করেছেন তার সবটুকু সহ তাঁর রহমত, তাঁর সন্তুষ্টি ও তাঁর অবতরণ – আমরা তা বিশ্বাস করি ও সাব্যস্ত করি । আমরা আরও বিশ্বাস ও সাব্যস্ত করি তাঁর গুণাবলী গুলোও যেভাবে রাসূল (ﷺ) আল্লাহর বর্ণনা করেছেন। আমরা এগুলো এভাবে গ্রহণ করি যা আল্লাহকে কোন সৃষ্টির সাথে সাদৃশ্য না করে, কেননা কোন কিছুই তাঁর অনুরূপ নয়। [২]

ঠিক যেভাবে আল্লাহ্‌র মূল রয়েছে যার সাথে অন্য মূল সমূহের কোন তুলনা নেই, তেমনি তাঁর রয়েছে সুউচ্চ গুণাবলী, কিন্তু সৃষ্টির সাথে তার সাদৃশ্য নেই। এর প্রমান হচ্ছে যা কিছু প্রমান করা হয়েছে আল কুরআন এবং আস সুন্নাতে সুনিপুণ ব্যাখ্যায় এর সাথে একমত হয়ে এবং এ সকল দ্বারা আল্লাহর প্রশংসার মাধ্যমে। তেমনিভাবে সাধারণভাবে সম-উদাহরন, সমতা, তুলনা এবং অংশীদারের ব্যাপারে অস্বীকার করার মাধ্যমে।

 

ষষ্ঠ প্রশ্নঃ আল্লাহ্‌র বাণী ও আল কুরআনের ব্যপারে আপনার বক্তব্য কি?

উত্তরঃ আমরা বলি, আল কুরআন আল্লাহ্‌র বাণী। তা অবতীর্ণ এবং সৃষ্ট নয়। তাঁর (অর্থাৎ আল্লাহ্‌) হতেই এটি শুরু হয়েছে এবং তাঁর নিকটই তা ফেরত যাবে। আল্লাহ্‌ এ দ্বারা কথা বলেন; সত্যিকার অর্থে এটি তাঁরই বাণী এবং অর্থ। তিনি কখনো কথা বলা বন্ধ করেননি এবং যদি তিনি ইচ্ছা করেন, এ দ্বারা কথা বলা কখনো বন্ধ হবে না যার দ্বারাই কথা বলতে চান না কেন। তাঁর বাণী কখনো ফুরিয়ে যাবে না এবং এ বাণীর কোন অন্তও নেই। [৩]

 

সপ্তম প্রশ্নঃ পরিপূর্ণ ঈমান কি এবং তা কি বাড়ে কমে?

উত্তরঃ ঈমান হচ্ছে এমন একটি নাম যাতে অন্তর্ভূক্ত অন্তরের বিশ্বাস, তার কাজ সমূহ, বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজ এবং জিহ্বার বিবৃতি। সুতরাং ধর্মের সকল মূলসমূহ এবং শাখা প্রশাখা সমূহ ঈমানের অন্তর্ভূক্ত। এবং এর ফলাফল স্বরূপ, এটি বিশ্বাসের শক্তি এবং তার প্রাচুর্য, সুন্দর কাজসমূহ, কথা সমূহ এবং তাদের প্রাচুর্যের সাথে বৃদ্ধি পায়; আর এর বিপরীতে হ্রাস পায়। [৪]

 

 

এ পর্ব থেকে আমরা যা শিখলাম

  • আল্লাহর ঊর্ধে আরোহনের বিষয়টি পরিচিত হলেও এর কৈফিয়ত বা ধরন অজানা। আমরা এ ব্যাপারে আল্লাহর কিতাব ও রাসূল (ﷺ) এর বক্তব্যে যা কিছু অবহিত করা হয়েছে তা আমরা ঈমান আনব কোনরূপ কৈফিয়ত, বৃদ্ধি বা বর্জন ব্যতীত।
  • আল্লাহর রয়েছে সুউচ্চ গুণাবলী, কিন্তু এই গুণগুলোর সাথে সৃষ্টির গুণের সাদৃশ্য নেই।
  • আল কুরআন আল্লাহ্‌র বাণী। তা অবতীর্ণ এবং সৃষ্ট নয়।
  • ঈমান হচ্ছে অন্তরের বিশ্বাস, তার কাজ সমূহ, বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজ এবংজিহ্বার বিবৃতি। ঈমান বৃদ্ধি ও  হ্রাস পায়।

[১]এ সম্পর্কিত কুরআনের দলীল হলঃ তিনিই সর্বোচ্চ এবং সর্বাপেক্ষা মহান। (সূরা বাকারাহ ২:২৫৫)। তিনিই পরাক্রান্ত স্বীয় বান্দাদের উপর। তিনিই জ্ঞানময়, সর্বজ্ঞ।(সূরা আন’আম ৬:১৮)

[২]এ সম্পর্কিত দলীল হলঃ আবূ হুরাইরাহ্ (রাযি.) হতে বর্ণিত। আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ মহামহিম আল্লাহ্ তা‘আলা প্রতি রাতে রাতের শেষ তৃতীয়াংশ অবশিষ্ট থাকাকালে পৃথিবীর নিকটবর্তী আসমানে অবতরণ করে ঘোষণা করতে থাকেনঃ কে আছে এমন, যে আমাকে ডাকবে? আমি তার ডাকে সাড়া দিব। কে আছে এমন যে, আমার নিকট চাইবে? আমি তাকে তা দিব। কে আছে এমন আমার নিকট ক্ষমা চাইবে? আমি তাকে ক্ষমা করব। (বুখারী ১১৪৫, মুসলিম ৭৫৮ )

[৩]আল্লাহ বলেনঃ “বলুনঃ যদি মানব ও জ্বিন এই কোরআনের অনুরূপ রচনা করে আনয়নের জন্যে জড়ো হয়, এবং তারা পরস্পরের সাহায্যকারী হয়; তবুও তারা কখনও এর অনুরূপ রচনা করে আনতে পারবে না।“ (সূরা ইসরা ১৭:৮৮)

[৪]যারা ঈমানদার, তারা এমন যে, যখন আল্লাহর নাম নেয়া হয় তখন ভীত হয়ে পড়ে তাদের অন্তর। আর যখন তাদের সামনে পাঠ করা হয় কালাম, তখন তাদের ঈমান বেড়ে যায় এবং তারা স্বীয় পরওয়ার দেগারের প্রতি ভরসা পোষণ করে। (সূরা আনফাল ৮:২)