গ্রন্থঃ আস সা’ইয়ী আল হাথীথ ইলা ফিকহি আহলিল হাদীথ
লেখকঃ ডঃ মুহাম্মাদ লুকমান সালাফি
অনুবাদ ও সংকলন ও টীকাঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

 

এ বিষয়ে কোন খিলাফ নেই যে গর্ভবতীর জন্যে রোজা ভাঙা জায়েয যদি গর্ভবতী তার ভ্রূণের জন্যে ভয় করে। অথবা শিশুকে দুধ পান করান এমন নারীর যদি রোজার কারণে দুধ কমে যাওয়ার বা দুর্বল হয়ে যাওয়ার আশংকা থাকে। আর এর দলীল হচ্ছে আনাস ইবনু মালিক আল কা’বী হতে বর্ণিত হাদিস যাতে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন,

إن الله عز و جل وضع عن المسافر الصوم و شطر الصلاة و عن الحبلى و المرضع الصوم

অর্থাৎ আল্লাহ্‌ আযযা ওয়া জ্বাল মুসাফিরকে মুক্ত করেছেন  সাওম হতে, অর্ধেক সালাত হতে এবং মুক্ত করেছেন সাওম হতে গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীকে। [১]

কিন্তু আহলে ইলম তথা উলামাবৃন্দ ইখতিলাফ করেছেন এ ব্যাপারে যে যদি তারা ভেঙে ফেলে তবে তাদের উপর কি রয়েছেঃ

১। তার উপর ক্বাযা করা এবং মিসকিন খাওয়ানো প্রত্যেক দিনে। এ মত মালিক, শাফিয়ী (এনার মত সমূহের একটি) ও আহমাদের।

২। তার উপর শুধু কাযা করা। এটি আওযা’য়ী, সুফিয়ান আথ থাওরী, আবু হানিফাহ, আবু থাওর, আবু উবাইদের মত। আর তারা পূর্বে উল্লেখিত হাদিসে মুসাফিরের সাথে তুলনা করেছেন।[২]

৩। গর্ভবতীর জন্যে ক্বাযা ও দুধ পান করানো নারীর উপর ক্বাযা ও খাওয়ানো। এটি মালিক ও শাফিয়ীর (অপর) মত।

৪। তার উপর কোন ক্বাযা বা খাওয়ানো নেই। আর এটি ইবন হাযমের মাজহাব। তিনি বলেন, যতক্ষণ তার উপর সাওম পালন করা বন্ধ, সে ক্ষেত্রে তাদের ক্বাযা করার ব্যপারে শারিয়াতে আল্লাহ্‌ কিছু বলেননি।[৩]

৫। তাদের উপর শুধু খাওয়ানো, কোন প্রকার ক্বাযা ব্যতীত। আর তা ইবনু আব্বাস, ইবনু উমার, ইসহাক ইবনু রাহাওয়ীর মাযহাব, তা আল্লামাহ আল আলবানীর পছন্দ, আর তা অধিকতর শক্তিশালী আর সঠিক মতের অধিকতর কাছের মত দলিলের ভিত্তিতে যেভাবে আপনারা অতি শীঘ্রই দেখতে পাবেন ইনশা আল্লাহ্‌।

আমাদের শাইখ আল আলবানী বলেছেন আল ইরওয়াহ গ্রন্থে আর যে হাদিসটি রয়েছে তাবারীতে (২৭০৮) যা উবাদাহ হতে, আর তিনি ইবনু সুলাইমান আল কাল্লাবী হতে সাঈদ ইবনু আবী আরুবাহ হতে তাঁর সনদে ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে, “তিনি বলেন, যদি রামাদান মাসে গর্ভবতী তার নিজের জন্যে ভয় করে, আর দুধ পান করানো নারী তার সন্তানের ব্যপারে তবে তিনি বলেন, তারা ভেঙে ফেলবে। আর এর স্থলে প্রত্যেক দিন মিসকিন খাওয়াবে। তারা সাওমের ক্বাযা করবে না। ” তিনি (আল আলবানী) বলেন এর সানাদ সাহীহ মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী।[৪]

তিনি বলেন, তাবারীতে থাকা রেওয়ায়েত অনুযায়ী, যার সানাদ ইতিমধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে, তিনি এক মাকে দেখতে পেলেন সন্তানসহ, হয় তিনি গর্ভবতী ছিলেন অথবা দুধ পান করান এমন। তখন তিনি বললেন, তুমি সেই পর্যায়ে যারা বহন করতে অক্ষম। তোমার জন্যে প্রত্যেক দিনের স্থলে মিসকিন খাওয়াবে, আর তোমার উপর কোন ক্বাযা নেই।

তিনি আরও বলেন, দারা কুতনী (২৫০) রেওয়ায়াত করেন রাওহ হতে সাঈদ হতে এই বর্ণনায়, “তুমি তাদের মধ্য হতে যারা রোজা রাখতে সক্ষম নয়। তোমার জন্যে দান করা আর তোমার জন্যে কোন ক্বাযা নেই।”  দারা কুতনী বলেন এর ইসনাদ সাহীহ। এর পর তাবারী বলেন, আয়্যুব হতে সাঈদ ইবন জুবাইর হতে ইবন আব্বাস ও ইবন উমার হতেঃ “গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারী ভাঙবে ও ক্বাযা করবে না।” তিনি বলেন, এটি সাহীহ।

আমাদের শাইখ (আল আলবানী) বলেন, “আমি বলি ইবন জারীর (অর্থাৎ আত তাবারী) বর্ণনা করেছেন আলী ইবন থাবিত হতে নাফি’ হতে ইবন উমার হতে ইবনু আব্বাসের বক্তব্যের মত গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীর ক্ষেত্রে। আর এর সানাদ সাহীহ। আর এর বাক্যের কোন পরিবর্তন ঘটেনি। দারা কুতনী রেওয়ায়াত করেন আয়্যুব হতে নাফি’ হতে ইবন উমার হতে এক নারী তাঁকে প্রশ্ন করল আর সে ছিল গর্ভবতী। তিনি বললেন, ভাঙ আর প্রত্যেক দিনের জন্যে মিসকিন খাওয়াও। আর ক্বাযা কর না।” এর ইসনাদ জায়্যিদ। আর উবাইদুল্লাহ হতে নাফি’ হতে তিনি বলেন, ইবনু উমারের এক মেয়ে কুরাইশের এক লোকের অধীনস্থ ছিল, আর সে ছিল গর্ভবতী। তাঁর রামাদান মাসে অর্শরোগ হলো। ইবনু উমার তাঁকে আদেশ করলেন ভাঙতে ও প্রত্যেক দিনের জন্যে মিসকিন খাওয়াতে। এর ইসনাদ সাহীহ।

বুখারী ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণনা করেন, তিনি বলেন, এতে (অর্থাৎ বাকারাহ আয়াত ১৮৪ তে ) বৃদ্ধ ও বয়োজ্যেষ্ঠ অপারগকে রুখসাহ দেওয়া হয়েছে। আর তারা সাওম পালনে অক্ষম। যদি তারা চায় তবে ভাঙবে আর প্রত্যেক দিনের জন্যে মিসকিন খাওয়াবে আর তাদের উপর কোন ক্বাযা নেই। এর পর এটি এই আয়াত দ্বারা মানসুখ হয়ে যায়ঃ

فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ

তোমাদের মধ্যে যে এই মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে। (সুরাহ আল বাকারাহ আয়াত ১৮৫)

আর প্রমাণিত হয়েছে বৃদ্ধ ও বয়োজ্যেষ্ঠ অপারগের ক্ষেত্রে যে যদি তারা রোজা রাখতে না পারে, আর যদি গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারী ভয় পায়, তাহলে ভেঙে ফেলবে ও প্রত্যেক দিনের জন্যে মিসকিন খাওয়াবে।[৫]

আমি বলি, এটি ইবনু উমার আর ইবনু আব্বাসের বক্তব্য, আর তারা সাহাবাদের সময়কার, আল্লাহ্‌র নবীর সুন্নাতের অনুসারী সুতরাং এটা বলা হয়না যে তারা এ কথা নবীর সুন্নাতের দলীল ব্যতিরেকে বলেছেন। আর সত্যিকার অর্থে মুহাদ্দিথদের নিকট সরাসরি সাহীহ যে সাহাবীদের সুন্নাত বিষয়ক বক্তব্য রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর সুনাতেই পরিণত হয়। আর এ বিষয়ে সাহাবীদের মধ্যে কোন বিরোধিতা পাওয়া যায়না। এর পর ইবনু আব্বাসের হাদিস “তুমি তাদের মধ্য হতে যারা সাওম রাখতে সক্ষম নয়, তোমার জন্যে দেওয়া (খাওয়ানো), আর তোমার জন্যে ক্বাযা নেই।” এর হুকুম হচ্ছে মারফু’। কেননা সাহাবীর হাদিস যাতে কোন আয়াত নাযিলের কারণ বর্ণনা করা হয় তা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম হতে নকল করা।[৬]

আর যা পূর্বে প্রমাণিত হয়েছে তার উপর যা মানা করে, আর নিশ্চয়ই প্রমাণিত করেছেন এই দুই জন সাহাবী, সুতরাং উম্মতের জন্যে একে স্বীকার করে নেওয়া বাধ্যতামূলক। আর এটা যেন বলা না হয় যে এটি অধিকতর দুর্বল মত যা শরীয়াতের দলিলের বিরোধী। এমন যেন বলা না হয়, গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারী অসুস্থের উপর আদেশের মতকে নেবে, এই দুটি হাদিস উপস্থিত থাকবার পরেও যা বৃদ্ধ অপারগের উপর আদেশের মতকে নেওয়া প্রমাণ করে।

আল্লাহ্‌ বলেন,

يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ

তোমাদের পক্ষে যা সহজ আল্লাহ্‌ তাই চান ও তোমাদের পক্ষে যে কষ্টকর তা তিনি চান না।  (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৫)

আর এটি লুকানো বিষয় নয় যে গর্ভবতী ও তার ভ্রূণ আর দুধ পান করানো নারী আর তার সন্তান লম্বা পরিচর্যার দাবী রাখে যা অসুস্থতার বিপরীত। কেননা অসুস্থের অসুস্থতা কয়েক দিনেই সমাপ্ত হয় আর তার সুস্থতা ফেরত আসে, তখন সে রামাদানের শেষে রোজা রাখতে সক্ষম হয়।[৭] সুতরাং দ্রুত অগ্রসর হোন আর নিন যা আল্লাহ্‌ আমাদের দিয়েছেন রুখসাহ আর সোজা কাজ স্বরূপ। আর তিনি সকল দয়াবানের মধ্যে শ্রেষ্ঠ দয়াবান।

(আস সা’ইয়ী আল হাথীথ, মুহাম্মাদ লুকমান সালাফি, খন্ড ২, ৮৫৯-৮৬১, মাক্তাবাতু আল্লামাহ আব্দুল আযীয ইবনু বায)

 

পাদটীকা

 

[১] আহমাদ ৪/৩৪৭, আবু দাউদ ২৪০৮, তিরমীযী ৭১৫, নাসায়ী ২২৭৭, ইবন মাজাহ ১৬৬৭। শাইখ মুহাম্মাদ নাসীর উদদীন আল আলবানী একে সাহীহ বলেছেন সুনান আবু দাউদ (২১০৭) ও সাহীহ সুনান নাসায়ী (২১৪৬) গ্রন্থে।

[২] এটি মালিক বলেছেন দুধ পান করানো নারীর ক্ষেত্রে ও শাফিয়ী বলেছেন কেবলমাত্র গর্ভবতীর ক্ষেত্রে।

শাইখ আবু আব্দিল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আলী ইবনু হিযাম বলেন,

“এই মতকেই পছন্দ করেছেন আমাদের শাইখ (অর্থাৎ শাইখ মুকবিল বিন হাদী আল ওয়াদিয়ী) তাঁর ‘আল জামি’ আস সাহীহ’ গ্রন্থে এবং বলেছেন,

এই ভেঙে ফেলা মুবাহ করা হয়েছে ক্রমাগত ওজরের কারণে। সুতরাং তার উপর অসুস্থ ব্যক্তির মত কোন কাফফারাহ ওয়াজিব নয়।

আর এই মতটিই কাওল আর রাজিহ (অধিকতর শক্তিশালী মত)। আর এই তারজীহ আমাদের শাইখ মুকবিল আল ওয়াদিয়ী, শাইখ ইবনু বায ও শাইখ ইবনু উথাইমীন করেছেন। আল্লাহ্‌ তাঁদের উপর রহম করুন।”

(ফাতহুল ‘আল্লাম ফি দিরাসাতি আহাদিথি বুলুঘিল মারাম, আবু ‘আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ‘আলী বিন হিযাম আল ফাদলী আল বা’দানী, পৃষ্ঠা ৬৬৫)

শাইখ ইবনু বায বলেন তার মাজমু’ ফাতাওয়া গ্রন্থে (১৫/২২৫)ঃ
“গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীর হুকুম অসুস্থের মত। যদি তাদের জন্যে রোজা রাখা কঠিন হয়, তবে তারা রোজা ভাঙবে। আর তাদের উপর রয়েছে ক্বাযা এ বিষয়ে তাদের সামর্থ্যের উপর, ঠিক অসুস্থের মত। কোন কোন উলামা বলেছেন, প্রত্যেক দিনের জন্যে খাওয়াতেঃ অর্থাৎ মিসকিন খাওয়াতে। কিন্তু এই মতটি দুর্বল ও মারজুহ। বরং সঠিক হল তার উপর ক্বাযা করা ঠিক মুসাফির ও অসুস্থের মত। কেননা আল্লাহ্‌ বলেছেনঃ

فَمَنۡ كَانَ مِنۡكُمۡ مَّرِيۡضًا اَوۡ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنۡ اَيَّامٍ اُخَرَ

তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ অথবা সাফারে, তবে তাদের ইদ্দাহ অপর দিন হতে। (সুরাহ আল বাকারাহ ১৮৪)”

শাইখ ইবনু বায আরও বলেন তার মাজমু’ ফাতাওয়া গ্রন্থে (১৫/২২৭)ঃ
“এ বিষয়ে সঠিক মত হচ্ছে গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীর উপর রয়েছে ক্বাযা। আর যা রেওয়ায়াত করা হয় ইবন আব্বাস ও ইবন উমার হতে গর্ভবতী ও দুধ পান করানোর ব্যাপারে যে তারা খাওয়াবে, তা দুর্বল মত ও শরীয়তের দলিলের বিরুদ্ধে। আর আল্লাহ্‌ সুবহানু ওয়া তা’আলা বলেন,
فَمَنۡ كَانَ مِنۡكُمۡ مَّرِيۡضًا اَوۡ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنۡ اَيَّامٍ اُخَرَ

তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ অথবা সাফারে, তবে তাদের ইদ্দাহ অপর দিন হতে। (সুরাহ আল বাকারাহ ১৮৪)

সুতরাং গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারী অসুস্থ নারীর মত, আর তাদের হুকুম বয়োবৃদ্ধ অপারগ ব্যক্তির মত নয়, বরং তারা অসুস্থ ব্যক্তির হুকুমের উপর। সুতরাং তারা ক্বাযা করবে যদি তারা সক্ষম হয়, যদিও এই ক্বাযা দেরীতে হয়।”

 

সাউদীর ফাতাওয়ার স্থায়ী কমিটি হতে (১০/২২০)ঃ
“যদি গর্ভবতী রামাদানের সাওমের কারণে তার নিজের ব্যপারে ভয় করে অথবা তার ভ্রূণের ব্যপারে, তবে সে ভেঙে ফেলবে, এবং তার উপর শুধু ক্বাযা। তার অবস্থা ঠিক অসুস্থের মত যার রোজা রাখবার শক্তি নেই, এবং এর কারণে সে নিজের কোন বিপদের আশঙ্কা করে। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,

فَمَنۡ كَانَ مِنۡكُمۡ مَّرِيۡضًا اَوۡ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنۡ اَيَّامٍ اُخَرَ
তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ অথবা সাফারে, তবে তাদের ইদ্দাহ অপর দিন হতে। (সুরাহ আল বাকারাহ ১৮৪)”

সংকলকঃ আমাকে ফোন করে অনেকে জিজ্ঞেস করেছে, গর্ভবতীও তো অসুস্থ, আর এ ব্যপারে সরাসরি আয়াতই তো রয়েছে। সুতরাং এতে ফাতাওয়ার প্রয়োজন হল কেন?

বাস্তবতা হচ্ছে ইসলামী ফিকহে অসুস্থ হচ্ছে সে ব্যক্তি যে কোন অসুস্থতা তথা রোগ ব্যাধি দ্বারা আক্রান্ত, কিন্তু গর্ভবতীর কোন অসুস্থতা নেই। তাই আসলে এই বিষয়ে সরাসরি উল্লেখ করে কোন দলিল নেই যে এদের ক্বাযা করতে হবে। এখানে এই উলামারা প্রধানত কিয়াস করছেন, কারণ অসুস্থ, মুসাফির ও গর্ভবতী এ সকলেরই বিশেষ অবস্থা শেষ হয়, অর্থাৎ  অসুস্থতা, সাফার ও গর্ভাবস্থা কেটে যায়, যদি না অসুস্থ ব্যক্তির অসুস্থতা স্থায়ী হয়। কিন্তু বয়োবৃদ্ধ অপারগ ব্যাক্তির অপারগতা তার মৃত্যুর আগে কখনোই দূর হয়না। তাই ইবনু আব্বাসের অপর কিয়াসকে এই মতের উলামারা গ্রহন করেন নি।

ইবনু আব্বাসের মত একটু পর আসছে।

 

[৩] ইবনু হাযমের মতকে ঘৃণা বশত অনেক মাজহাবী লোকেরা পড়তেও চায় না আর মেনে নিতেও চায়না। মাজহাবী লোকেরা ইবনু হাযম আর আল আলবানীর মতের শত্রু হয়ে গিয়েছে আর বিভিন্ন সভা সেমিনারে আর বইয়ে তাদের বিরুদ্ধে বিষেদাগার করে বেড়াচ্ছে। যার ফলে সাধারণ মানুষের মনে অনেক সময় এ দুই বিরাট আলেমের প্রতি ভুল ধারণার অবতারণা ঘটে।

শাইখ ইবনু হাযম বলছেন,
“পাঁচজন ব্যতীত কারো উপর কোন ক্বাযা নেই। আর তারা হলো হায়েযবতী নারী ও নিফাসবতী নারী – এরা ক্বাযা করবে তাদের হায়েয আর নিফাসের দিনগুলো। এ ব্যপারে কারো কোন খিলাফ নেই। আর অসুস্থ। আর মুসাফির যে সফরে রয়েছে এবং তার সালাতকে কসর করে দেওয়া হয়েছে।

কেননা আল্লাহ্‌ বলেন,

شَهْرُ رَمَضَانَ الَّذِي أُنزِلَ فِيهِ الْقُرْآنُ هُدًى لِّلنَّاسِ وَبَيِّنَاتٍ مِّنَ الْهُدَىٰ وَالْفُرْقَانِ فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ وَلِتُكْمِلُوا الْعِدَّةَ وَلِتُكَبِّرُوا اللَّهَ عَلَىٰ مَا هَدَاكُمْ وَلَعَلَّكُمْ تَشْكُرُونَ

রামাদান মাস হচ্ছে সে মাস যাতে আল কুরআন নাযিল হয়েছিল, যা বিশ্বমানবের জন্য পথ প্রদর্শক এবং সুপথের উজ্জ্বল নিদর্শন ও প্রভেদকারী। সুতরাং তোমাদের মধ্যে যে এ মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে এবং যতোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ অথবা সাফারে, তবে তাদের ইদ্দাহ অপর দিন হতে।

(সুরাহ আল বাকারাহ ১৮৫)

এবং যে ইচ্ছা করে বমি করে। যে খবর আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি। এরা সকলে একত্র অসুস্থ শ্রেণীতে, এবং মুসাফির যে ভেঙে ফেলে। এরা সবাই আল্লাহ্‌ তালাকে মানছে এবং তাদের উপর কোন গুনাহ নেই। একমাত্র বমি করা ব্যক্তি ব্যাতীত, যার উল্লেখ রয়েছে। সে গুনাহগার এবং তার উপর কোন কাফফারাহ নেই।

(আল মুহাল্লা, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ২১৬, মাক্তাবাতুল মা’আরিফ)

শাইখ আবু আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন আলী ইবনু হিযাম বলেন,

তাঁকে (ইবনু হাযমকে) জবাব দেওয়া হয় এই বলে যে এই হাদিসের (ইবনু আব্বাসের হাদিস) উদ্দেশ্য তো কেবল আদায় করাকে মাফ করা, কিন্তু এই হাদিসে তো ক্বাযা মাফ করবার কোন দলিল নেই, কেননা মুসাফিরের জন্যে আরেক দিন ক্বাযা করতে হয়, যেভাবে আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ
فَمَنۡ كَانَ مِنۡكُمۡ مَّرِيۡضًا اَوۡ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنۡ اَيَّامٍ اُخَرَ

তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ অথবা সাফারে, তবে তাদের ইদ্দাহ অপর দিন হতে। (সুরাহ আল বাকারাহ ১৮৪)

(ফাতহুল ‘আল্লাম ফি দিরাসাতি আহাদিথি বুলুঘিল মারাম, আবু ‘আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদ বিন ‘আলী বিন হিযাম আল ফাদলী আল বা’দানী, পৃষ্ঠা ৬৬৫)

 

আমি মনে করি এটি মোটে সুন্দর যুক্তি নয়। কেননা শরিয়তে সকল ফারদ কাজের ক্বাযা করা সর্বাপেক্ষায় বাধ্যতামূলক নয়। যেমন হায়েযওয়ালী নারী তার সালাতের কোন ক্বাযা করে না। আর আল্লাহ্‌ যদি কোন রুখসাহ দিয়ে দিয়ে দেন তবে সেটা পালন করাই হচ্ছে সুন্নাহ।

আল্লাহ্‌ বলেন,

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا

 কোন ব্যক্তিকেই আল্লাহ্‌ তার সাধ্যের অতিরিক্ত কর্তব্য পালনে বাধ্য করেন না। (সুরাহ আল বাকারাহ, ২৮৬)

তিনি আরও বলেন,

يُرِيدُ اللَّهُ بِكُمُ الْيُسْرَ وَلَا يُرِيدُ بِكُمُ الْعُسْرَ

তোমাদের পক্ষে যা সহজ আল্লাহ্‌ তাই চান ও তোমাদের পক্ষে যে কষ্টকর তা তিনি চান না।  (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৫)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেন,

إن الله تعالى يحب أن تؤتى رخصه ، كما يكره أن تؤتى معصيته

নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তা’আলা পছন্দ করেন যে আপনি রুখসাহ গ্রহন করবেন, ঠিক যেভাবে তিনি অপছন্দ করেন যে আপনি অবাধ্য হবেন (গুনাহ করবেন)। (আহমাদ ৫৮৩২)

উপরোক্ত নাস সমূহ থেকে আমরা দেখতে পাই যে যে আল্লাহ্‌ যদি কাউকে রুখসাহ দিয়ে দেন তাহলে সেটা নেওয়াই হচ্ছে শারিয়াহ। বরং কোন কোন আলেম রুখসাহ নেওয়াকেই ফারদ বলে উল্লেখ করেছেন।

এছাড়া উপরোক্ত আয়াত (সুরাহ আল বাকারাহ ১৮৪) ইবনু হাযমের বিরুদ্ধে দলিল নয়, বরং তা উনার পক্ষেরই দলিল। কেননা এতে প্রমাণিত হয় ইবনু আব্বাসের হাদিসে আল্লাহ্‌ তিনটি দল (মুসাফির, গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারী) কে সাওমের আদা মাফ করে দিয়েছেন। আর আমরা উসুল উল ফিকহ থেকে জানি সাধারণভাবে আদা বাধ্যতামূলক না হলে তাঁর ক্বাযাও থাকে না। যদি না তা কোন কারিনাহ দ্বারা উল্লেখ করা হয়। যা সুরাহ আল বাকারাহ আয়াত ১৮৪ এ মুসাফিরের জন্যে আমরা পাই। আর এ আয়াত দ্বারা আরও প্রমাণিত হয়, যে আল্লাহ্‌ এই তিন দলের সাওমের আদা মাফ করে পরে আয়াতে শুধু মুসাফিরের উপর ক্বাযা ফরমান করেছেন, সুতরাং অপর দুই দলের উপর ক্বাযা না থাকা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণিত।

আল্লাহই ভালো জানেন এবং আমরা তাঁর সাহায্য প্রার্থী।

এই বিষয়ে হাফিয ইবনু হাযমের মত পড়ুনঃ গর্ভবতী, দুগ্ধ পান করান এমন নারী, বৃদ্ধ ব্যক্তির সাওম/রোজা – পর্ব ১ঃ ইবনু হাযম

[৪] ইরওয়া আল ঘালিল, খন্ড ৪, পৃষ্ঠা ১৯, বিষয় ৯১২ (পুরানো ছাপায় দারুল মা’আরিফ হতে প্রকাশিত বইয়ে আথার ২৭৫৮)

মূল বইয়ের এই অংশে আমি খুব আশ্চর্য হই, কারণ শাইখ লুকমান সালাফি এখানে একটা সাহীহ হাদিসের দাবী করছেন। আর আমরা জানি সাহীহ হাদিস পাওয়া গেলে তো এই বিষয়ে বিতর্কের এখানেই অবসান ঘটবে। শাইখের দেওয়া রেফারেন্স আমি এখানে বাদ দিয়েছি, যেহেতু তিনি সম্ভবত অনেক পুরানো ছাপার রেফারেন্স দিয়েছেন। আমি সঠিক রেফারেন্স দিয়ে এখানে ঠিক করে দিলাম।

এর পর আমি ইরওয়া তে গিয়ে পেলাম শাইখ আল আলবানী হুবুহু একই কথা লিখেছেন। আমি আরও পেলাম শাইখ আল আলবানী এটি দারুল মা’আরিফ হতে ছাপা শাইখ আহমেদ শাকির কর্তৃক তাহক্কীক করা প্রথম প্রকাশের উল্লেখ করেছেন। এই প্রকাশটি এখন বাজার হতে উধাউ, তবে আমি তা google books এর আর্কাইভে খুঁজে পাই। এবং পাই শাইখ আহমাদ শাকির তাতে পূর্বের সুরাহ আল বাকারাহ এর ১৮৪ তম আয়াতের মানসুখ হয়ে যাওয়ার হাদিস সম্বন্ধে লিখেছেন,

“আর সে দুটো হাদিস (২৭৫১, ২৭৫২), কেননা তা ইবন আব্বাস হতে ফিদয়াহ আর রোজা ভাঙবার সাধারণ বিষয়টি রহিত হয়ে যাওয়ার খবর পাই। আর সে দুটো প্রাচীন বৃদ্ধ ব্যক্তি ও তার সাথে যাদের সেখানে উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু এটি নিশ্চিতভাবে ইবন আব্বাস হতে ফাতাওয়া!”

বিষয়টি বড়ই অদ্ভুত। ২৭৫১ তে কোন সাহাবীর উল্লেখ নেই, তা কাতাদাহ হতে শুরু। তবে হ্যাঁ ২৭৫২ আর ২৭৫৩ এর সানাদ একই। আমরা এর পর থেকে ধরে নেব হয় আহমাদ শাকির রেফারেন্সে ভুল করেছেন না হয় ছাপার ভুল হয়েছে।

অর্থাৎ আহমাদ শাকির বলছেন ২৭৫২ এবং ২৭৫৩ এর ক্ষেত্রে যেহেতু সাহাবী এখানে আয়াত নাযিল হওয়ার কারণ বর্ণনা করছেন, তাই একে মারফু’ পর্যায়ে উন্নীত করা হয়েছে।

এখন আমরা ২৭৫২ তে পাই, ইবনু আব্বাস বলছেন বৃদ্ধ মানুষের সাথে সাথে গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীর জন্যে রয়েছে সুরাহ আল বাকারাহ এর ১৮৫ নম্বর আয়াতঃ

فَمَن شَهِدَ مِنكُمُ الشَّهْرَ فَلْيَصُمْهُ ۖ وَمَن كَانَ مَرِيضًا أَوْ عَلَىٰ سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنْ أَيَّامٍ أُخَرَ

তোমাদের মধ্যে যারা এ মাস পাবে, সে যেন রোজা রাখে এবং যে ব্যক্তি অসুস্থ বা মুসাফির তার ইদ্দাহ অপর দিনে। (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৫)
কিন্তু এটা কিভাবে শাইখ আল আলবানীর মত সমর্থন করে? এতে তো উল্টো ক্বাযা করবার কথা বলা হয়েছে, যা শাইখ আল আলবানী ও শাইখ লুকমানের প্রমাণের বিরোধী। কিন্তু শাইখ আল আলবানী তাঁর ইরওয়া গ্রন্থে উল্লেখ করেছেন এই সানাদে আযরাহ ও উরওয়াহ নিয়ে সমস্যা রয়েছে, তাই এই সানাদটি আমরা বাদ দিতে পারি। আর যদি গ্রহনও করতাম, তাহলে এটি ইবনু আব্বাসের ২৭৫৮ এর প্রকাশ্য বিরোধী হয়ে যেত। আর শাইখ আল আলবানীও একে শাযই বলেছেন।

২৭৫৩ তেও সানাদের একই সমস্যা। আর এতে গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীর কোন বর্ণনা নেই।

যাই হোক, মোদ্দা কথা শাইখ লুকমানের এ নকলটি, যা শাইখ আল আলবানী হতে তা সঠিক নয়! কারণ এটি ইবনু আব্বাসের নিজস্ব মত ব্যতীত আর কিছুই নয়!

দেখুন আথার ২৭৫৮ঃ আহমাদ শাকিরের তাহক্কীক করা তাফসীর আত তাবারী

[৫] বুখারী ৪৫০৫, নাসায়ী ৪/১৯০,১৯১, দারা কুতনী ২/২০৫

শাইখ লুকমান এখানে গলদ রেফারেন্স দিয়েছেন। বুখারীতে ৪৫০৫ নম্বর হাদিসে গর্ভবতী ও দুধ খাওয়ানো নারীর কোন উল্লেখই নেই!! শাইখ এখানে হয়ত আমাদের উপরে উল্লেখিত ইতিমধ্যে রদকৃত কোন সানাদের উল্লেখ করছেন।

বুখারীর ৪৫০৫ নম্বর হাদিসটি নিম্নরূপঃ

“আমাকে জানিয়েছেন ইসহাক হতে রাওহ হতে যাকারিয়্যা ইবন ইসহাক হতে আমর ইবন দীনার হতে আতা’ হতে যিনি ইবন আব্বাস থেকে শুনেছেন, তিনি পাঠ করেছেন,

وَعَلَى الَّذِينَ يُطِوقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ

আর যারা কষ্ট করতে সক্ষম, তাদের ফিদয়াহ মিসকিন খাওয়ানো। (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৪)

ইবনু আব্বাস বলেন, তা মানসুখ নয়। বরং এ হলো বৃদ্ধ, বৃদ্ধা যে রোজা রাখতে সক্ষম নয়। তাই সে প্রত্যেক দিনের স্থলে মিসকিন খাওয়াবে।”

নাসায়ী ৪/১৯০ তে শুধু মাত্র আনাস ইবনু মালিকের হাদিসটি উল্লেখ করা হয়েছে যাতে উল্লেখিত তিন দলের সাওম মাফ করা হয়েছে, এর পর ইবনু আব্বাসের মানসুখ হওয়া আয়াতের ব্যপারে মত রয়েছে, যাতে গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীর কোন উল্লেখ নেই!!!

সায়ী ৪/১৯১ তে তো রয়েছে হায়েযবতী নারীর বর্ণনা, তাতে ইবনু আব্বাসের কোন উল্লেখ নেই, না রয়েছে গর্ভবতী বা দুধ পান করানো নারীর কোন উল্লেখ!!!

দারা কুতনীর রেফারেন্সটি পুরানো বই থেকে হওয়ার বিধায় আমি খুঁজে পাইনি, তবে আমি দারা কুতনীর রোজা বিষয়ক অধ্যায়ে ইবনু আব্বাসের গর্ভবতী বা দুধ পান করানো নারীর সম্পর্কিত কোন হাদিস পাইনি।

আমি মনে করছি এটি উল্লেখ করবার ক্ষেত্রে অসাবধানতা আর তালগোল পাকানো।

[৬] এটা ঠিক নয় যে সাহাবীর যে কোন ইজতিহাদ মানেই তা মারফু’। যদি তাই হতো তাহলে তো এই বিষয়ে এত ইখতিলাফের কোন জায়গাই থাকত না। সব সাহাবীর সব হাদিস তো জানাও ছিল না। তা ছাড়া সাহাবীদের মধ্যেও ইখতিলাফ হয়েছে বিভিন্ন বিষয়ে। তাদের কোন বক্তব্যে একথা পাওয়া যায় না তাদের নিজেদের ব্যপারে যে তাদের সকল দীন বিষয়ক মত মারফু’।

এ ছাড়া বর্তমান জমানার আলজেরিয়ার শাইখ মুহাম্মাদ আলী ফিরকাউস এক ফাতাওয়াতে বলেন, যেহেতু এখানে দুই জন সাহাবীর মত পাওয়া যায় আর তাদের মতের বিরুদ্ধে অন্য কোন সাহাবীর মত পাওয়া যায় না তাই তা উম্মতের ইজমা’ রূপে গণ্য হবে।

আমার মতে এই মতটিও সবার দ্বারা গ্রহণযোগ্য নয়, কেননা ইজমা’ সুকুতি বিষয়ে সব উলামা একমত হননি। তাছাড়া আমরা ইতিমধ্যে দেখেছি চেনা চার মাযহাবেই এই বিষয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। যদি এই দুই সাহাবার ইজতিহাদকে এনারা ইজমা’ স্বরূপ মেনেই নিতেন, তাহলে তাতে দ্বিমত করবার কোন স্থানই থাকত না। তাছাড়া পূর্ববর্তি সালাফদের কোন বইয়ে এই বিষয়টিকে ইজমা’ স্বরূপ উল্লেখ করতে আমরা পাইনি। না আন নাইসাবুরির ইজমা’ বইয়ে না ইবনু হাযমের মারাতিব আল ইজমা’ বইয়ে বা না অন্য কোন স্থানে।

এছাড়া এখানে ইবনু আব্বাস তাঁর মতে বৃদ্ধের হালাতের সাথে গর্ভবতীর হালাতের কিয়াস করেছেন (যেহেতু আমরা এই বিষয়ে কোন মারফু’ সাহিহ হাদিস পাচ্ছি না)। আর কিয়াসের ভিত্তিতে ইজমা গঠিত না হওয়াই আহলুস সুন্নাহ ওয়াল জামা’আতের সঠিক মত।

লক্ষ্য করুন, ইবনু আব্বাসের যে বক্তব্যটি আয়াত নাযিলের সঠিক হাদিসটি যা মারফু’ পর্যায়ে উন্নীত হয় তা বুখারীতে রয়েছে আর আমরা তা উল্লেখ করেছি। আর আমরা এও প্রমাণ করেছি যে গর্ভবতী ও দুধ পান করানোর বিষয়টি ইবনু আব্বাস নেহায়েত তাঁর মত হিসেবে দিয়েছেন, যা তিনি আয়াত নাযিলের হাদিসে উল্লেখ করেন নি। বরং তিনি যা উল্লেখ করেছেন, অর্থাৎ বৃদ্ধ বা বৃদ্ধা , তাদের হালের সাথে গর্ভবতীর হাল মিলিয়েছেন। মূল আয়াতের নাযিলের কারণের সাথে গর্ভবতী বা দুধ পান করানো নারীর কোন সম্পর্ক নেই। তার উপর আবার আয়াতটি মানসুখ বা রহিতও করা হয়েছে।

আল্লাহই ভালো জানেন।

[৭] শুধু কিয়াসের দিক থেকে বিবেচনা করলে শাইখ লুকমানের এই কিয়াস সঠিক নয়। কেননা বৃদ্ধ অপারগ একবার যখন অপারগতায় প্রবেশ করে, এর পর সাধারণত মৃত্যু পর্যন্ত তার এই অপারগতা দূর হয়না। অথচ গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীর এ অবস্থাদ্বয় যদিও কিছুটা দীর্ঘস্থায়ী হয়, কিন্তু একটি পর্যায়ে তারা পুরোপুরি সুস্থ ব্যক্তির ন্যায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে, যা হুবুহু অসুস্থ ব্যক্তির মত।

স্বত্বাধিকারী © www.darhadith.com। অন্য কোন ওয়েব সাইটে কপি করলে অবশ্যই আমাদের লিঙ্ক দেবেন।