মূলঃ আবু মুহাম্মাদ ‘আলী ইবন আহমাদ ইবন সা’য়িদ ইবন হাযম
অনুবাদঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

বিষয়ঃ গর্ভবতী, দুধ পান করানো নারী, বৃদ্ধ ব্যক্তি এদের সকলকে সাওম রাখবার ব্যপারে বলা হয়েছে। সুতরাং রামাদানের সাওম তাদের জন্যে ফারদ। যদি দুধ পান করানো নারী দুধ কমে যাওয়ার ভয় পায় আর এ কারণে সে রোজা ছেড়ে দেয় – অথবা এই বাচ্চার জন্যে সে ব্যতীত আর কেউ না থাকে অথবা অন্য কোন স্তন না থাকে – অথবা যদি গর্ভবতী তার ভ্রূণ নিয়ে ভয় পায়, অথবা বৃদ্ধ ব্যক্তি রোজা রাখতে অপারগ হয় – তবে তারা রোজা ভাঙবে, তাদের জন্যে কোন ক্বাযা নেই, খাওয়ানোও নেই। কিন্তু যদি অসুস্থতার কারণে ভঙ্গকারী ভাঙে তবে তাদের জন্যে ক্বাযা। 

তাদের উপর অসুস্থতার কারণে ক্বাযা হওয়ার দলিল আল্লাহ্‌র বাণীঃ

فَمَنۡ كَانَ مِنۡكُمۡ مَّرِيۡضًا اَوۡ عَلٰى سَفَرٍ فَعِدَّةٌ مِّنۡ اَيَّامٍ اُخَرَ

তোমাদের মধ্যে যারা অসুস্থ অথবা সাফারে, তবে তাদের ইদ্দাহ অপর দিন হতে। (সুরাহ আল বাকারাহ ১৮৪)

আর ভ্রূণের ব্যপারে ভয় পাওয়ার কারণে ও দুধ পান করানো নারীর উপর রোজা ভাঙা ফারদ হওয়ার দলিল,

قَدْ خَسِرَ الَّذِينَ قَتَلُوا أَوْلَادَهُمْ سَفَهًا بِغَيْرِ عِلْمٍ

বাস্তবিকই ঐ সমস্ত লোকেরা ক্ষতিগ্রস্ত হল যারা নিজেদের সন্তানদের মূর্খতা ও অজ্ঞানতার কারণে হত্যা করেছে। (সুরাহ আল আন’আম ১৪০)

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন,

من لا يرحم لا يرحم

যে দয়া করে না, তাকে দয়াও করা হয়না।

সুতরাং ভ্রূণ আর দুধ পান করা সন্তানকে দয়া করা ফারদ। আর এতে পৌঁছানো সম্ভব নয় রোজা ভাঙা ব্যতীত। সুতরাং রোজা ভাঙা ফারদ। আর যদি তা তাদের উপর ফারদ হয়, তবে তাদের উপর রোজা রাখা ফারদ হওয়ার আদেশ রহিত। সুতরাং তাদের উপর রোজা রাখা রহিত হয়ে যাওয়ার সাথে তাদের উপর ক্বাযা শরিয়তে দেওয়া হয়নি – না আল্লাহ্‌ তা’আলা তা প্রকাশ ঘোষণা দিয়েছেন আর না আল্লাহ্‌ ক্বাযা করা আর কারো জন্যে তা ওয়াজিব করেন নি – কেবলমাত্র অসুস্থ, মুসাফির, হায়েযবতী, নিফাসবতী, ইচ্ছা করে বমি করা ব্যক্তি ব্যতীত। আল্লাহ্‌ বলেন,

وَمَن يَتَعَدَّ حُدُودَ اللَّهِ فَقَدْ ظَلَمَ نَفْسَهُ

আর যে আল্লাহ্‌র সীমা লঙ্ঘন করেছে, সে নিশ্চয়ই নিজের উপর জুলুম করেছে। (সুরাহ আত তালাক্ক, ১)

এখন সেই বৃদ্ধ ব্যক্তি যে সাওম রাখতে অপারগ তার বয়সের কারণে, আল্লাহ্‌ বলছেন,

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا

 কোন ব্যক্তিকেই আল্লাহ্‌ তার সাধ্যের অতিরিক্ত কর্তব্য পালনে বাধ্য করেন না। (সুরাহ আল বাকারাহ, ২৮৬)

সুতরাং যদি তার সাধ্যের মধ্যে সাওম না থাকে, তবে তার উপর তা পালন করবার তাকলিফও নেই।

তাদের খাওয়ানোর ব্যপারে তাকলিফের ব্যপারে নিশ্চয়ই রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম বলেছেন,

إن دماءكم و أموالكم عليكم حرام

নিশ্চয়ই তোমাদের রক্ত ও ধনসম্পদ তোমাদের জন্যে হারাম।

সুতরাং কারো উপর অপরের উপর এমন কোন জরিমানা ওয়াজিব করা জায়েয নয় যা নাস (আল কুরআন ও আল হাদিস) ও ইজমা’তে আসেনি।

আবু মুহাম্মাদ বলেন, আমাদের বর্ণনা করা হয়েছে ইব্রাহীম হতে যে আলকামাহের কাছে এক নারী এল এবং তাকে বলল, “আমি গর্ভবতী ও আমি রোজা রাখতে অক্ষম আর আমার স্বামী আমাকে ভেঙে ফেলতে আদেশ করছে।” আলকামাহ তাকে বললেন, “তোমার রবকে মান ও স্বামীর অবাধ্য হও।”

আর যে সব দ্বারা তাদের উপর ক্বাযা করা রহিত হয়ঃ আমাদের বর্ণনা করা হয়েছে হাম্মাদ বিন সালমান হতে আয়্যুব আস সাখতিয়ানি ও উবাইদুল্লাহ ইবন উমর উভয় হতে নাফি’ হতে – কুরাইশের এক গর্ভবতী নারী ইবনু উমারকে জিজ্ঞেস করল, তখন তিনি তাকে বললেন, ভেঙে ফেল ও প্রত্যেক দিনের জন্যে মিসকিন খাওয়াও আর ক্বাযা করো না।

আবার হাম্মাদ ইবনু সালামাহ হতে আয়্যুব আস সাখতিয়ানি ও কাতাদাহ হতে সাঈদ ইবন জুবাইর হতে ইবন আব্বাস হতে যে তিনি বলেন দুধ পান করানো সন্তান সম্পন্ন এক নারীকে, তুমি এই পর্যায়েরঃ

وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ

 আর যারা অপারগ, তাদের ফিদয়াহ মিসকিন খাওয়ানো। (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৪)

ভেঙে ফেল ও প্রত্যেক দিন মিসকিন খাওয়াও কিন্তু ক্বাযা করো না।

আর এ দুই তরিকাতেই আমাদের বর্ণনা করা হয়েছে ইসমাঈল বিন ইসহাক হতে হাজ্জাজ ইবন মিনহাল হতে হাম্মাদ হতে।

আবার আব্দুর রাযযাক এর তারিকাহ হতে মা’মার হতে আয়্যুব হতে সাঈদ ইবন জুবাইর হতে তিনি বলেন, এক গর্ভবতী ভেঙে ফেলল যে সেই মাসে ছিল, আর এক দুধ পান করানো নারী যে তার সন্তানের ব্যপারে ভয় পাচ্ছিল। তাদের প্রত্যেকে প্রত্যেক দিন মিসকিন খাওয়াল, আর তাদের উপর কোন ক্বাযা ছিল না। কাতাদাহ এমনই বলেন। আর তা সাঈদ ইবনু মুসাইয়িবের বক্তব্য বলেও প্রকাশ।

আর তাদের মধ্যে যারা খাওয়ানোকে বাদ দিয়েছেন যেভাবে আমাদের বর্ণনা করা হয়েছে আব্দুর রাযযাক হতে ইবন জুরাইজ হতে ‘আতা হতে ইবনু আব্বাস হতে তিনি বলেন, রামাদান মাসে গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারী ভেঙে ফেলবে, তাদের সাওমের ক্বাযা করবে আর তাদের উপর খাওয়ানো নেই।

একই রকম করে ইকরিমাহ হতে এবং একই সাথে ইব্রাহীম আন নাখয়ী হতে – আর তা আবু হানিফা আর সুফিয়ান আথ থাওরীর বক্তব্য।

আর যারা এদের উপর দুটোর সবটাই রয়েছে বলে মত দিয়েছেন, আতা বিন আবি রাবাহ। তিনি বলেন, যদি গর্ভবতী ও দুধ খাওয়ানো নারী তাদের সন্তানদের জন্যে ভয় পায়, তবে তারা ভেঙে ফেলবে আর সে জায়গায় প্রত্যেক দিনের জন্যে অর্ধেক সা’ খাওয়াবে আর এর পর ক্বাযা করবে – আর এটি শাফেয়ীদের বক্তব্য।

আবু মুহাম্মাদ বলেনঃ সুতরাং তারা ক্বাযা ওয়াজিব হওয়ার ব্যপারে সবাই একমত হননি, না তারা একমত হয়েছেন খাওয়ানো ওয়াজিব হওয়ার ব্যপারে। সুতরাং এ দুটির কোনটিই ওয়াজিব নয়। কেননা তা ওয়াজিব হওয়ার ব্যপারে না কোন নাস আছে না ইজমা’।

আর আমাদের নিশ্চয়তা দেয় যদি তারা এ দুটোর সাথে একমত হয়, একই বিষয় আমরা শুধু মতের ব্যপারে বলা হয় না। সুতরাং তারা বলে না এই যে ইবনু উমারের বক্তব্য ক্বাযা না থাকবার ব্যপারে।

আমাদের বর্ণনা করা হয়েছে ইবনু আব্বাস হতে আমাদের এই বক্তব্যের মত। যেভাবে আমরা বর্ণনা করেছি ইসমাঈল বিন ইসহাক হতে ইব্রাহীম বিন হামযাহ আয যাবিরী হতে আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ হতে হুমাইদ হতে বিকর বিন আব্দিল্লাহ আল মাযিনি হতে ইবনু আব্বাস হতে তাকে প্রশ্ন করা হয়েছিল দুধ পান করানো নারীর ব্যপারে যে রামাদান মাসে ছিল আর সে তাঁর সন্তানের ব্যপারে ভয় পাচ্ছিল। ইবনু আব্বাস তখন তাকে ভাঙবার রুখসাহ দেন।

আলী বলেন, কিন্তু এখানে ক্বাযা বা খাওয়ানোর কিছু উল্লেখ করেন নি।

মালিক বলেন, যে দুধ পান করায়, সে ভাঙবে আর প্রত্যেক দিনের জন্যে খাওয়াবে আর একই সাথে ক্বাযা করবে। আর যে গর্ভবতী সে ক্বাযা করবে কিন্তু তার উপর কোন খাওয়ানো নেই। এই ধরনের বিন্যাস কোন সাহাবী বা তাবিয়ী থেকে পাওয়া যায় না।

আবু মুহাম্মাদ বলেন, যারা এ ক্ষেত্রে খাওয়ানোর কথা বলেছেন, তারা আল্লাহ্‌র বাণী হতে হুজ্জাহ দিয়েছেন,

وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ

আর যারা অপারগ, তাদের ফিদয়াহ মিসকিন খাওয়ানো। (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৪)

আর আমাদের বর্ণনা করা হয়েছে হাম্মাদ বিন সালামাহ হতে কাতাদাহ হতে ইকরিমাহ হতে যিনি বলেন, এই আয়াত গর্ভবতী, দুধ পান করানো নারী, বৃদ্ধ ও অপারগের উপর নাযিল হয়েছে। আর যারা ক্বাযা দাবী করছে তারা হুজ্জা দিয়েছে আমরা যা বর্ণনা করেছি ইয়াযিদ বিন হারুন হতে জুয়াইবার হতে দাহহাক বিন মুযাহিম হতে যিনি বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম রুখসাহ দিয়েছেন গর্ভবতী, দুধ পান করানো নারী রামাদান মাসে ভেঙে ফেলবে। আর যদি দুধ খাওয়ানো নারী দুধ খাওয়ানো বন্ধ করে আর গর্ভবতী নারী সন্তান প্রসব করে তবে তাদের সাওম তারা পুনরায় রাখবে।

আলী বলেন, ইকরিমাহ এর হাদিস মুরসাল। আর দাহহাকের হাদিসে তিনটি সমস্যা। সনদ হতে জুয়াইবির পড়ে গিয়েছেন, ঠিক তেমনি করে দাহহাকও, আবার তার উপর ইরসাল। কিন্তু এ বিষয়ে সত্য হচ্ছে যা আমরা পূর্বে বর্ণনা করেছি সাফারকালীন সময়ে রোজা রাখবার বিষয়টি যা সালামাহ বিন আকওয়াহ হতে যে এই আয়াতটি মানসুখ (রহিত)। আর হাম্মাদ বিন যাইদ হতে সালামাহ বিন আলকামাহ হতে মুহাম্মাদ ইবন সিরিন হতে ইবন আব্বাস হতে তিনি এই আয়াতটি পড়েন,

وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ

আর যারা অপারগ, তাদের ফিদয়াহ মিসকিন খাওয়ানো। (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৪)

তিনি বলেন, এটি মানসুখ। আর এটিই হচ্ছে সাহীহ মুসনাদ যার খিলাফ করা জায়িয নয়।

আর সব আশ্চর্যের বড় আশ্চর্য এই কাওম হতে, তারা এই আয়াতকে এই আয়াত যে বিষয়ে নাযিল হয়নি সে বিষয়ে প্রয়োগ করে। কখনো তারা প্রমাণ দেয় যে সাফারের মধ্যে সাওম রাখাই উত্তম। কখনো তারা গর্ভবতী, দুধ খাওয়ানো নারী, বৃদ্ধের ব্যপারে ব্যবহার করে। আর এ সকল কিছুই আল্লাহ তা’আলার কালাম হতে সরিয়ে ফেলা। আর কালামের যে বিষয়ে নাযিলকৃত তা হতে তাহরীফ করা। আমরা বুঝি না কিভাবে তা জায়েয হল – যে জানে যে আল্লাহ্‌র ওয়াদা সত্য – এ কথা বলতে যে এটি আল্লাহ্‌র দীনের মধ্য হতে এমন। আমরা আল্লাহ্‌র কাছে পথভ্রষ্টতা হতে আশ্রয় চাই।

বৃদ্ধ মানুষের বিষয়ে আবু হানিফাহ তার উপর মিসকিন খাওয়ানো ওয়াজিব করেছেন প্রত্যেক দিনের জন্যে। আর মালিক তার উপর খাওয়ানো ওয়াজিব করেননি।

শাফেয়ী একবার বলেন আবু হানিফার মত, আরেকবার মালিকের মত।

আবু মুহাম্মাদ বলেন, আমাদের বর্ণনা করা হয়েছে ইসমাঈল হতে আলী ইবন আব্দিল্লাহ হতে সুফিয়ান আথ থাওরী হতে ও জারীর বলেন, সুফিয়ান বলেন আমর ইবন দীনার বলেন, আমাকে আতা বলেছেন তিনি ইবনু আব্বাস হতে শুনেছেন তিনি এভাবে কিরা’আত করেছেনঃ

 وَعَلَى الَّذِينَ يُطِوقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ

আর যারা কষ্ট করতে সক্ষম, তাদের ফিদয়াহ মিসকিন খাওয়ানো। (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৪)

 অর্থাৎ যারা কষ্ট করতে সক্ষম, অপারগ নয়।

তিনি বলেন, এই বৃদ্ধ যার কষ্ট হয় ও সেই বৃদ্ধা নারী যার কষ্ট হয়। যারা রোজা রাখোতে সক্ষম নয় – তারা ভাঙবে এবং প্রত্যেক দিনের জন্যে মিসকিন খাওয়াবে।

জারীর হতে মানসুর হতে মুজাহিদ হতে ইবন আব্বাস হতে একই কথা পাওয়া যায়।

আলী বলেন, এ কথা ইবন আব্বাস হতে সাহীহ।

আমরা আলী ইবনু আবী তালিব হতে বর্ণনা করেছি তিনি বলেছেন ঐ বৃদ্ধের ব্যপারে যে রোজা রাখতে পারে না ঃ তিনি ভাঙবেন আর প্রত্যেক দিনের স্থলে মিসকিন খাওয়াবেন।

আনাস বিন মালিক হতে সাহীহ সনদে পাওয়া যায়, তিনি যখন বুড়ো হয়ে যান, তখন তিনি রোজা রাখবার জন্যে অনেক দুর্বল হয়ে যান, তখন তিনি ভাঙ্গেন এবং প্রত্যেক দিনের স্থলে মিসকিন খাওয়ান।

কাতাদাহ বলেন, একটি করে কাফফারাহ স্বরূপ, তিনটি করে করা মুস্তাহাব স্বরূপ।

ইয়াহিয়াহ ইবন সাঈদ আল কাত্তান হতে আব্দুর রাহমান ইবনু হুরমুলাহ হতে, তিনি বলেন, আমি শুনেছি সাঈদ ইবনুল মুসাইয়িব বলেন, আল্লাহ্‌র এই আয়াতঃ

وَعَلَى الَّذِينَ يُطِيقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ

আর যারা অপারগ, তাদের ফিদয়াহ মিসকিন খাওয়ানো। (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৪)

সম্পর্কে যে তিনি হচ্ছেন বৃদ্ধ যিনি রোজা রাখতে অপারগ, আর গর্ভবতী যার উপর রোজা রাখা ক্ষতিকর। এদের প্রত্যেকের জন্যে প্রত্যেক দিন মিসকিন খাওয়ানো।

হাসান আল বাসরী ও কাতাদাহ হতে বৃদ্ধ লোক আর অপারগের ব্যপারে, এরা প্রত্যেকে প্রত্যেক দিনের স্থলে মিসকিন খাওয়াবে।

আতা হতে, হাসান হতে সাঈদ ইবনু জুবাইর হতে একই কথা পাওয়া যায়।

কাইস ইবনু সায়িব হতেও একই কথা বর্ণিত এটিও সাহাবা হতে।

আর আবু হুরাইরাহ হতে তিনি প্রত্যেক দিন সাদাকাহ দিয়েছেন এক দিরহাম দিয়ে।

মাকহুল হতে, তাউস হতে, ইয়াহিয়া ইবনু আবু কাথীর হতে যাদের অর্শ রোগ আছে তাদের রোজা রাখতে নিষেধ করেছেন, সে ভাঙবে, প্রত্যেক দিন এক মুদ খাওয়াবে।

আবু মুহাম্মাদ বলেন, আবু হানিফাহ বলেন, যে বৃদ্ধ বার্ধক্যের কারণে রোজা রাখতে অপারগ মিসকিন খাওয়াবে। আর গর্ভবতী আর দুধ খাওয়ানো নারীর বেলায় এ মত দেননি। মালিক বিশেষ করে দুধ খাওয়ানো নারীকে ওয়াজিব করেছেন, আর গর্ভবতীকে আর বৃদ্ধকে ওয়াজিব করেননি। আর এই বিপরীত মুখিতা প্রকাশ।

কোন কোন হানাফিরা হুজ্জা দিয়েছে এই বলে যে গর্ভবতী, দুধ খাওয়ানো নারী অসুস্থ ও মুসাফিরের স্তরে। কেননা তাদের সবার জন্যে ভাঙা জায়েয কিন্তু খাওয়ানো নয়।

আলী বলেন, বৃদ্ধ ব্যক্তিও একই রকম আর তিনি অসুস্থ ও মুসাফিরের অনুরূপ। কেননা তিনি রোজা রাখা হতে মুক্ত তার নিজের কারণে ঠিক যেভাবে অপর দুজনও রোজা রাখা হতে মুক্ত নিজেদের কারণে। কিন্তু গর্ভবতী ও দুধ পান করানো নারীর ক্ষেত্রে তাদেরকে রোজা রাখা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছে অন্যের কারণে (অনুবাদকঃ অর্থাৎ সন্তানের কারণে)।

আলী বলেনঃ মালিকিরা তাদের তাকলিদের বিরুদ্ধে গেলে বিরুদ্ধাচরনকারীর অসম্মান করে।

এখানে বিরুদ্ধাচরণ করেছেন আলী, ইবন আব্বাস, কাইস বিন মুসাইয়িব, আবু হুরাইরাহ – সাহাবাদের মধ্য হতে কাউকে এদের উল্টো মত রাখতে পাওয়া যায়নি।

আর বিরুদ্ধাচরণ করেছেন ইকরিমাহ, সাঈদ ইবনু মুসাইয়িব, আতা, কাতাদাহ, সাঈদ বিন জুবাইর – আর তারা (মালিকিরা) এদের মতদের অসম্মান করে।

আলী বলেন, আমাদের ব্যপারে, আমাদের কাছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম ব্যতীত আর কেউ হুজ্জা নন।

আর ইবনু আব্বাসের রিওয়াতের ব্যপারে, তিনি এভাবে পড়েছেন,

 وَعَلَى الَّذِينَ يُطِوقُونَهُ فِدْيَةٌ طَعَامُ مِسْكِينٍ

আর যারা কষ্ট করতে সক্ষম, তাদের ফিদয়াহ মিসকিন খাওয়ানো। (সুরাহ আল বাকারাহ, ১৮৪)

এই কিরাআত কারো জন্যে হালাল নয় যে এভাবে সে তিলাওয়াত করবে। কেননা কোন কিরাআত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর মুখ নিঃসৃত কিরাআত ব্যতীত গ্রহণযোগ্য নয়। সুতরাং যে এই রিওয়ায়াত দ্বারা যে হুজ্জা দেবে আর এই কিরাআত দ্বারা পড়বে, সব প্রশংসা আল্লাহ্‌র (আর তিনি মুক্ত) কোন বৃদ্ধকে এমন কিছু চাপিয়ে দেওয়া হতে যা বহন করতে সে অক্ষম!

সালামাহ ইবনু আকওয়াহ হতে সাহীহ সানাদ দ্বারা প্রমাণিত, ইবন আব্বাস হতে এ আয়াতকে মানসুখ করা হয়েছে, যা এই অধ্যায়ে উল্লেখ করেছি, আর মুসাফিরের রোজা রাখবার অধ্যায়ে। আর এটি কোনদিনও বৃদ্ধ ব্যক্তির উপর নাযিল হয়নি, গর্ভবতীর উপর নাযিল হয়নি, না তা নাযিল হয়েছে দুধ পান করানো নারীর উপর। বরং তা এক অবস্থার উপর নাযিল হয়েছে, পরে তা মানসুখ হয়ে গিয়েছে, আর হয়েছে বাতিল।

বৃদ্ধ আর অপারগ যারা রোজা রাখতে সক্ষম নন, রোজা তাদের উপর বাধ্যতামূলক নয়। আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেন,

لَا يُكَلِّفُ اللَّهُ نَفْسًا إِلَّا وُسْعَهَا

 কোন ব্যক্তিকেই আল্লাহ্‌ তার সাধ্যের অতিরিক্ত কর্তব্য পালনে বাধ্য করেন না। (সুরাহ আল বাকারাহ, ২৮৬)

আর যেহেতু তাদের উপর রোজা রাখা বাধ্যতামূলক নয়, তাই তাদের উপর কাফফারাও বাধ্যতামূলক নয়। কেননা আল্লাহ্‌ তা’আলা তাদের উপর এর কোনটিই বাধ্যতামূলক করেন নি, না তা করেছেন তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম। আর ধন সম্পদ হারাম কেবলমাত্র নাস অথবা ইজমা’ ব্যতীত।

আশ্চর্য হচ্ছে তাদের ব্যপারে – আবু হানিফাহ, মালিক, শাফিয়ী হতে – তারা কাফফারাহ বাদ দিয়েছেন তার ক্ষেত্রে যে রামাদান মাসের দিনের বেলায় রোজা ভাঙে ইচ্ছা করে আর সাওম বাতিল হওয়া ইচ্ছা করেছে আল্লাহ্‌ তা’আলার অবাধ্য হয়ে কাওমে লুতের আচরণ করে, খাওয়ার মাধ্যমে, ইচ্ছা করে মদ পান করবার মাধ্যমে আর ইচ্ছা করে বমি করবার মাধ্যমে।

জী হ্যাঁ, তাদের কেউ কেউ ক্বাযা ও কাফফারাকে বাদ দিয়েছেন, যার দাঁতের মধ্য হতে কোন খাবার বাহির হলো, তখন সে তা ইচ্ছা করে খেয়ে ফেললো, রোজার কথা মনে রাখা স্বত্বেও। এর পর তার জন্যে কাফফারাহ ওয়াজিব করেছেন যে ভেঙেছে যাকে আল্লাহ্‌ ভাঙতে আদেশ করেছেন আর তাকে মুক্তি দিয়েছেন – সেই দুধ পান করানো নারীদের মধ্য হতে যে তার দুধ পান করা সন্তানের উপর অনুষ্টের আশংকায়, আর সেই বৃদ্ধ হতে যিনি দুর্বলতার কারণে রোজা রাখতেই সক্ষম নন, আর সেই গর্ভবতী হতে যে তার গর্ভে যা রয়েছে তার অনিষ্টের আশংকায় রয়েছে। আপনার জন্যে এই তালগোল পাকানোর উদাহরণই যথেষ্ট। আর এ ধরনের কিছু কবুল করা হালাল নয়, তার তরফ হতে ব্যতীত, যার কোন কাজের জন্যে কোন কৈফিয়ত দিতে হয় না – আর তিনি আল্লাহ তা’আলা তাঁর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম এর বাণী হতে।

(আল মুহাল্লা, বিষয় ৭৭০, খণ্ড ৬, পৃষ্ঠা ৩১০-৩১৫, মাক্তাবাতুল মা’আরিফ)

স্বত্বাধিকারী © www.darhadith.com। অন্য কোন ওয়েব সাইটে কপি করলে অবশ্যই আমাদের লিঙ্ক দেবেন।