ডাউনলোড করে পড়ুন

লেখকঃ আবু মুহাম্মাদ ‘আলি ইবনে আহমাদ ইবনে সা’ঈদ ইবন হাযম আল আন্দালুসি
ভাষান্তরঃ আবু হিশাম মুহাম্মাদ ফুয়াদ

مَسْأَلَةٌ عَلَى كُلِّ مُضَحٍّ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيَّتِهِ

مَسْأَلَةٌ: فَرْضٌ عَلَى كُلِّ مُضَحٍّ أَنْ يَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيَّتِهِ وَلَا بُدَّ لَوْ لُقْمَةً فَصَاعِدًا، وَفَرْضٌ عَلَيْهِ أَنْ يَتَصَدَّقَ أَيْضًا مِنْهَا بِمَا شَاءَ قَلَّ أَوْ كَثُرَ وَلَا بُدَّ، وَمُبَاحٌ لَهُ أَنْ يُطْعِمَ مِنْهَا الْغَنِيَّ، وَالْكَافِرَ، وَأَنْ يُهْدِيَ مِنْهَا إنْ شَاءَ ذَلِكَ.
فَإِنْ نَزَلَ بِأَهْلِ بَلَدِ الْمُضَحِّي جَهْدٌ أَوْ نَزَلَ بِهِ طَائِفَةٌ مِنْ الْمُسْلِمِينَ فِي جَهْدٍ جَازَ لِلْمُضَحِّي أَنْ يَأْكُلَ مِنْ أُضْحِيَّتِهِ مِنْ حِينِ يُضَحِّي بِهَا إلَى انْقِضَاءِ ثَلَاثِ لَيَا كَامِلَةٍ مُسْتَأْنَفَةٍ يَبْتَدِئُهَا بِالْعَدَدِ مِنْ بَعْدِ تَمَامِ التَّضْحِيَةِ ثُمَّ لَا يَحِلُّ لَهُ أَنْ يُصْبِحَ فِي مَنْزِلِهِ مِنْهَا بَعْدَ تَمَامِ الثَّلَاثِ لَيَالٍ شَيْءٌ أَصْلًالَا مَا قَلَّ وَلَا مَا كَثُرَ.
فَإِنْ ضَحَّى لَيْلًا لَمْ يُعِدْ تِلْكَ اللَّيْلَةَ فِي الثَّلَاثِ؛ لِأَنَّهُ تَقَدَّمَ مِنْهَا شَيْءٌ؛ فَإِنْ لَمْ يَكُنْ شَيْءٌ مِنْ هَذَا فَلْيَدَّخِرْ مِنْهَا مَا شَاءَ.

 

মাস’আলাহ্‌:

উদহিয়্যাহ[1] বা কুরবানি দেয়া প্রত্যেক ব্যক্তির উপর তা থেকে অন্তত এক লোকমা, বা (চাইলে) তার বেশি খাওয়া, ফরজ। এবং তা থেকে অন্তত অল্প কিছু, বা (চাইলে) বেশ কিছু অংশ, দান করাও ফরজ। এখান থেকে ধনীদের, কাফির (অমুসলিম)- দের খাওয়ানো বৈধ। আবার তিনি যেটুকু চান তা কাউকে হাদিয়া বা উপহারও দিতে পারেন।

এবং যদি কোনো নির্দিষ্ট শহর বা নির্দিষ্ট এলাকার মুসলিম জনগোষ্ঠী কঠিন পরিস্থিতির সম্মুখিন হয় তবে উদহিয়্যাহ প্রদান করা ব্যক্তির জন্য এর মাংস[2] কুরবানির পর থেকে পরবর্তী তিন দিন পর্যন্ত খাওয়া বৈধ।  কুরবানি করবার পর থেকে তিন দিন গণনা শুরু হবে এবং ঠিক তিন রাত অতিবাহিত হবার পর এর বেঁচে যাওয়া অংশ, হোক তা বেশি বা কম, কোনো কিছুই খাওয়া বৈধ নয়।

এবং তিনি যদি কুরবানি রাতে করেন, তবে এটি উক্ত তিন রাত্রির মধ্যে শামিল হবে না কেননা ততক্ষণে প্রথম রাতের কিছু অংশ চলেই গেছে। আর যদি এটা তিন পূর্ণ রাত্রির অংশ না হয় তবে রাতের গণনা পরেরগুলো থেকে হবে।

رُوِّينَا مِنْ طَرِيقِ الْبُخَارِيِّ نَا أَبُو عَاصِمٍ هُوَ الضَّحَّاكُ بْنُ مَخْلَدٍعَنْ زَيْدِ بْنِ أَبِي عُبَيْدٍ عَنْ سَلَمَةَ بْنِ الْأَكْوَعِ قَالَ: قَالَ النَّبِيُّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: «مَنْ ضَحَّى مِنْكُمْ فَلَا يُصْبِحَنَّ بَعْدَ ثَالِثَةٍ وَفِي بَيْتِهِ مِنْهُ شَيْءٌ؛ فَلَمَّا كَانَ الْعَامُ الْمُقْبِلُ قَالُوا: يَا رَسُولَ اللَّهِ نَفْعَلُ كَمَا فَعَلْنَا الْعَامَ الْمَاضِيَ؟ قَالَ: كُلُوا، وَأَطْعِمُوا، وَادَّخِرُوا، فَإِنَّ ذَلِكَ الْعَامَ كَانَ بِالنَّاسِ جَهْدٌ فَأَرَدْتُ أَنْ تُعِينُوا فِيهَ

ইমাম বুখারি সালামাহ ইবনু আকওয়া’ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু হতে বর্ণনা করেন যে, নাবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, “তোমাদের যে লোক কুরবানি করেছে, সে যেন তৃতীয় দিনে এমন অবস্থায় সকাল অতিবাহিত না করে যে, তার ঘরে কুরবানীর মাংস কিছু থেকে যায়।” পরবর্তী বছর আসলে সাহাবীগণ বললেন, “হে আল্লাহর রাসুল! আমরা কি তেমন করব, যেমন গতবছর করেছিলাম? তখন তিনি বললেন, “তোমরা নিজে খাও, অন্যকে খাওয়াও এবং সঞ্চয় করে রাখো, কারণ গত বছর মানুষের মধ্যে ছিলো অনটন। তাই আমি চেয়েছিলাম তোমরা তাতে সহযোগিতা করো।  ” [সহিহ আল বুখারি; হা/৫৫৬৯]

وَمِنْ طَرِيقِ مَالِكٍ عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ أَبِي بَكْرِ بْنِ عَمْرِو بْنِ حَزْمٍ ” أَنَّ عَمْرَةَ بِنْتَ عَبْدِ الرَّحْمَنِ قَالَتْ لَهُ سَمِعْت عَائِشَةَ أُمَّ الْمُؤْمِنِينَ تَقُولُ: إنَّهُمْ قَالُوا: «يَا رَسُولَ اللَّهِ إنَّ النَّاسَ يَتَّخِذُونَ الْأَسْقِيَةَ مِنْ ضَحَايَاهُمْ وَيَحْمِلُونَ فِيهَا الْوَدَكَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ -: وَمَا ذَاكَ؟ قَالُوا: نَهَيْتَ أَنْ تُؤْكَلَ لُحُومُ الضَّحَايَا بَعْدَ ثَلَاثٍ قَالَ – عَلَيْهِ السَّلَامُ -: بَعْدُ كُلُوا، وَادَّخِرُوا، وَتَصَدَّقُوا

আয়েশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহা হতে বর্ণিত যে, “এরপর লোকেরা রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলল যে লোকেরা তাদের কৃত কুরবানি থেকে উপকৃত হতো, তারা চর্বি নিয়ে গুলাতো এবং (চামড়া দিয়ে) পানির পাত্র বানাতো। রসুলুল্লাহ বললেন তা কী? লোকেরা বললো, “আল্লাহর রাসুল! আপনি তো কুরবানির মাংস তিন দিনের বেশি সংরক্ষণ করতে নিষেধ করেছেন। আল্লাহর রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন, আমি নিষেধ করেছিলাম কারণ একদল (নতুন) মানুষ তোমাদের মাঝে এসেছিলো তবে এখন তোমরা তা খাও, জমা কর ও তা থেকে সদাক্বাহ করো। (আবু দাউদ হা/২৮১২)

এগুলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর আদেশ এবং এগুলোর বিপরীতে কিছু করা বৈধ নয়। কেননা আল্লাহ বলেন,

فَلْيَحْذَرِ الَّذِينَ يُخَالِفُونَ عَنْ أَمْرِهِ أَنْ تُصِيبَهُمْ فِتْنَةٌ أَوْ يُصِيبَهُمْ عَذَابٌ أَلِيمٌ

অর্থঃ যারা তার (রাসুলের) আদেশের বিরুদ্ধাচরণ করে তারা সতর্ক হোক যে, তাদের উপর পরীক্ষা নেমে আসবে বা নেমে আসবে ভয়াবহ শাস্তি।(সুরাহ আন নূর ৬৩)

যদি কেউ বলে এটি শুধুমাত্র ‘উৎসাহ বা সম্মতি মূলক ক্বওল তবে তিনি ভুল করবেন বা মিথ্যা বলবেন এবং সাথে সাথে এ বিষয়ে তিনি জ্ঞানও রাখেন না। এবং এটি বুঝতে এটাই যথেষ্ট যে, সকল সাহাবাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুম (তিন রাতের পর মাংস না রাখার ব্যাপারে) রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর এই নিষেধাজ্ঞাকে ফরদ্ব ছাড়া অন্য কিছু বিবেচনা করতেন না। একই সাথে তার অনুমতি ছাড়া তার কথার বিপরীতে কিছু করবার মতো দুঃসাহসীও কেউ ছিলো না। [বিধিবিধানের ক্ষেত্রে] আদেশ ও নিষেধের [হুকুমের] মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।

কেননা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,

إذَا نَهَيْتُكُمْ عَنْ شَيْءٍ فَاتْرُكُوهُ وَإِذَا أَمَرْتُكُمْ بِشَيْءٍ فَأْتُوا مِنْهُ مَا اسْتَطَعْتُمْ

          “আমি যদি কোনও ব্যাপারে নিষেধ করি তবে তা থেকে বিরত থাকো আর যদি কোনো বিষয়ে আদেশ করি তবে সাধ্যমতো তা মেনে চলো।”(বুখারি হা/৭২৮৮)

এবং রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম অন্য যে কাউকে খাওয়ানোর ব্যাপারটা একদম আম বা সাধারণ করে দিয়েছেন। তাই যদি এটি কোন নির্দিষ্ট কারো উপর হারাম হতো তাহলে তিনি তা অবশ্যই স্পষ্ট করে দিতেন।

وَمَا كَانَ رَبُّكَ نَسِيًّا

আর আপনার রব কখনো ভোলেন না। (সুরা মারইয়াম ৬৪)

وَمَا يَنْطِقُ عَنِ الْهَوَى إِنْ هُوَ إِلا وَحْيٌ يُوحَى

আর সে মনগড়া কথাও বলে না। সেইটা তো ওয়াহী, যা তার প্রতি প্রত্যাদেশ করা হয়। (সুরা নাজম ৩-৪)

আর জমা করা, হোক তা অল্প কিছু দিন বা দীর্ঘ সময়, তা আসলে জমা করাই।

এবং এখানে সবচেয়ে মজার ব্যাপার হলো, যারা তাদের অসম্পূর্ন বিচার-বুদ্ধি ও মাযহাবি পক্ষপাতদুষ্ট রায় দিয়ে আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের আদেশের পিছনে ‘ইল্লাহ[3] দাঁড় করায় এক্ষেত্রে তাঁদের ও কিছু ভূয়া-ভিত্তিহীন দাবী ছাড়া কোনো প্রমাণ নেই। আবার কিছু মানুষের মতিগতি এমন যে তারা একটি বিধান মানবে ঠিকই কিন্তু তার পিছনের কারণটিতে ভ্রুক্ষেপ-ই করবেন না। যেমনটি এক্ষেত্রে, রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম তিন দিনের বেশি মাংস বেশি না রাখার পিছনে কঠিন পরিস্থিতি ও দূর্দশাকে হেতু হিসেবে স্পষ্ট করে বলেই দিয়েছেন তবুও তারা এদিকে ভ্রুক্ষেপও করবে না, অবনতও হবে না। আমরা আল্লাহর কাছে এ থেকে পানাহ চাই।

فَإِنْ ذَكَرُوا مَا رُوِّينَا مِنْ طَرِيقِ إبْرَاهِيم الْحَرْبِيِّ عَنْ الْحَكَمِ بْنِ مُوسَى عَنْ الْوَلِيدِ عَنْ طَلْحَةَ بْنِ عَمْرٍو عَنْ عَطَاءٍ عَنْ ابْنِ مَسْعُودٍ «أَمَرَنَا رَسُولُ اللَّهِ – صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ – أَنْ نَأْكُلَ مِنْهَا ثُلُثًا وَنَتَصَدَّقَ بِثُلُثِهَا وَنُطْعِمَ الْجِيرَانَ ثُلُثَهَا»

 আবার, যদি তারা এই দলিল দেয়,

ইবরাহিম আল হাকিম বর্ণনা করেন আল হাকাম বিন মুসা থেকে, তিনি আল ওয়ালিদ থেকে তিনি ত্বলহাহ বিন ‘উমার থেকে, তিনি আত্বা থেকে, তিনি ইবনে মাস’উদ থেকে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কুরবানির মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ খেতে বলেছেন, এক ভাগ দান করতে ও এক ভাগ প্রতিবেশিকে খাওয়াতে বলেছেন। [ইবনু আবি শাইবাহ ১৩১৯০]

তবে বলা যায়, ত্বলহা মিথ্যা বলার জন্য কুখ্যাত এবং ‘আত্বা কখনো ইবনে মাস’উদের সাক্ষাত পান নি কারণ ইবনে মাস’উদের মৃত্যুর আগে তার জন্মই হয় নি। তাই এটি সহিহ নয়। তবে যদি এটি সহিহ হতো তবে আমরা এই মতই গ্রহণ করতাম এবং এর উপর আমল করার জন্য উদ্গ্রীব থাকতাম।

رُوِّينَا مِنْ طَرِيقِ عَبْدِ الرَّزَّاقِ عَنْ عُمَرَ عَنْ عَاصِمٍ عَنْ أَبِي مِجْلَزٍ قَالَ: أَمَرَ ابْنُ عُمَرَ أَنْ يُرْفَعَ لَهُ مِنْ أُضْحِيَّتِهِ بَضْعَةٌ وَيُتَصَدَّقَ بِسَائِرِهَا

যা হোক, আমরা আবি মিজলাস থেকে বর্ণনা করেছি যে, ইবনে ‘উমার আদেশ করতেন যেনো তার উদহিয়্যাহর এক ভাগ তিনি পান এবং বাকিটা দান করে দেয়া হয়।

وَمِنْ طَرِيقِ أَبِي الْجَهْمِ نَا أَحْمَدُ بْنُ فَرَجٍ نَا الْهَرَوِيُّ نَا ابْنُ فُضَيْلٍ عَنْ عَطَاءٍ.
عَنْ إبْرَاهِيمَ النَّخَعِيِّ قَالَ: سَافَرَ مَعِي تَمِيمُ بْنُ سَلَمَةَ فَلَمَّا ذَبَحْنَا أُضْحِيَّتَهُ فَأَخَذَ مِنْهَا بَضْعَةً فَقَالَ: آكُلُهَا؟ فَقُلْت لَهُ: وَمَا عَلَيْك أَنْ لَا تَأْكُلَ مِنْهَا؟ فَقَالَ تَمِيمٌ: يَقُولُ اللَّهُ تَعَالَى: {فَكُلُواْ مِنۡہَا وَأَطۡعِمُواْ ٱلۡبَآٮِٕسَ ٱلۡفَقِيرَ} [الحج: 28] فَتَقُولُ أَنْتَ: وَمَا عَلَيْك أَنْ لَا تَأْكُلَ

 

এবং আত্বা থেকে বর্ণিত যে, ইবরাহিম নাখা’ঈ বলেন, ‘ তামিম বিন সালামাহ আমার সাথে ভ্রমণ করলেন। যখন আমরা পশু যবেহ করলাম তিনি এক অংশ নিলেন এবং বলতে লাগলেন, ‘আমার কি এটা খাওয়া উচিত?’ আমি (ইবরাহিম) বললাম, ‘তোমাকে কিসে বাধা দিচ্ছে?’ সে বলল, তুমি আমাকে বলছ কিসে বাধা দিচ্ছে (?) যেখানে আল্লাহ বলেন,

فَكُلُواْ مِنۡہَا وَأَطۡعِمُواْ ٱلۡبَآٮِٕسَ ٱلۡفَقِيرَ

কাজেই তোমরা তা (উদহিয়্যাহ) থেকে খাও ও দুঃস্থ অভাবীদের খাওয়াও। (সুরা হাজ্জ ২৮)

[ ইংরেজি অনুবাদকের সংযোজনঃ আমরা এই সুরাতেই এর মতো আরেকটি আয়াত পাই,

فَكُلُواْ مِنۡہَا وَأَطۡعِمُواْ ٱلۡقَانِعَ وَٱلۡمُعۡتَرَّۚ

তখন তা থেকে খাও আর যারা ভিক্ষে করে (কাকুতি-মিনতি করে) ও যারা ভিক্ষে করে না (পরিতৃপ্ত থাকে) তাদেরকে খাওয়াও। (সুরা হজ্জ ৩৬)]

আবু মুহাম্মাদ (ইবনু হাযম) বলেন, “ তামিম এই আদেশকে ওয়াজিব মনে করতেন এবং এই সত্যটা তার চেয়ে ভালোভাবে কেউ ব্যাখ্যা করেন নি। তামিম ইবনে মাস’উদের জ্যেষ্ঠ সহচরদের একজন।”

ইবনে আবি শাইবাহ-য় বর্ণিত যে আবু সাঈদ তাঁর ছেলেকে বলতেন, “যখন তুমি তোমার কুরবানির পশু জবেহ করবে তখন তার মাংস তুমি অন্যদের খাওয়াবে, নিজে খাবে ও তা থেকে দান করবে।” এই একই বিষয় ইবনে মাস’উদ ও ‘আত্বা থেকেও বর্ণিত হয়েছে।

এটাও সত্য যে, সাইদ ইবনে আল মুসাইয়াব এবং ‘উরওয়াহ বিন আল যুবাঈর বলেন, “যে কুরবানি করেছে তার জন্য ঐ মাংসের শুধুমাত্র এক চতুর্থাংশ (বরাদ্দ)।”

مَا رُوِّينَاهُ مِنْ طَرِيقِ الْبُخَارِيِّ نَا إسْمَاعِيلُ بْنُ أَبِي أُوَيْسٍ حَدَّثَنِي أَخِي أَبُو بَكْرٍ عَنْ سُلَيْمَانَ هُوَ ابْنُ بِلَالٍعَنْ يَحْيَى بْنِ سَعِيدٍ الْأَنْصَارِيِّ عَنْ عَمْرَةَ «عَنْ عَائِشَةَ قَالَتْ فِي الضَّحِيَّةِ كُنَّا نُمَلِّحُ مِنْهُ فَنَقْدَمُ بِهِ إلَى النَّبِيِّصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَبِالْمَدِينَةِ فَقَالَ: لَا تَأْكُلُوا إلَّا ثَلَاثَةَ أَيَّامٍ» وَلَيْسَتْ بِعَزِيمَةٍ وَلَكِنْ أَرَادَ أَنْ يُطْعِمَ مِنْهُ

যদি তার এই হাদিসের দলিল দেন,

যা বুখারিতে বর্ণিত যাতে আয়েশাহ রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, মদিনায় অবস্থানকালে আমরা মাংসের মধ্যে লবণ মিশিয়ে রেখে দিতাম। এরপর তা নাবি সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের কাছে পেশ করা হলে তিনি বলতেনঃ তোমরা তিন দিনের বেশি খাবে না। তবে এটি ‘আযীমাহ (শক্ত বাধ্যতাকারী আদেশ) নয়। বরং তিনি তা থেকে অন্যদেরকেও খাওয়াতে চেয়েছেন। আল্লাহই বেশি জানেন।

তবে জাওয়াবে বলা যায়, এই বর্ণনা তাদের জন্য দলিল হতে পারে না কারণ, ‘এটি ‘আযীমাহ নয়’ শব্দগুলো রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর ভাষ্য নয়, এটা কিছু বর্ণনাকারীর সন্দেহ বা ধারণা মাত্র, যা বোঝা যায় শেষ বাক্য থেকে, ‘তিনি তা থেকে অন্যদের খাওয়াতে চেয়েছেন। আল্লাহই বেশি জানেন’

[বিঃদ্র; ইবনু হাজার ফাতহুল বারি খ-১০, পৃ ৩৪ (দারুস সালাম, রিয়াদ)- এ বলেন, আল ইসমাঈলির মতে ‘এটি ‘আযীমাহ নয়’-শব্দগুলো দ্বারা অতিরিক্ত যে ভাষ্য এসেছে তা ইয়াহইয়া বিন সাঈদ আল আনসারির]

আবু বাক্‌র্‌ বিন আবি উনাইস এর বর্ণনায় এসেছে যে উমার রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর মতো ‘আলি ইবনে আবি ত্বালিবও এটিকে ওয়াজিব মনে করতেন।

عَنْ أَبُو عُبَيْدٍ مَوْلَى ابْنِ أَزْهَرَ أَنَّهُ شَهِدَ الْعِيدَ مَعَ عُمَرَ بْنِ الْخَطَّابِ قَالَ: ثُمَّ صَلَّيْت مَعَ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ فَصَلَّى لَنَا قَبْلَ الْخُطْبَةِ ثُمَّ خَطَبَ النَّاسَ فَقَالَ: إنَّ رَسُولَ اللَّهِصَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَقَدْ نَهَاكُمْ أَنْ تَأْكُلُوا لُحُومَ نُسُكِكُمْ فَوْقَ ثَلَاثِ لَيَالٍ فَلَا تَأْكُلُوا

মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে ইবনে আযহারের মুক্তকৃত দাস আবু ‘উবাইদ বলেন যে, তিনি ঈদের সালাতে ‘উমার বিন খাত্ত্বাবের সাথে ছিলেন। ও তিনি (অন্য সময়ের) ঈদে ’আলি বিন আবি ত্বলিবের সাথে সালাত আদায় করেন। তিনি খুত্ববার পূর্বে ঈদের সালাত আদায় করান। অতঃপর খুত্ববায় তিনি লোকদের বলেন, আল্লাহর রাসুল তিন রাত্রি অতিবাহিত হবার পর তোমাদের জবেহকৃত পশুর মাংস খেতে নিষেধ করেছেন তাই তোমরা তা খেও না। (মুসলিম)

عَنْ أَبِي عَبْدِ الرَّحْمَنِ السُّلَمِيِّ عَنْ عَلِيِّ بْنِ أَبِي طَالِبٍ قَالَ: لَا يَأْكُلْ أَحَدٌ مِنْ لَحْمِ أُضْحِيَّتِهِ فَوْقَ ثَلَاثٍ

আবু ‘আব্দুর রহমান আস সুলামি ‘আলি বিন আবি ত্বলিব থেকে বর্ণনা করেন, তিনি (‘আলি) বলেছেন, “তোমাদের কারোরই উদহিয়্যাহ-র মাংস তিন দিন অতিবাহিত হবার পর খাওয়া উচিত নয়।“

‘আলি (ইবনু হাযম) বলেন,

ইবনে আযহারের মুক্তকৃত দাস, আবু উবাইদ হাদিসে বলেন, ‘এটি উসমান রাদ্বিয়াল্লাহু আনহুর গৃহবন্দির বছর ছিলো ও মদিনার আল-বাওয়াদির নিকটও ফিতনাহ পৌঁছে গিয়েছিলো এবং কঠিন পরিস্থিতি তাদের গ্রাস করেছিলো , আর সেজন্যই রাসুল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের মতো কঠিন পরিস্থিতি ও বহিরাগতদের আগমনের সময় করা আদেশের মতো করেই তারা সেসময়ের লোকদের এটি আদেশ করেন।

وَبِاَللَّهِ تَعَالَى التَّوْفِيق

এবং আল্লাহর সাথেই সাফল্য।

ইবনু হাযম আন্দালুসি, মুহাল্লা বিল আথার, বৈরুত, দার ফিকর, শামেলা,খন্ড-৬, পৃঃ ৪৮-৫১

 

পাদটীকা

[1] ‘উদহিয়্যাহ’- আমাদের বহুল প্রচলিত ‘কুরবানি’-র পারিভাষিক শব্দ,যা কুর’আন-সুন্নাতে ব্যবহৃত হয়েছে।

[2] মাংস শব্দের অর্থ ‘মায়ের অংশ’ বা ‘এটি হিন্দুয়ানি শব্দ’- ইত্যাদি যে ধারণা প্রচলিত আছে তা সঠিক নয়। উল্লেখ্য- যদি এর অর্থ মায়ের অংশ হতো তবে এর বানান হতো ‘মাংশ’। কিন্তু বাংলা কোনো অভিধানেই এমন বানান পাওয়া যায় না। সর্বোপরি এটি আমাদের মাতৃভাষা বাংলার শব্দ ভান্ডারের একটি শব্দ, কোনো নির্দিষ্ট ধর্মশাস্ত্রের নয়।

[3] কোনো বিধানের পিছনের সুপ্ত কারণ যা কুর’আন-সুন্নাহয় উল্লেখ থাকে না ফিক্বহী পরিভাষায় তাকে ‘ইল্লাহ বলে।

[4] মূল ইংরেজি অনুবাদঃ Eating from the Meat of Udhiyyah – Ibn Hazm Al Andalusi