মূলঃ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উথাইমিন রহিমাহুল্লাহ
অনুবাদঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী

 

 

الكلام (আল-কালাম)

 

সংজ্ঞাঃ

ক। ভাষাগতঃ

اللفظ الموضوع  لمعنى

অর্থাৎ, কোন একটি শব্দ যা কোন বিশেষ অর্থের জন্য রাখা হয়েছে।

 

খ। ইস্তালাহী (পারিভাষিক) ঃ

اللفظ المفيد

অর্থাৎ, ফায়দাকারী শব্দ। যেমনঃ الله ربنا،  (আল্লাহ আমাদের রব) এবং ومحمد نبينا  (মুহাম্মদ (ﷺ) আমাদের নবী)।

কালামের জন্য কমপক্ষে দুইটি اسم (ইসম বা বিশেষ্য) আবশ্যক। অথবা একটি فعل (ফি’ল বা ক্রিয়া) অথবা একটি ইসম।

প্রথম উদাহরণঃ محمد رسول الله  বা মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল, দ্বিতীয় উদাহরণঃ استقام محمد মুহাম্মাদ দাঁড়াল।

 

الكلام  বা আল-কালাম এর বহুবচন  كلمة  বা কালিমা। আর তা হলঃ কোন একটি শব্দ যা রাখা হয়েছে কোন একটি বিশেষ অর্থের জন্য। সেটা হয় اسم (ইসম বা বিশেষ্য) বা না হয় فعل (ফি’ল বা ক্রিয়া) না হয় বা حرف (হরফ, অব্যয়)।

 

১। اسم (ইসম, বিশেষ্য):

ما دل على معنى في نفسه من غير إشعار بزمن

অর্থাৎ, ইসম হচ্ছে তা যা এর নিজের মাঝে কোন অর্থের দিকে নির্দেশ করে[1] যা সময়ের সাথে এর উপর কোন প্রভাব ব্যতীত। এবং এটি তিন প্রকার।

প্রথমতঃ যা কিছু আ’ম (عام বা সর্বসাধারণীকৃত) কে ফায়দাকৃত করে। যেমনঃ اسماء الموصولة ( আসমা আল মাওসুলাহ, বা সংযোজক বিশেষ্য সমূহ)[2] [3]

দ্বিতীয়তঃ  যা কিছু  الإطلاق (ইতলাক) কে ফায়দাকৃত করে। [4]  যেমনঃ হাঁ বোধক অর্থে نكرة (নাকিরাহ বা অনির্দিষ্ট)

তৃতীয়তঃ যা কিছু الخصوص (খুসুস বা খাস হওয়া) কে ফায়দাকৃত করে। যেমনঃ الأعلام বা চিহ্ন। [5]

 

২। الفعل (ফি’ল, ক্রিয়া):  

ما دل على معنى في نفسه وأشعر بهيئته بأحد الأزمنة الثلاثة

অর্থাৎ, যা এর নিজের মাঝে কোন অর্থের দিকে নির্দেশ করে এবং তিন ধরণের সময় এর উপর প্রভাব বিস্তার করে। [6] হয় তা অতীত কাল যেমনঃ “فهم ফাহিমা বা সে বুঝেছিল”। বা বর্তমান কাল যেমনঃ“يفهم ইয়াফহামু বা সে বুঝে’ । বা আদেশসূচক বুঝায় যেমনঃ ‘إفهم ইফহাম বা বুঝো’।

الفعل এর বিভিন্ন প্রকারভেদ দ্বারা মুতলাককে ফায়দাকৃত করে। সুতরাং এর জন্য কোন আ’ম বা সর্বসাধারণীকৃত হয় না।[7]

 

৩। الحرف (হরফ, বা অক্ষর):

ما دل على معنى في غيره

যা অন্য কোন একটি অর্থের দিকে নির্দেশ করে।

 

এর মধ্যে রয়েছেঃ

ক। الواو (আল-ওয়াও): এবং এটি হচ্ছে কোন জিনিষের যুক্ত হওয়া নিয়ে আসে। অর্থাৎ হুকুমের ক্ষেত্রে যে দুটি সংযুক্ত সে দুটির একটির আরেকটির সাথে শরীক হওয়ার দিকে নির্দেশ করে। এটি কর্মের ধারাবাহিকতার দিকে নির্দেশ করে না। এবং এটিকে (শরীক হওয়ার বিষয়টিকে) অস্বীকার করা যায় না যদি না তার জন্যে কোন দলিল থাকে। [8]

খ। الفاء (আল-ফা): এবং এটি হচ্ছে কোন জিনিষের যুক্ত হওয়া নিয়ে আসে।অর্থাৎ হুকুমের ক্ষেত্রে যে দুটি সংযুক্ত সে দুটির একটির আরেকটির সাথে শরীক হওয়ার দিকে নির্দেশ করে যা তারতীব তথা ক্রম সহকারে এবং তা’ক্বীব তথা ফলাফল সহকারে অর্থাৎ  যা একটির ফলাফল স্বরূপ অপরটি হওয়ার ব্যপারে ফায়দাকৃত করে।এছাড়া سببية বা কারণবশতঃ যা তা’লীল কে ফায়েদাযুক্ত করে। [9]

গ। الام الجارة (আল লাম আল জাররাহ, সম্পর্কযুক্ত লাম) ঃ এর বিভিন্ন অর্থ রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে التعليل (আত-তা’লীল, অর্থ সম্পর্ক) এবং التمليك (আত তামলীক, অর্থ মালিকানা) এবং الإباحة (আল ইবাহাহ, অর্থাৎ কোন কিছু মুবাহ বা অনুমোদিত হওয়া)। [10]

ঘ।على الجارة (‘আলা আল জাররাহ, সম্পর্কযুক্ত ‘আলা) ঃ এর বিভিন্ন অর্থ রয়েছে, এর মধ্যে রয়েছে وجوب (ওয়ুজুব যা ওয়াজিব এর বহুবচন, অর্থাৎ ওয়াজিব হওয়া)। [11] [12]

 

 

 

পাদটীকা

 

[1] ما دل على معنى  (যা অর্থের দিকে নির্দেশ করে) অর্থাৎ, এটি এমন এক প্রকার যাতে ফি’ল ও হরফ এই দুটিই প্রবেশ করে।

ما دل على معنى في نفسه অর্থাৎ, নিজের অর্থের দিকে নির্দেশ করে। আমরা বলি, এখানে হরফ অন্তর্ভুক্ত নয়। কেননা এটি অন্য অর্থের দিকে নির্দেশ করে।

এবং আমাদের বক্তব্যঃ ‘من غير إشعار بزمن’ বা ‘সময়ের কোন প্রভাব ব্যতীত’। এটি এমন এক ভাগ যা হতে ফি’ল বহির্গমন করে, কেননা তা – অর্থাৎ ফি’ল – নিজের অর্থের দিকে নির্দেশ করে যা তার উপর সময়ের প্রভাবের সাথে।

(شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০২)

 

[2] অনুবাদকঃ اسماء الموصولة (আসমা’ আল মাওসুলাহ,বা সংযোজক বিশেষ্য) সমূহ হচ্ছেঃ

الذي ، التي ، اللذان ، اللتان ، اللذين ، اللتين ، الذين ، الألى ، اللاتي ، اللائي

 

[3] একই সাথে সেই ‘ال’ যা এমন কোন শব্দের সাথে ব্যবহৃত হয়, যা কসম বা প্রতিজ্ঞা মূলক নয়; সে ক্ষেত্রেও তা আ’ম এর দিকে নির্দেশ করে। আল্লাহ বলেনঃ

وَالْعَصْرِ

إِنَّ الإِنسَانَ لَفِي خُسْرٍ

অর্থাৎ, সময়ের শপথ। الإِنسَانَ দ্বারা সমস্ত মানুষ নির্দেশ করে। (১০৩ঃ১-২)

(অনুবাদকঃ অর্থাৎ إنسان শব্দের সাথে ال এর সংযোজনের ফলে তা সকল মানুষ নির্দেশ করেছে।)

(شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০৩)

 

[4] যদি আমি বলতাম, أكرم رجلا (এক ব্যক্তিকে সম্মান বা আতিথেয়তা প্রদর্শন কর।), সে ক্ষেত্রে এটি সকল ব্যক্তিকে সাধারণিকৃত করে না, বরং এর উদ্দেশ্য হচ্ছে একজন ব্যক্তি। সুতরাং তা সকল ব্যক্তিকে সাধারণীকৃত করে না। কিন্তু এ ক্ষেত্রে যে নাকিরাহ রয়েছে তা شمول بدلي (শুমুল বাদলী, অর্থ কোন কিছুর সকল বিকল্পের অন্তর্ভূক্তি; নিচে এর ব্যাখ্যা আসছে) যা شمول عمومي (শুমুল উমুমী, অর্থ সকল কিছুর অন্তর্ভূক্তি) নয়।

 

ক। شمول بدلي (শুমুল বাদলী):

আমরা শুমুল বাদলী দ্বারা এ কথা বুঝাই যে আপনি যদি বলেন, “এক ব্যক্তিকে সম্মান বা আতিথেয়তা প্রদর্শন কর”, তবে সে ক্ষেত্রে আপনি সাধারণিকৃত করবেন সকল পুরুষকে বিকল্প হিসেবে। সুতরাং যদি আমার সম্মুখে একশত জন ব্যক্তি থাকে, তবে তাদের মধ্য হতে যে কোন একজন অন্তর্ভুক্ত হবে বিকল্প হিসেবে, কিন্তু তাদের সকলে অন্তর্ভুক্ত হবে না।

যদি ঐ ব্যক্তি, যাকে এ আদেশ আমি দিয়েছিলাম যে একজন পুরুষকে সম্মান বা আতিথেয়তা প্রদর্শন কর, সে বলে, “আমি একশত জনের সবাইকে আতিথেয়তা প্রদর্শন করব।”, তাহলে আমরা বলব, এটি সঠিক নয়। কেননা আপনার জন্যে দরকার ছিল একজন ব্যক্তিকে আতিথেয়তা প্রদর্শন কর বা আতিথেয়তা প্রদর্শন কর। এটি লেখনীর বিরুদ্ধে। বরং আপনি ঐ ব্যক্তিদের মধ্য হতে একজনকে মাত্র বিকল্প স্বরূপ আতিথেয়তা প্রদর্শন করবেন। সুতরাং আপনি একজনকে আতিথেয়তা প্রদর্শন করবেন অথবা আপনি বিশজনকে আতিথেয়তা প্রদর্শন করবেন অথবা আপনি পঞ্চাশজনকে আতিথেয়তা প্রদর্শন করবেন অথবা আপনি একশত জনকে আতিথেয়তা প্রদর্শন করবেন; কিন্তু যদি আপনি একশত জনের সবাইকে আতিথেয়তা প্রদর্শন করেন তবে নাহ।

 

খ। شمول عمومي (শুমুল উমুমী):

উপরোক্ত বিষয়টি শুমুল উমুমীর বিপরীত। কেননা তা হচ্ছে অন্তর্ভূক্ত করবার সবার্থে প্রত্যেকটি কিছুকে অন্তুর্ভূক্ত করা।

সুতরাং, হাঁ বোধক অর্থে نكرة (নাকিরাহ বা অনির্দিষ্ট) হওয়ার বিষয়টি إطلاق (ইতলাক, অর্থাত শুমুম বাদলীর ফলাফল) শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং আমাদের বক্তব্যঃ أعتق رقبة (অর্থাত একজন দাসকে মুক্ত কর) এর অর্থ এরূপঃ এর মাঝে সকল দাস অন্তর্ভুক্ত বিকল্প হিসেবে।

(شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০৩)

 

[5]  الأعلام অর্থাৎ কোন চিহ্ন। সে সকল নাম যাদের নামাঙ্কৃত করবার উপর কোন প্রকার চিহ্ন রাখা হয়েছে। যেমনঃ যাঈদ ও মুহাম্মদ, ওমর, খালিদ,বাকর এবং অন্যান্য।

আমরা বলিঃ নামগুলি খা’সকে ফায়দাকৃত করে। এই কারণেই তাদের নামকরণকে নির্দিষ্ট করা হয়।

‘اسم الإشارة’(ইসমুল ইশারা, অর্থাৎ নির্দেশকারী নামসমূহ, উদাহরণস্বরূপঃ هذا ، ذلك) যে নামকরণ করা হয়েছে তাকে নির্দিষ্ট করে। সুতরাং, তা খাস এর দিকে নির্দেশ করে। (شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০৪)

 

[6] অনুবাদকঃ যেমনঃ ضرب বা মেরেছিলাম, যা অতীত কাল দ্বারা প্রভাবিত। اضرب বা মারব, যা ভবিষ্যৎ  কাল দ্বারা প্রভাবিত। يضرب বা এখন মারছি যা বর্তমান কাল দ্বারা প্রভাবিত।

 

[7] ফি’ল এর সকল প্রকারভেদে মুতলাককে ফায়দাকৃত করে, সুতরাং এর কোন আম অবস্থা হয় না, যদি না এর সাথে কোন كرينة (কারিনাহ, সাথী অর্থ) থাকে।

যদি বলি, صام زيد يوم الإثنين (যাইদ সোমবার রোজা রেখেছে।), এটি এই নির্দেশ করে না যে যাইদ প্রত্যেক সোমবার রোজা রাখে। বরং তা এই নির্দেশ করে যে যাইদ শুধুমাত্র সোমবার রোজা রেখেছে, যদি সেটা মাত্র একবারও হয়। কিন্তু যদি এ ক্ষেত্রে কোন কারিনাহ পাওয়া যায়, তবে তা ঠিক আছে। যেমন যদি বলা হয়, كان يصوم يوم الإثنين (সে সোমবার রোজা রাখত), সে ক্ষেত্রে كان শব্দটি প্রধানত কোন বিষয়কে অবিরত হওয়ার বিষয়ে ফায়দাকৃত করে। সুতরাং তা ‘আম এর দিকে নির্দেশ করে।

আর আমি যদি বলতাম, سها النبي فسجد অর্থাত নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সালাম (সালাতের মধ্যে) ভুলে গিয়েছিলেন, তাই তিনি সিজদা করেছিলেন। সুতরাং প্রত্যেক ভুলে যাওয়াকে এই (سها) শব্দ দ্বারা ‘আম করা হয়নি। কিন্তু কিয়াসের দৃষ্টিকোণ হতে সকল سهو (সাহউ অর্থাত অমনোযোগী হওয়া বা ভুলে যাওয়া) কে ‘আম করা হয়েছে। সুতরাং যখন তিনি একটা বিশেষ ক্ষেত্রে ভুলে যাওয়ার কারণে সিজদা করলেন, এর ফলে কিয়াস হচ্ছে প্রত্যেক ভুলে যাওয়ার ক্ষেত্রে সিজদা করা। কেননা শারীয়াহ দুটি সম উদাহরণের বেলায় পার্থক্য করে না।

কিন্তু এখানে আমরা فسجد (ফা সাজাদা, অর্থাত সুতরাং সে সিজদা করল) শব্দে إلفاء (আল ফা) ব্যবহৃত, যা হচ্ছে السببية (আস সাবাবিয়্যাহ, কারণসূচক), সুতরাং তা العلية (উলইয়াহ), অর্থাত অত্যন্ত গুরুত্ববহ।

কালাম বিষয়ক এই আলোচনার আসল স্থান ব্যকরণের জ্ঞান। কিন্তু এ সকল বিষয়ের অর্থ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যা ফিকহ এবং এর উসুলের সাথে সম্পর্কযুক্ত। উদাহরণস্বরূপ, কালামের ক্ষেত্রে আমরা পূর্বে আলোচনা করেছি যে তা ফায়দাকারী শব্দ। সুতরাং যদি কোন বক্তা তার নারীকে বলে انت বা তুমি, আর সে তার পাশ ফিরিয়ে বলে طالق বা তালাকপ্রাপ্তা, তবে তাতে তালাক দেওয়া হয় না। কেননা তা কালাম নয়। কেননা কালামের ক্ষেত্রে এটি ওয়াজিব যে তা ফায়দাকারী শব্দ হবে।

(شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০৫)

 

[8]  এ হতে আমরা এ ফায়দা লাভ করি, যে الواو  ক্রমের দিকে নির্দেশ করে না এবং এটিকে অস্বীকার করা যায় না যদি না তার জন্যে কোন দলিল থাকে। যদি কোন নাস্ব বা ওয়াহী সংক্রান্ত দলীল পাওয়া যায় ওয়াও দ্বারা একটির সাথে আরেকটি সম্পর্কযুক্ত, তবে সে ক্ষেত্রে তা অংশীদারিত্বের কারণে। এটি কর্মের দিকে নির্দেশ করেনা এবং এটিকে অস্বীকার করা যায় না যদি না তার জন্যে কোন দলিল থাকে।  উদাহরণস্বরূপ,

 

১। আল্লাহ বলেনঃ

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ

অর্থাৎ, নিঃসন্দেহে সাফা ও মারওয়া আল্লাহ তা’আলার নিদর্শন গুলোর মধ্য থেকে। (সূরা বাকারাহ ২:১৫৮)।

এ ক্ষেত্রে الواو সংযোগকারী এবং তা ক্রম নির্দেশ করে না। কিন্তু রাসূল (ﷺ) এর বক্তব্য যখন সাফা পর্বতের সম্মুখীন হন, তখন তিনি পাঠ করেনঃ

إِنَّ الصَّفَا وَالْمَرْوَةَ مِن شَعَائِرِ اللَّهِ

নিশ্চয়ই সাফা এবং মারওয়াহ আল্লাহ্‌র নিদর্শনসমূহের অন্তর্গত। (২ঃ১৫৮)

এরপর বলেনঃ

أبدأ بما بدأ الله به

অর্থাৎ, ‘আমি শুরু করলাম যেখানে থেকে আল্লাহ্‌ শুরু করেছেন।’

সুতরাং রাসূল ﷺ এর বক্তব্য হতে তা আমাদের ক্রমের ব্যপারে ফায়দাকৃত করে ।

(অনুবাদকঃ অর্থাত এক্ষেত্রে কারিনাহ হল- রাসূল ﷺ এর হাদীস। এ কারণেই এ ক্ষেত্রে ক্রম নির্ধারিত হয়েছে। না হয়, সাফাও মারওয়া একটি আরেকটির শরীক হিসেবে বিবেচিত হত।)

 

২। আল্লাহ আরো বলেনঃ

إِنَّمَا الصَّدَقَاتُ لِلْفُقَرَاء وَالْمَسَاكِينِ وَالْعَامِلِينَ عَلَيْهَا وَالْمُؤَلَّفَةِ قُلُوبُهُمْ وَفِي الرِّقَابِ وَالْغَارِمِينَ وَفِي سَبِيلِ اللَّهِ وَابْنِ السَّبِيلِ

সাদাকাহ হল কেবল ফকির, মিসকীন, যাকাত আদায় কারী ও যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদে হক এবং তা দাস-মুক্তির জন্যে-ঋণ গ্রস্তদের জন্য, আল্লাহর পথে জেহাদকারীদের জন্যে এবং মুসাফিরদের জন্যে। (সূরা তাওবা ৯:৬০)

সবগুলো একটির সাথে আরেকটিالواو বা আল ওয়াও দ্বারা সংযুক্ত। তাহলে কি আমরা বলব যে আমরা মিসকিনদের দেবনা যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা ফকিরদের দেব? এবং যাকাত আদায় করবার জন্যে যারা কাজ করে তাদের ততক্ষণ দেবনা যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা ফকির ও মিসকিনদের দেব? আর আমরা যাদের চিত্ত আকর্ষণ প্রয়োজন তাদের ততক্ষণ দেবনা যতক্ষণ না পর্যন্ত আমরা পূর্ব তিনটি দলকে দেব?

এর জবাবঃ নাহ, সুতরাং তা ক্রমকে ফায়দাকৃত করে না, সুতরাং এ ক্ষেত্রে প্রথমে পরের জনকে দেবার পর প্রথম জনকে দেওয়া জায়েয।

 

৩। আল্লাহ আরো বলেনঃ

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُواْ إِذَا قُمْتُمْ إِلَى الصَّلاةِ فَاغْسِلُواْ وُجُوهَكُمْ وَأَيْدِيَكُمْ إِلَى الْمَرَافِقِ وَامْسَحُواْ بِرُؤُوسِكُمْ وَأَرْجُلَكُمْ إِلَى الْكَعْبَيْنِ

অর্থাৎ, হে মুমিনগণ, যখন তোমরা নামাযের জন্যে উঠ, তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর, মাথা মুছেহ কর এবং পদযুগল গিটসহ। (সূরা মায়িদাহ ৫:৬)

যা ক্রমের দিকে নির্দেশ করে। এর দলিল হল সুন্নাহ। কারণ রাসূল (ﷺ) এগুলো ক্রমানুসারে করতেন। উলামারা এই আয়াতের ব্যাপারে ইখতিলাফ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেনঃ এটি ক্রমের কারণে নয়, যদি না তা মুস্তাহাব স্বরূপ হয়, তা ওয়াজিব স্বরূপ নয়।

(সংক্ষেপিতঃ شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০৭ – ১০৮)

 

[9] যদি বলা হয়ঃ “جاء زيد فعمر” বা “যাঈদ এল অতঃপর উমার এলো”। সুতরাং এখানে ক্রম এবং একের ফলাফল স্বরূপ অপরটি হওয়ার ব্যপারটি ফায়দাকৃত হয়েছে।

কিন্তু এই ফলাফল তৎক্ষণাৎ হতে হবে, এমন কোন বিষয় নেই। বরঞ্চ কখনো কখনো এ ফলাফল দেরীতেও আসতে পারে। কেননা প্রত্যেক কিছু এর সীমা অনুযায়ী। উদাহরণ স্বরূপ বলা হলঃ تزوز زيد فولد له বা “যাঈদ বিয়ে করল এবং তার সন্তান জন্ম নিল”। হয়ত তার এ সন্তান হল নয় বছর পর। কিন্তু যদি তার নারী সঙ্গমের দুই বছর পর গর্ভবতী না হয়, সে ক্ষেত্রে এ বিরতির কারণে এ কথা বলতে কোন বাধা রয়েছে, এমন কোন বিষয় নেই।

এবং আল্লাহ্‌র বক্তব্যঃ

أَلَمْ تَرَ أَنَّ اللَّهَ أَنزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَتُصْبِحُ الأَرْضُ مُخْضَرَّةً إِنَّ اللَّهَ لَطِيفٌ خَبِيرٌ

আপনি কি লক্ষ্য করেননি যে আল্লাহ্‌ পানি বর্ষণ করেন আকাশ হতে, এর পর পৃথিবী হয়ে ওঠে সবুজ। নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ সম্যক সূক্ষ্মদর্শী, পরিজ্ঞাত। (২২ঃ৬৩)

সুতরাং যখন বৃষ্টি নেমে এল, তার পর এতে (পৃথিবীতে) গাছ পালা বেড়ে উঠল।

(সংক্ষেপিতঃ شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০৮ – ১০৯)

এখানে سببية বা কারণবশতঃ হওয়ার অর্থ ل এর আগের বিষয়টি এর পরের বিষয়ের কারণ। যেমন আল্লাহ্‌ তা’আলা বলেনঃ

وَ لَا تَطۡغَوۡا فِیۡہِ فَیَحِلَّ عَلَیۡکُمۡ غَضَبِیۡ ۚ
এবং এতে সীমালংঘন করো না। নচেৎ আমার রাগ তোমাদের উপর হালাল হয়ে যাবে। (সুরাহ ত্বহাঃ ৮১)।

সুতরাং এখানে যে ف টি রয়েছে তা سببية বা কারণবশতঃ, অর্থাৎ পূর্বের বিষয়টি (সীমালংঘণ করা) পরের বিষয়টির (আল্লাহ্‌র রাগ) কারণ।

( شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০৯)

 

 

[10] এ ক্ষেত্রে এ বর্ণনা হয়েছে যে الام الجارة (আল লাম আল জাররাহ, সম্পর্কযুক্ত লাম)কে পৃথক করা হয়েছে এ ব্যতীত অপর ل সমূহ হতে, যেমন لام الإبتداء (লাম আল-ইবতিদাই, প্রারম্ভিক লাম), لام التوكيد (লাম আত-তাওকীদ, গুরুত্ব আরোপকারী লাম) এবং এ প্রকার অন্য যা রয়েছে।

উদাহরণসমূহঃ

 

১। التعليل (আত-তা’লীল, সম্পর্কবোধক) ঃ

أحببت زيدا لإيمانه

অর্থাৎ যাইদকে আমি ভালবেসেছি তার ঈমানের জন্যে।

(অনুবাদকঃ এ ক্ষেত্রে لإيمانه বা ‘ঈমানের জন্যে’ শব্দতে ব্যবহৃত ل সম্পর্কবোধক)।

 

২। التمليك (আত তামলীক, অর্থ মালিকানা) ঃ

هذا المال لك

অর্থাৎ এই ধন আপনার জন্যে।

(অনুবাদকঃ এ ক্ষেত্রে لك বা ‘আপনার জন্যে’ শব্দতে ব্যবহৃত ل মালিকানা নির্দেশক)।

 

৩। الإباحة (আল ইবাহাহ, অর্থাৎ কোন কিছু মুবাহ বা অনুমোদিত হওয়া)ঃ

و للإنسان أن يصلي النفل جالسا مع القدرة على القيام

অর্থাৎ আর মানুষের জন্যে (এটি জায়িয) যে সে বসাবস্থায় নফল সালাত আদায় করতে পারবে যদিও তার দাঁড়াবার শক্তি থাকে।

(অনুবাদকঃ এ ক্ষেত্রে للإنسان বা ‘মানুষের জন্যে’ শব্দতে ব্যবহৃত ل মুবাহ বা অনুমোদিত হওয়া নির্দেশক)।

(সংক্ষেপিতঃ شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১০৯ – ১১০)

 

[11] কখনো على (‘আলা) এমনভাবে ব্যবহৃত হয় যা على الجارة (‘আলা আল জাররাহ, সম্পর্কযুক্ত ‘আলা) ব্যতীত, যদি এতে من (মিন, অর্থ থেকে) ব্যবহৃত হয়, তখন তার অর্থ হয়ে যায় فوق (উপরে)। উদাহরণস্বরূপঃ

دخلت عليه الدار من على الجدار

সে বাড়িতে প্রবেশ করল দেওয়ালের উপর হতে।

অর্থাৎ من فوق অর্থাৎ উপর হতে। সুতরাং এতে আমাদের কালাম প্রবেশ করে না।

(সংক্ষেপিতঃ شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১১০)

 

[12] যেমন বলা হয়ঃ

عليك أن تخلص العبادة لله

আপনার জন্যে (ওয়াজিব) যে আপনি আল্লাহ্‌র জন্যে ইবাদাত খালিস বা একাগ্র করবেন।

عليك এর অর্থ আপনার জন্যে ওয়াজিব।

ফকিহ গনের বক্তব্যে এরূপ অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে, তাঁরা বলেন, উদাহরণ স্বরূপঃ

و عليه أن يقول كذا  অর্থাৎ ‘এবং তার জন্যে (এটি ওয়াজিব) যে সে যেন এরূপ বলে’।

و عليه أن يتوب  অর্থাৎ ‘এবং তার জন্যে (এটি ওয়াজিব) যে সে যেন তাওবা করে’।

و عليه أن يسجد অর্থাৎ ‘এবং তার জন্যে (এটি ওয়াজিব) যে সে যেন সিজদা করে’।

এবং এরূপ অন্যান্য যা রয়েছে।

(সংক্ষেপিতঃ شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ১১০)