মূলঃ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উথাইমিন রহিমাহুল্লাহ
অনুবাদঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী এবং মুহাম্মাদ আসিম উল্লাহ ইবন মুহিব

 

الأحكام الوضعية (ওয়াদিয়াহ’র হুকুমসমূহ )

 

ওয়াদিইয়াহ’র হুকুম হলঃ

ما وضعه الشارع من أمارات لثبوت أو انتفاء أو نفوذ أو إلغاء

যা কিছু শরীয়ত প্রদানকারী (অর্থাৎ আল্লাহ) রেখেছেন চিহ্নসমূহ হতে; প্রমাণের উদ্দেশ্যে, অথবা নিবারণ বা শেষ করার উদ্দেশ্যে অথবা পালন করার উদ্দেশ্যে অথবা পরিত্যাগ করার উদ্দেশ্যে।

এবং এর মধ্যে রয়েছে  الصحة ( আস-সিহহা, অর্থাৎঃ সঠিকতা) এবং الفساد (আল-ফাসাদ, অর্থাৎঃ বাতিল )।

 

১।  الصحيح(আস-সাহিহ):

এর ভাষাগত অর্থ যা অসুস্থতা থেকে মুক্ত।

 

ইস্তালাহী অর্থেঃ

ما ترتبت آثار فعله عليه

কোন কাজে সম্পাদনে তা হতে যে آثار (আথার, অর্থাৎ চিহ্ন) ফলস্বরূপ হয়। হোক তা ইবাদাত অথবা চুক্তিতে।

 

ইবাদত এর ক্ষেত্রে সাহিহঃ যার দ্বারা ذمة (যিম্মাহ, অর্থাৎ কোন কাজ করবার আবশ্যিকতা) হতে মুক্ত হয়, এবং طلب (তালাব, পূর্বে সংজ্ঞা দেওয়া হয়েছে) এর অবসান ঘটে।

এবং চুক্তির মধ্যে সাহিহঃ কোন কিছুর অস্তিত্বমান হওয়ার উপর যে চিহ্ন এর ফলস্বরূপ হয়, যেমন উদাহরণ স্বরূপ, বিক্রয়ের চুক্তির ফলশ্রুতিতে মালিকানা ন্যস্ত হয়।

কোন জিনিষ সহিহ হয় না যতক্ষণ না তা সমস্ত شرط (শর্ত) পূরণ করে এবং তা সকল প্রকার مانع (মানি’, অর্থাৎ বাধাপ্রদানকারী কারণ) কে নিবারণ করে।

ইবাদতের ক্ষেত্রে উদাহরণ হলঃ ওয়াক্তের মধ্যে সমস্ত শর্ত, আরকান ও ওয়াজিব সমূহ পূরণ করে সলাত আদায় করা।

চুক্তির ক্ষেত্রে উদাহরণ হলঃ  কেনা বেচার চুক্তি করা সকল জানা শর্ত পূরণ করার সাথে সাথে সকল বাধাপ্রাদানকারী কারণকে নিবারণ করে। যদি শর্তসমূহের কোন একটি শর্ত বাদ পড়ে যায় অথবা বাধাপ্রদানকারী কারণ সমূহের মধ্যে কোন একটি কারণের অস্তিত্ব পাওয়া যাওয়া সেক্ষেত্রে এ বিষয়টি সাহিহ হওয়ার ক্ষেত্রে বাধাপ্রাপ্ত হয়।

ইবাদতের মধ্যে শর্ত ছুটে যাওয়ার উদাহরণ হলঃ শরিয়তসম্মতভাবে পবিত্রতা অর্জন ব্যতীত যদি কেউ সলাত পড়ে।

চুক্তির ক্ষেত্রে শর্ত ছুটে যাওয়ার উদাহরণ হলঃ কোন ব্যক্তি এমন কিছু বিক্রয় করল যার মালিক সে নয়।

এবং ইবাদতের ক্ষেত্রে কোন প্রকার বাধাপ্রাদানকারী কারণের অস্তিত্বমান হওয়ার উদাহরণঃ কেউ কোন সাধারণ নফল আদায় করল এমন সময়ে যে সময়ে তা আদায় করা নিষেধ।

চুক্তির মধ্যে কোন প্রকার বাধাপ্রাদানকারী কারণের অস্তিত্বমান হওয়ার উদাহরণঃ কেউ জুমার দ্বিতীয় আযানের পরে কোন কিছু কেনা বেচা করল যার জন্য জুমা ফরজ, যা মুবাহ হওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে যথার্থ নয়।

 

২। الفاسد(ফাসিদ):

ভাষাগত অর্থ কোন কিছু খোয়া যাওয়া বা হারিয়ে ফেলা।

 

ইস্তালাহী অর্থঃ

ما لا ترتبت آثار فعله عليه عبادة كان أم عقدا

অর্থাৎ,কোন কাজে সম্পাদনে তা হতে যে آثار (আথার, অর্থাৎ চিহ্ন) ফলস্বরূপ হয় না, হোক তা ইবাদাত অথবা চুক্তিতে।

 

ইবাদতের ক্ষেত্রে ফাসিদঃ যার দ্বারা ذمة (যিম্মাহ, অর্থাৎ কোন কাজ করবার আবশ্যিকতা) হতে মুক্ত হয় না, এবং طلب (তালাব) এরও অবসান ঘটেনা। যেমনঃ ওয়াক্তের আগে সলাত পড়ে ফেলা।

চুক্তির ক্ষেত্রে ফাসিদ হচ্ছেঃ যার আথার এর উপর বিন্যস্ত হয় না যেমনঃ অজানা অচেনা কোন কিছু ক্রয় বিক্রয় করা।

এবং প্রত্যেক ফাসিদ তা ইবাদতে বা চুক্তিতে বা শর্তে হোক তা হারাম। কেননা তা আল্লাহর যে পরিসীমা তাকে স্পর্ধা জানায়। এবং আল্লাহর আয়াত সমূহকে হাসি ঠাট্টা হিসেবে নেয়। এ কারণে নবী (ﷺ) এমন কোন শর্তকে শর্তসস্বরূপ উপস্থাপন করাকে নিষেধ করেছেন যা আল্লাহর কিতাবের মধ্যে নেই।

ফাসিদ এবং বাতিল এই দুইটির একই অর্থ; কেবল দুইটি ক্ষেত্র ব্যতীতঃ

  1. ইহরামের ক্ষেত্রে এ দুইটির পার্থক্য করা হয়; যে ক্ষেত্রে ফাসিদ হচ্ছে মুহরিম (অর্থাৎ ইহরাম রত) অবস্থায় স্ত্রী-সঙ্গম করা প্রথমবার ইহরাম খুলবার পূর্বে। আর বাতিল হচ্ছে ইহরাম রত অবস্থায় ইসলামকে পরিত্যাগ করা।
  2. বিবাহের ক্ষেত্রে এ দুইটির পার্থক্য করা হয়। যে ক্ষেত্রে উলামারা মতবিরোধ করেছেন ফাসাদ এর ব্যপারে। যেমনঃ ওয়ালী ব্যাতীত বিবাহ। আর বাতিল হল যে বিষয়ে সকল উলামা একমত পোষণ করেছেন এর বাতিল হওয়ার ব্যপারে। যেমনঃ ইদ্দাতরত অবস্থায় বিয়ে করা।