মূলঃ মুহাম্মাদ বিন সালিহ আল উথাইমিন রহিমাহুল্লাহ
অনুবাদঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী এবং মুহাম্মাদ আসিম উল্লাহ ইবন মুহিব

 

 

الأحكام (আল-আহকাম)

 

আহকাম হল حكم (হুকুম) এর বহুবচন। আর ভাষাগতভাবেঃ القضاء (আল-কাদা, অর্থাৎ আদেশ বা নির্দেশনা বা বিচার, legislation)।

ইস্তিলাহী অর্থ হলঃ

ما اقتضاه خطاب الشرع المتعلق بأفعال المكلفين من طلب، أو تخير، أو وضع

অর্থাৎ, خطاب الشرع (‘খিতাব আস-সারেঈ, অর্থ শরীয়তের লেখা বা বক্তব্য) যা কিছু আদেশ করছে, যা المتعلق بأفعال المكلفين (মুতাআল্লাক বিআফাল আল-মুকাল্লাফীন, অর্থ মুকাল্লাফদের কাজগুলোর সাথে সম্পর্কযুক্ত), طلب (তলব) থেকে অথবা تخير (তাখিঈর) অথবা وضع (ওয়াদ’) থেকে।

সুতরাং, আমাদের বক্তব্য  خطاب الشرع (‘খিতাব আস-সারেঈ’)  এর উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ  আল কিতাব এবং আস-সুন্নাহ।

এবং আমাদের বক্তব্য “المتعلق بأفعال المكلفين – মুতাআল্লাক বিআফাল আল-মুকাল্লাফীন” এর উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ মুকাল্লাফদের কাজের সাথে সম্পর্কযুক্ত। হোক সেটা কথা অথবা কাজ, হয় তা সম্পাদন করা অথবা বর্জন করা।

সুতরাং, এখান থেকে বেরিয়ে গেছে[1] যা আকীদার সাথে সম্পর্কযুক্ত। সুতরাং, একে এই ইস্তিলাহে হুকুম বলা হয় না।

এবং আমাদের বক্তব্য المكلفين (আল-মুকাল্লাফীন, যা মুকাল্লাফ এর বহুবচন) এর উদ্দেশ্য হচ্ছেঃ যাদের تكليف ( তাকলিফ, অর্থ কষ্ট) করার সামর্থ্য আছে। সুতরাং, বাচ্চা এবং পাগলও এর অন্তর্ভুক্ত।

এবং আমাদের বক্তব্য طلب (ত্বলাব) এর উদ্দেশ্য হলঃ الأمر (আল-আমর, অর্থঃ আদেশ) ও  النهي (আন-নাহী, অর্থঃ নিষেধ)। হোক তা অবশ্য কর্তব্য  অথবা এমন কিছু যা করা উত্তম।

এবং আমাদের বক্তব্য تخير (তাখিইর) এর উদ্দেশ্য হলঃ المباح (আল-মুবাহ)।

এবং আমাদের বক্তব্য وضع (ওয়াদ’) এর উদ্দেশ্য হলঃ الصحيح (আস-সহীহ, অর্থঃ সঠিক) অথবা الفاسد (আল-ফাসিদ, অর্থঃ অশুদ্ধ)। এবং এ দুটির মতন যাদের মধ্যে الشارع  ( আশ-শারি’, অর্থাৎঃ শরীয়ত প্রদানকারী যিনি আল্লাহ ) কিছু আলামাত বা চিহ্ন এবং গুণ রেখেছেন হয় সম্পাদন করবার জন্যে অথবা পরিত্যাগ করবার জন্যে। [2]

 

أقسام الأحكام الشرعية (শরীয়তের হুকুমসমূহের প্রকারভেদ)

শরীয়তের হুকুমসমূহ দুই প্রকারে ভাগ করা হয়েছে। التكليفية (আত-তাকলিফিইয়্যাহ) এবং الوضعية (আল-ওয়াদিইইয়্যাহ)।

 

الأحكام التكليفية (তাকলিফিইয়্যাহ-র হুকুমসমূহ): তাকলিফিইয়্যা পাঁচ প্রকারঃ الواجب (আল-ওয়াজিব),المندوب (আল-মানদুব), المحرم  (আল-মুহাররাম), المكروه (আল-মাকরুহ) এবং المباح(আল-মুবাহ)।

 

১। الواجب (আল-ওয়াজিব)ওয়াজিব হল ভাষাগত ভাবে الساقط(আস-সাকিত, অর্থাৎঃ কোন কিছু পড়ে যাওয়া)[3] অথবা لازم  (লাজিম,অর্থাৎঃ আবশ্যিক )[4]

ইস্তালাহগত অর্থেঃ ما أمر به الشارع على وجه الإلزام

শরীয়তপ্রদানকারী (আল্লাহ) যা আদেশ করেছেন অবশ্য কর্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। যেমনঃ পাঁচ ওয়াক্ত সলাত আদায় করা।

সুতরাং, আমাদের বক্তব্য “ ما أمر به الشارع- শরীয়তপ্রদানকারী যা আদেশ করেছেন” এই অংশ থেকে বের হয়েছেঃ মুহাররাম, মাকরুহ এবং মুবাহ।

এবং আমাদের বক্তব্য “على وجه الإلزام- যা অবশ্য কর্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে” হতে বের হয়েছেঃ মানদুব।

এই অনুযায়ী কর্ম সম্পাদনকারীকে পুরস্কৃত করা হয়। এবং এর তরককারীর উপর শাস্তি প্রযোজ্য হয়। এবং এটাকে فرض (ফরজ) বা  فريضة(ফারিদাহ) বা حتم (হাতাম) বা  لازم (লাযিম) ও বলা হয়।

 

২। المندوب (আল-মানদুব): ভাষাগত অর্থ হচ্ছে যাকে ডাকা হয়।

ইস্তালাহী অর্থেঃ ما أمر به الشارع لا على وجه الإلزام

অর্থাৎ, শরীয়তপ্রদানকারী (আল্লাহ)যা কিছু আদেশ করেছেন, কিন্তু যা অবশ্য কর্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়। যেমনঃ সুন্নাহর আমলসমূহ।

সুতরাং, আমাদের বক্তব্য “ما أمر به الشارع – যা শরীয়তপ্রদানকারী আদেশ করেছেন” থেকে বের হয়েছেঃ মুহাররাম, মাকরুহ এবং মুবাহ।

আমাদের বক্তব্য “لا على وجه الإلزام – যা অবশ্য কর্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে নয়” থেকে বেরিয়ে গেছেঃ ওয়াজিব। মানদুব এর ক্ষেত্রে এ অনুযায়ী কর্ম সম্পাদনকারীকে পুরস্কৃত করা হয় এবং এর তরক কারীকে শাস্তি দেওয়া হয় না। একে سنة (সুন্নাহ) বা  مسنون(মাসনুন) বা مستحب (মুস্তাহাব) বা  نفل (নফল)ও বলা হয়।

 

৩।  المحرم(আল-মুহাররাম): ভাষাগতভাবে এর অর্থ নিষিদ্ধ।

ইস্তালাহী অর্থেঃ ما نهى عنه الشارع على وجه الإلزام باالترك

অর্থাৎ, যাকে শরীয়ত প্রদানকারী (আল্লাহ) মানা করেছেন অবশ্য কর্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে একে বর্জন করার মাধ্যমে। যেমনঃ পিতামাতার অবাধ্য হওয়া।

সুতরাং, আমাদের এই বক্তব্য “ما نهى عنه الشارع- যা কিছু শরীয়ত প্রদানকারী নিষেধ করেছেন” থেকে বেরিয়ে গেছেঃ ওয়াজিব, মানদুব, এবং মুবাহ। সুতরাং আমাদের এই বক্তব্য  “على وجه الإلزام باالترك – অবশ্য কর্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেক একে বর্জন করার মাধ্যমে” থেকে বেরিয়ে গেছেঃ মাকরুহ। এবং মুহাররাম এর ক্ষেত্রে যে এই অনুযায়ী বর্জন করবে তাকে পুরস্কৃত করা হবে এবং এর সম্পাদনকারীর উপর শাস্তি প্রযোজ্য হবে।  এবং এটাকে محظور (মাহযুর) বা ممنوع (মামনুও’) ও বলা হয়।

 

৪।  المكروه(আল-মাকরুহ): ভাষাগত অর্থ যা কিছু ঘৃণিত বা অপছন্দনীয়।

ইস্তালাহী অর্থেঃ ما نهى عنه الشارع لا على وجه الإلزام باترك

অর্থাৎ, যার বিষয়ে শরীয়ত প্রদানকারী(আল্লাহ) মানা করেছেন, যা অবশ্য কর্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্জনীয় নয়।

যেমনঃ বাম হাতে কোন কিছু নেয়া বা দেয়া।

সুতরাং, আমাদের বক্তব্য “ما نهى عنه الشارع – যা কিছু শরীয়ত প্রদানকারী(আল্লাহ) নিষেধ করেছেন” থেকে বেরিয়ে গেছেঃ ওয়াজিব, মানদুব, এবং মুবাহ।

এবং আমাদের এই বক্তব্য “لا على وجه الإلزام باترك- যা অবশ্য কর্তব্যের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বর্জনীয় নয়” থেকে বেরিয়ে গেছেঃ মুহাররাম। এবং মাকরুহ এর ক্ষেত্রে এই অনুযায়ী তরককারীকে পুরস্কৃত করা হবে, কিন্তু এর সম্পাদনকারীকে শাস্তি দেয়া হবে না।

 

৫। المباح(আল-মুবাহ):  ভাষাগত অর্থ যা কিছু ঘোষণা দেয়া হয়েছে বা যা কিছু অনুমোদিত।

ইস্তালাহী অর্থেঃ ما لا يتعلق به أمر ولا نهي لذاته

অর্থাৎ, যার সাথে স্বত্বাগতভাবে আদেশের সম্পর্ক নাই এবং  নিষেধের সাথেও সম্পর্ক নাই।

যেমনঃ রমাদানের রাতে আহার করা।

সুতরাং, আমাদের বক্তব্য “ما لا يتعلق به أمر-যার সাথে স্বত্বাগতভাবে আদেশের সম্পর্ক নাই ” থেকে বেরিয়ে গেছে ওয়াজিব এবং মানদুব।

এবং, আমাদের বক্তব্য “ولا نهي –এবং নিষেধ” থেকে বেরিয়ে গেছেঃ মুহাররাম এবং মাকরুহ।

এবং আমাদের বক্তব্য (لذاته- স্বত্বাগতভাবে) থেকে বেরিয়ে গেছেঃ যা, যদি এর সাথে আদেশের সাথে এই সম্পর্ক থাকে যে তা যে বিষয়ে আদেশ করা হয়েছে তার وسيلة (ওয়াসিলাহ, অর্থ তা পর্যন্ত পৌঁছানোর রাস্তা), অথবা নিষেধের সাথে সম্পর্কযুক্ত কেননা তা কোন নিষিদ্ধ বিষয়ের ওয়াসিলাহ, তবে সে ক্ষেত্রে এর উপর হুকুম হবে যে আদেশ বা নিষেধের প্রতি তা ওয়াসিলাহ, সেই হুকুম। কিন্তু এ স্বত্বেও এ বিষয়টি একে এর মূল বা আসল যা মুবাহ, তা হতে বিতাড়িত করে না। [5] মুবাহ যতক্ষণ পর্যন্ত বৈধতার গুণসম্পন্ন হবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোন সওয়াব হবে না, শাস্তিও হবে না। এটাকে حلال (হালাল) বা جائز (জায়েজ) ও বলা হয়।

 

 

 

[1] অনুবাদকঃ অর্থাৎ অন্তর্ভুক্ত নয়।

[2] উদাহরণস্বরূপঃ শরীয়তের হুকুমসমূহের কিছু কিছু বিষয় রয়েছে যা شرط (শারত, অর্থঃশর্ত)। কিছু বিষয় রয়েছে যা مانع (মান’, অর্থঃ বাধা প্রদানকারী । কিছু বিষয় আছে যা سبب (সাবাব, অর্থঃ কারণ)। কিছু বিষয় আছে যা صحيح (সাহীহ, অর্থঃ সঠিক)। আবার কিছু বিষয় আছে যা فاسد (ফাসিদ, অশুদ্ধ)। উসূলিবৃন্দ এবিষয়ে বলেন এগুলো হল الأحكام الوضعية (আহকাম ওয়াদঈয়াহ)। অর্থাৎ, এগুলো কিছু আলামাত বা চিহ্ন অথবা কিছু গুণ যা কিছুকে শারীয়া প্রদানকারী (অর্থাৎ আল্লাহ) রেখেছেন যা নির্দেশ করে এ কাজ হতে বিরত থাকাকে অথবা তাকে সম্পাদন করাকে।  সুতরাং, صحيح (সাহীহ)-র উদাহরণ কোন হুকুমের গুণ যা এটিকে সম্পাদন করার বিষয় নির্দেশ করে। এবং الفاسد (আল-ফাসিদ) এর উদাহরণ এমন কোন গুণ যা এটিকে বিরত রাখার দিকে নির্দেশ করে। এবং এ কারণেই সাধারণত ফাসিদের উপরে  শরীয়তের হুকুমসমূহ বিন্যস্ত হয় না। উদাহরণস্বরূপঃ

প্রথম উদাহরণঃ কোন ব্যক্তি জুমআ’র দ্বিতীয় আজান এর পরেও বেচাকেনা করল। যার জন্য জুমআ আবশ্যক। তাহলে এই কেনা বেচা ফাসিদ বা অশুদ্ধ। তার জন্য কেনা বাচা হতে বিরত থাকা ওয়াজিব। কেননা শারীয়া প্রদানকারী (অর্থাৎ আল্লাহ) এ কাজ হতে বিরত থাকবার হুকুমের উপর ফাসাদকে আলামাত স্বরূপ করেছেন ।

দ্বিতীয় উদাহরণঃ الظهار (আয-যিহার):  কোন পুরুষ তার নারীর পিছন থেকে প্রবেশ করে। সুতরাং এর হুকুম হল তা হারাম। কিন্তু একে সহীহ বা ফাসাদ এরূপ কোন গুণে গুণান্বিত করা হয় না। কেননা এ কাজ সে সম্পাদন করেছে হারাম হওয়ার হুকুমের সাথে। সুতরাং তা স্পষ্ট হুকুমের উপর বিন্যস্ত। এ কারণে আমরা বলিঃ “তোমার স্ত্রীর নিকটবর্তী হয়ো না, তা ব্যতীত যা আল্লাহ তোমাকে আদেশ করেছেন”।

তৃতীয় উদাহরণঃ কোন ব্যক্তি হজ করল অথচ তার আকল নেই (পাগল)। সুতরাং তার হজ সঠিক নয় এবং তা বাতিল। সুতরাং এ ক্ষেত্রে হুকুম হল বিরত থাকা।

চতুর্থ উদাহরণঃ  এক লোক হজ কালীন হালাল হওয়ার পূর্বে স্ত্রী-সঙ্গম করল। তাহলে তার হজ ফাসিদ। সুতরাং এক্ষেত্রে হুকুম হল বিরত থাকা। কিন্তু তার উপর যে শাস্তি রয়েছে তা সম্পন্ন করার আবশ্যকতা রয়েছে। সুতরাং সে আগামী বছর এই হজের কাযা আদায় করবে, এরূপ।

সুতরাং, উপরের আলোচনার উপর নির্ভর করেঃ شرط (শারত)সমূহ , سبب (সাবাব) সমূহ , مانع (মানি’) সমূহ , صحيح (সহীহ), এবং فاسد  (ফাসিদ)- উসূলীগণের নিকট الأحكام الوضعية (আহকাম ওয়াদিইয়আহ) যা الأحكام تكليفية (আহকাম তাকলিফীইয়্যা)  নয়।

(شرح الأصول من علم الأصول, মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ২৭-২৮)

[3] অর্থাৎ ওয়াজিবের অর্থ সাকিত বা পড়ে যাওয়া- এ বিষয়ে প্রমাণসমূহের মধ্যে রয়েছেঃ

فَاذْكُرُوا اسْمَ اللَّهِ عَلَيْهَا صَوَافَّ فَإِذَا وَجَبَتْ جُنُوبُهَا فَكُلُوا مِنْهَا وَأَطْعِمُوا الْقَانِعَ وَالْمُعْتَرَّ

 

সুতরাং সারিবদ্ধভাবে দন্ডায়মান অবস্থায় ওগুলির উপর (জবাই করার সময়) তোমরা আল্লাহর নাম নাওঃ যখন ওরা তারা কাত হয়ে পড়ে যায় তখন তা থেকে তোমরা আহার কর এবং আহার করাও ধৈর্যশীল (সহ্যকারী) অভাবগ্রস্থকে ও ধিক্কাকারী অভাবগ্রস্থকে। (সূরা হজ :৩৬) ।

(এই আয়াতের মধ্যে) فَإِذَا وَجَبَتْ  (এই অংশে ওয়াজিব শব্দের ব্যবহার) এর অর্থ سقطت (অর্থাৎ মৃত্যু বরণ করে)। (শারহ উসুল মিন ইল্ম আল-উসুল, লেখকঃ ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৫০)।

[4] এবং নবী (ﷺ) এর বক্তব্যে রয়েছেঃ غسل الجمعة واجب অর্থাৎ জুমআ’র গোসল ওয়াজিব।  (শারহ উসুল মিন ইলম আল-উসুল, লেখকঃ ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৫০)।

[5] এর উদাহরণ পানি ক্রয় করা। এর মূল হচ্ছে এটি মুবাহ। কিন্তু যদি এ বিষয়টি সলাতের ওযুর জন্য হয় সেক্ষেত্রে এ ক্রয় করবার বিষয়টি ওয়াজিব। ( অনুবাদকঃঅর্থাৎ, যে ক্ষেত্রে বিনামূল্যে পানি পাওয়া যায়নি)। সুতরাং এ ক্ষেত্রে ক্রয় করা ওয়াজিব। কেননা (আমরা উসুলের কায়িদা থেকে জানি)

ما لم يتم الواجب إلا به فهو واجب

অর্থাৎ যা কিছু ব্যতীত ওয়াজিব পরিপূর্ণ হয় না তাও ওয়াজিব। (শারহ উসুল মিন ইল্ম আল-উসুল, লেখকঃ ইবন উথাইমীন, দার ইবন জাওযি, দ্বিতীয় সংস্করণ, পৃষ্ঠা ৬৫)।