মূলঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনু
ব্যাখ্যা সংকলনঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী
স্বত্বাধিকারীর অনুমতিদাতাঃ যুলফিকার ইবরাহীম মেমোন আল আথারী।

ব্যাখ্যা সংকলনঃ

 

شروط لا إله إلا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর শর্তসমূহ)

 

(لا إله الا الله) (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) এর কিছু শর্ত রয়েছে যা উল্লেখ করেছেন শায়খ হাফিয হাকামী তাঁর  سلّم (সুল্লাম) গ্রন্থে। শাইখ আব্দুর রাহমান বিন হাসান বলেছেন فتح المجيد এ উল্লেখ করেন, “নিশ্চিতভাবে لا الاه الا الله এর সাক্ষ্যে সাতটি শর্ত রয়েছে, যার বক্তার প্রতি তা কোন কল্যাণ বয়ে আনে না, যতক্ষণ না এ সকলকে একত্র করা হয়।“

এই শর্তসমূহ হচ্ছে:

১। العلم المنافي للجهل (ইলম, অর্থ জ্ঞান যা অজ্ঞতাকে প্রত্যাখ্যান করে)

২। اليقين المنافي للشك (ইয়াকিন, অর্থ নিশ্চয়তা যা সন্দেহকে প্রত্যাখ্যান করে)

৩। الصدق المنافي للكذب (সিদক, অর্থ সত্যবাদিতা, যা মিথ্যাকে প্রত্যাখ্যান করে)

৪। الإخلاص المنافي للشرك (ইখলাস, অর্থ আন্তরিকতা/একনিষ্ঠতা যা শিরককে প্রত্যাখ্যান করে)

৫। المحبة المنافي لضدها (মুহাব্বাহ, অর্থ ভালোবাসা যা এর বিপরীতকে প্রত্যাখ্যান করে)

৬। الإنقياد المنافي للترك (ইনকিয়াদ, অর্থ- আত্মসমর্পন যা বর্জন করাকে প্রত্যাখ্যান করে)

৭। القبول المنافي للرد (কবুল, অর্থ- স্বীকার করা যা প্রত্যাবর্তনকে প্রত্যাখ্যান করে)

(অনেকে, যেমন শাইখ আব্দুল আযীয বিন আব্দিল্লাহ বিন বায  كفر باالطاغوت (কুফর বিত তাগুত, অর্থ তাগুতকে অস্বীকার করা) কে অষ্টম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করেছেন।)

 

 

১। العلم المنافي للجهل (ইলম, অর্থ জ্ঞান যা অজ্ঞতাকে দূরীভূত করে)

 

শাইখ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উথাইমীন বলেন,

জ্ঞান মানে কোন কিছুর সম্বন্ধে বুঝ যার উপর তা ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে যা পরিপূর্ণ বুঝ। (شرح ثلاثة أصول,  শায়খ মুহাম্মাদ বিন সালেহ আল উথাইমীন, পৃষ্ঠা ১৮,  দার থারয়া লিল নাশর)

 

শাইখ আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনু হাযম বলেন,

العلم (জ্ঞান) হচ্ছে কোন কিছুর উপর প্রনোদিত হওয়া জরুরী অর্থে যার হতে সেটি। হয় তা অনুভূতির সাক্ষ্য হওয়া হতে, অথবা ধীশক্তির ব্যাখ্যা হতে, অথবা কোন বুরহান (প্রমান) যা এসেছে কাছের বা দূরবর্তী ঘটিত ঘটনা হতে, যা সংগৃহিত হয়েছে অনুভূতি অথবা ধীশক্তির ব্যাখ্যা হতে। (الأصول و الفروع, শাইখ আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনু হাযম, পৃষ্ঠা ২১১-২১২, দার ইবনু হাযম)

 

শাইখ জ্ঞানের সংজ্ঞায় আরো বলেনঃ

(জ্ঞানের উপরোক্ত সংজ্ঞা দেবার পর উৎস স্বরূপ আরো উল্লেখ করেনঃ) অথবা এমন কাউকে অনুসরণ করা যাকে আল্লাহ্‌ অনুসরণ করতে বলেছেন, সুতরাং এতে সত্যের সাথে একমত হওয়া হয়েছে, যদিও তা জরুরী ভিত্তিতে না হয়, অথবা কোন প্রমানের ভিত্তিতে না হয়। এর প্রমান হচ্ছে এই যে সকল মানুষকে আদেশ করা হয়েছে সত্য বাণী এবং বিশ্বাসের ব্যপারে, এবং আরো এই যে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল মানুষকে আল্লাহর উপর, তাঁর উপর যা নাযিল হয়েছে তার উপর বিশ্বাস করবার উদ্দেশ্যে ডেকেছেন, এবং এভাবেই উল্লেখ করেছেন এবং তিনি আলাইহিস সালাম এ শর্ত দেননি যে তাদের এটি (বিশ্বাস) থাকবেনা দলিলের উপর থাকা ব্যতীত। বরং এ বিষয়ে (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর দাওয়াত এর ব্যপারে ) একমত হয়েছে জ্ঞানী, মূর্খ, মুক্ত, দাস-দাসী, শিশু এবং অনারব। এবং তাঁর (রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) পর এ ব্যপারে উম্মাহ ইজমা’আ (উম্মতের ঐক্যমত্য) পোষণ করেছে কিয়ামত স্থাপন পর্যন্ত। এবং একমত পোষণ করেছে তারা যারা তাদেরকে এর দ্বারা গ্রহন করেছে (অর্থাৎ দাওয়াত গ্রহন করেছে) এবং তাদের উপর এ ব্যপারে দলিল স্থাপন করা হয় নি। সুতরাং যদি এটি এমনই হয়, তবে এ কথা প্রমানিত হলো, যে বিশ্বাস করল যা আমরা উল্লেখ করেছি (অর্থাৎ শর্ত মেনে) এবং এর দ্বারা (শর্ত মেনে) প্রকাশ করল, তবে সে এ ব্যপারে জ্ঞানী, বিশ্বাসের সাথে এ ব্যপারে জ্ঞাত। যদি এ ভাবে সে জ্ঞানী না হয়, তবে এ কারনে এ ব্যপারে তার বক্তব্য রাখা হারাম, এবং হারাম এ ব্যপারে তার বিশ্বাস রাখা। কেননা আল্লাহ্‌ পাক ইরশাদ করেছেন,

وَلاَ تَقْفُ مَا لَيْسَ لَكَ بِهِ عِلْمٌ

যে বিষয়ে তোমার কোন জ্ঞান নেই, সে বিষয়কে অন্বেষণ কর না। (১৭ঃ৩৬)

এবং আল্লাহ্‌ বলেছেন,

يَا أَيُّهَا النَّاسُ كُلُواْ مِمَّا فِي الأَرْضِ حَلالاً طَيِّبًا وَلاَ تَتَّبِعُواْ خُطُوَاتِ الشَّيْطَانِ إِنَّهُ لَكُمْ عَدُوٌّ مُّبِينٌ

إِنَّمَا يَأْمُرُكُمْ بِالسُّوءِ وَالْفَحْشَاء وَأَن تَقُولُواْ عَلَى اللَّهِ مَا لاَ تَعْلَمُونَ

ও মানবজাতি, তোমরা তা হতে ভক্ষণ কর, যা হালাল এবং উত্তম, এবং তোমরা শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করনা। নিশ্চয়ই সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্রু। বরঞ্চ সে তোমাদের আদেশ করে মন্দ, অশ্লীল কাজ এবং যেন তোমরা আল্লাহর ব্যপারে এমন কথা বল যা তোমরা জান না।(২ঃ১৬৮-১৬৯)

(الإحكام في أصول الإحكام, শাইখ আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনু হাযম, পৃষ্ঠা ৩৩, দার আল আথার)

 

শাইখ আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনু হাযম বলেন,

সুতরাং যে কেউ কোন বিষয়ে বিশ্বাস করল তার ভিত্তিতে (অর্থাৎ যে শর্তের ভিত্তিতে) যা আমরা উল্লেখ করেছি, তবে সে সে বিষয়ের ব্যপারে জ্ঞানী। আর যে কেউ বিশ্বাস করল তার উপর যার উপর তা দাঁড়িয়ে আছে, কিন্তু তার বিশ্বাসের ব্যপারে দলিল স্থাপন করল না, যেভাবে আমরা উল্লেখ করেছি, তবে সে সেই বিষয়ে জ্ঞানী নয়। এবং তার এ বিশ্বাসে কোন জ্ঞান নেই। সুতরাং প্রত্যেক علم (জ্ঞান) হচ্ছে إعتقاد (বিশ্বাস), কিন্তু প্রত্যেক إعتقاد (বিশ্বাস) ই علم (জ্ঞান) নয়। সুতরাং জ্ঞান হচ্ছে তা যার সত্যতা প্রনোদিত হয়েছে।

(الأصول و الفروع, শাইখ আবু মুহাম্মাদ আলী ইবনু হাযম, পৃষ্ঠা ২১২, দার ইবনু হাযম)

 

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

জ্ঞান দ্বারা শরীয়াগত উদ্দেশ্যঃ এটি সঠিক জ্ঞান যা এ কালিমা (لا إله الا الله) এর বাস্তবতার সাথে সহমত, এর দ্বারা যা নির্দেশিত, একে যা অনুসরনকৃত, যে অর্থ প্রকাশিত তার মোতাবেক, পরিস্কার চিহ্ন দ্বারা স্থাপিত যা অজ্ঞতাকে প্রত্যাখ্যান করে। আর জ্ঞান যা দ্বারা সাবিত করা হয় এই সাক্ষ্যকে, একমাত্র আল্লাহর মাঝেই ইবাদাতের যোগ্যতা অনুসন্ধানের মাধ্যমে। এবং জ্ঞান যার দ্বারা প্রত্যাখ্যান করা হয় আল্লাহ্‌ ব্যতীত অপর কারুর প্রতি ইবাদাতের যোগ্যতা আরোপ করাকে।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ১২১, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

 

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

لا إله الا الله  এর জ্ঞানের উদ্দেশ্যঃ

জ্ঞান যা বাস্তুবিক, ফলিত যা স্থাপিত এর দ্বারা নির্দেশিত কাজের সত্যায়ন এবং এ দ্বারা কাজকে প্রতি আবশ্যিক করা। এর উদ্দেশ্য শুধু العلم النظري (আল ইলম আন নাদরী, অর্থাৎ এমন জ্ঞান যা পালনের পূর্বে প্রমানিত হওয়া চাই, এক্ষেত্রে শারীয়া দ্বারা) নয়, যার উদ্দেশ্য শুধুমাত্র পালন করা হবে। কতই না লোক তাওহীদ জানে, কিতাবে যা লেখা তা মুখস্ত করে, (শুধু তাই নয়) বরং অপরকে শিখায়, ব্যাখ্যা করে, এর বিনাশী কারণ সমূহ এবং এর শর্ত সমূহ ব্যাখ্যা করে, এর পর নিজেই এর খেলাপ করে, নিজের কাজে, অন্তরে এর বিরোধিতা করে। ফলশ্রুতিতে তাওহীদের বরকত রোধিত হয়, তার এ বিষয়ের জ্ঞান তার নিজের জন্যে বিপজ্জনক এবং আল্লাহর তরফ হতে আজাবে পর্যবশিত হয়।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ১২১-১২২, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

 

প্রমাণাদিঃ

আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:

فَاعْلَمْ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ وَاسْتَغْفِرْ لِذَنْبِكَ وَلِلْمُؤْمِنِينَ وَالْمُؤْمِنَاتِ وَاللَّهُ يَعْلَمُ مُتَقَلَّبَكُمْ وَمَثْوَاكُمْ

সুতরাং তুমি জান যে, আল্লাহ ব্যতীত (সত্য) কোনো মা’বুদ নেই, ক্ষমা প্রার্থনা করো তোমার ত্রুটির জন্য এবং মু’মিন নর-নারীদের ত্রুটির জন্যে। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি এবং অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন। (৪৭ঃ১৯)

وَلَا يَمْلِكُ الَّذِينَ يَدْعُونَ مِنْ دُونِهِ الشَّفَاعَةَ إِلَّا مَنْ شَهِدَ بِالْحَقِّ وَهُمْ يَعْلَمُونَ

আল্লাহর পরিবর্তে তারা যাদেরকে ডাকে, শাফায়াতের ক্ষমতা তাদের নেই, তারা ব্যতীত যারা সত্যের ব্যপারে সাক্ষ্য দেয় জেনে শুনে। (৪৩ঃ৮৬)

অর্থাৎ যে সাক্ষ্য দেয়, (وهم يعلمون) এর অর্থ তারা জানে তাদের অন্তরে তাঁর لا الاه الا الله (বাংলা উচ্চারণ লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, অর্থ নেই কোন সত্য উপাস্য  এক আল্লাহ ব্যতীত) অর্থ যা তারা মুখে উচ্চারণ করেছে।

شَهِدَ اللَّهُ أَنَّهُ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ وَالْمَلَائِكَةُ وَأُولُو الْعِلْمِ قَائِمًا بِالْقِسْطِ لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْعَزِيزُ الْحَكِيمُ

আল্লাহ সাক্ষ্য প্রদান করেন যে, নিশ্চয়ই তিনি ব্যতীত সত্য কোনো মা’বুদ নেই এবং ফেরেশতাগণ, ন্যায় নিষ্ঠ বিদ্যানগন ও (সাক্ষ্য প্রদান করেন) তিনি ব্যতীত অন্য কোনো সত্য মা’বুদ নেই, তিনি পরাক্রমশালী প্রজ্ঞাময়।(৩ঃ১৮)

أَمَّنْ هُوَ قَانِتٌ آنَاءَ اللَّيْلِ سَاجِدًا وَقَائِمًا يَحْذَرُ الْآخِرَةَ وَيَرْجُو رَحْمَةَ رَبِّهِ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُولُو الْأَلْبَابِ

যে ব্যাক্তি রাত্রিকালে সিজদানবত হয়ে ও দাঁড়িয়ে আনুগত্য প্রকাশ করে, আখিরাতকে ভয় করে এবং তার প্রতিপালকের রহমত প্রত্যাশা করে, (সে কি তার সমান যে তা করে না) বলঃ যারা জানে এবং যারা জানে না তারা কি সমান? বোধশক্তি সম্পন্ন লোকেরাই শুধু উপদেশ গ্রহণ করে। (৩৯ঃ৯)

إِنَّمَا يَخْشَى اللَّهَ مِنْ عِبَادِهِ الْعُلَمَاءُ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ غَفُورٌ

আল্লাহর বান্দাদের মধ্যে যারা জ্ঞানী তারাই তাঁকে ভয় করে; আল্লাহ পরাক্রমশালী,ক্ষমাশীল। (৩৫ঃ২৮)

وَتِلْكَ الْأَمْثَالُ نَضْرِبُهَا لِلنَّاسِ وَمَا يَعْقِلُهَا إِلَّا الْعَالِمُونَ

মানুষের জন্যে এসব দৃষ্টান্ত বর্ণনা করে থাকি; কিত্নু শুধু জ্ঞানী ব্যাক্তিরাই এসব বুঝে থাকে। (২৯ঃ৪৩)

 

উসমান বিন আফফান ( رضي الله عنه ) বলেন, রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন,

من مات وهو يعلم انه لا إله الا الله دخل الجنة

যে ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করলো এই জানা অবস্থায় যে لا الاه الا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ) সে জান্নাতে প্রবেশ করল। (মুসলিম ২৬)

 

 

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

لا إله إلا الله এর স্থাপনা জ্ঞান এবং কাজ এর উপরঃ

কাজ বা عمل (আমল অর্থ কাজ ) দু প্রকারঃ

১। عمل القلب (অন্তরের কাজ)

২। عمل الجوارح (বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজ)

 

বস্তুতঃ এর সাথে সংশ্লিষ্ট কাজের মধ্যে রয়েছে এর (অর্থাৎ لا إله إلا الله) প্রতি ভালোবাসা, এর প্রতি নিশ্চিত হওয়া, এর মধ্যে একাগ্র হওয়া, একে সত্যাপন করা এবং একে মেনে নেওয়া এবং এর প্রতি বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গ দিয়ে আত্মসমর্পন।

 

আর এ সকলই তাওহীদের রুকনঃ

১। القول باللسان (মৌখিক বক্তব্য)

২। عمل بالجوارح(বাহ্যিক অঙ্গ প্রত্যঙ্গের কাজ)

৩। إعتيقاد بالقلب (আন্তরিক বিশ্বাস)

 

আবার إعتيقاد بالقلب বা আন্তরিক বিশ্বাস দু প্রকারঃ

১। قولي (বক্তব্য বিষয়ক)ঃ আর তা জ্ঞান এবং সত্যায়ন।

২। عملي(কাজ বা আমল বিষয়ক)ঃ আর তা ভালোবাসা, নিশ্চয়তা, সন্তুষ্টি এবং স্বীকার।

 

আর তাওহীদ সঠিক হয় না এ তিনটি ব্যতীত। আর যদি এদের একটিও ছুটে যায়, তবে এর বক্তার ইসলামকে স্বীকৃতি দেওয়া হয় না।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ১৩০-১৩১, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

 

 

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

 

জ্ঞান এবং বুঝের স্তরসমূহঃ

১। সর্বোচ্চঃ اليقين (আল ইয়াকিন)ঃ আর তা হচ্ছে জ্ঞানের সাথে কাজ, সম্পূর্ণ বিশ্বাস এবং সন্তুষ্টি।

২। العلم: (আল ইলম)ঃ জ্ঞান

৩। الظن (আধ ধান্ন)ঃ আর তা হচ্ছে যে সকল ধারনা রয়েছে তাদের মধ্য হতে একটিকে সবচাইতে বেশি গ্রহনযোগ্য সাব্যস্ত করা।

৪। الشك (আশ শাক্ক)ঃ আর তা হচ্ছে দুটি বিষয়ে ঘুরপাক খাওয়া কোন একটিকে অধিক গ্রহনযোগ্য সাব্যস্ত না করে।

৫। الوهم (আল ওয়াহম)ঃ আর তা হচ্ছে তুলনামূলক দূর্বল মতকে গ্রহন করা, এটি আধ ধান্ন এর বিপরীত।

৬। السهو و النسيان و الخطأ (আস সাহ্‌ও, আন নিসয়ান, আল খাতা) ঃ অন্য মনষ্কতা, ভূলে যাওয়া এবং ভূল করা।

৭। الجهل البسيط (আল জাহলুল বাসিত)ঃ আর তা হচ্ছে কোন জ্ঞানের বিষয়ে একেবারেই কোন জ্ঞান না থাকা, বরং অজ্ঞতা থাকা।

৮। الجهل المركب (আল জাহলুল মুরাক্কাব)ঃ আর তা হচ্ছে অজ্ঞতার ব্যপারে অজ্ঞতা।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ১৩৪, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

 

 

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

 

لا إله إلا الله এর জ্ঞানে যা অন্তর্ভূক্ত আর যা এ সম্পর্কিতঃ

১। আল্লাহ্‌ সুবহানু ওয়া তা’আলা, তাঁর নাম, গুণাবলী, রবত্ব সম্পর্কিত জ্ঞান

২। আল্লাহর উলুহিয়্যাত, তাঁর ইবাদাতের একমাত্র অধিকারী হওয়া সম্পর্কিত জ্ঞান।

৩। ভাগ্যের লিখন সম্পর্কিত জ্ঞান।

৪। অদৃশ্যের জ্ঞান তথা ফেরেশতা, নবীকূল, শেষ দিনের সম্পর্কিত জ্ঞান।

৫। আল্লাহর তথ্যাদি, তাঁর আদেশ-নিষেধ, আইন-কানুন, দীন এবং কিতাব সম্পর্কিত জ্ঞান।

৬। তাঁর রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সম্পর্কিত জ্ঞান, তাঁকে অনুসরণ করা, তাঁকে ভালোবাসা এবং তাঁকে সত্যায়িত করা সম্পর্কিত জ্ঞান।

৭। মৃত্যুর পর পুনঃরুত্থান এবং বিচার দিনের জ্ঞান

 

 

জ্ঞানের স্থান এবং এর রুকনঃ

জ্ঞানের স্থান অন্তর এবং এটি قول القلب (অন্তরের বাণী) এর প্রকার, কিন্তু তা অন্তরের কাজ সমূহ, যেমন নিশ্চিত বিশ্বাস, সত্যবাদিতা, ভালোবাসা হতে নয়।

সুতরাং জ্ঞানের একটি বাদে আর কোন রুকন নেই, আর তা হচ্ছে অন্তরের বাণী।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ১৩৪-১৩৫, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

 

 

 

كفر الجهل (কুফর আল জাহল, অজ্ঞতাবশতঃ কুফর)

এটি জ্ঞানের বিপরীত। এ অধ্যায়ে খুব সংক্ষেপে এর বর্ণনা করা হবে। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে كفر (কুফর) বিষয়ক অধ্যায় পাঠ করুন।

এ বিষয়ক কিছু দলিল এই যে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,

وَإِنَّهُمْ لَيَصُدُّونَهُمْ عَنِ السَّبِيلِ وَيَحْسَبُونَ أَنَّهُم مُّهْتَدُونَ

আর তারাই (আল্লাহ্‌ বিমুখ ব্যক্তির সাথে নিয়োজিত শয়তানেরা) সৎপথে বাধা প্রদান করে অথচ তারা (আল্লাহ্‌ বিমুখ ব্যক্তিরা) ধারনা করে যে তারা সঠিক পথপ্রাপ্ত। (৪৩ঃ৩৭)

 

আল্লাহ্‌ তাআলা আরো বলেন,

الَّذِينَ ضَلَّ سَعْيُهُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَهُمْ يَحْسَبُونَ أَنَّهُمْ يُحْسِنُونَ صُنْعًا

তারা যাদের সকল প্রচেষ্টা এ দুনিয়ায় অপচয় হয়ে গিয়েছে অথচ তারা এ ধারনা পোষণ করত যে তারা সৎ কর্ম করছে। (১৮ঃ১০৪)

 

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

আর তা হলো কেউ কুফর বা শিরক আল আকবারে প্রবেশ করলো অজ্ঞতাবশতঃ। সুতরাং সে আল্লাহর দীন সম্পর্কে জানে না এবং সে তা কামনাও করে না। সুতরাং তার কাছে এর দাওয়াত পৌঁছেনি এবং পৌঁছেনি এর হতে বিচ্যুত হবার ব্যপারে। এভাবেই যে কেউ তার উপর (এ বিষয়ে) প্রমাণাদি স্থাপন করল এবং এর পর সে তা মেনে নিলো না অথবা সে তা বুঝতে পারলো না, সুতরাং সে তার কুফরের উপরই রয়ে গেলো জেদ করে মূর্খতাপূর্ণ ব্যখ্যায় রয়ে গেলো এবং মনে করলো সে কোন কিছুর উপর (একে সত্য ধারনা করে) এবং সত্য সে যার উপর আছে তাতেই নিহিত এবং একেই আল্লাহ্‌ চান। সুতরাং যদি এমন হয়, তবে তার উপর কুফরের তকমা লাগাবার ব্যপারে এবং তার উপর তাকফির (তাকে অমুসলিম ঘোষণা করবার ব্যপারে) কোন বাধা নেই।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ১৪০, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

 

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

যে ব্যক্তি শিরকুল আকবর বা বৃহত্তর শিরকে পতিত হলো অজ্ঞতা বশতঃ এবং তার নিকট প্রমাণ না পৌছুবার কারনেঃ

সুতরাং তার ব্যপারে এ দুনিয়াতে হুকুম হচ্ছে যে সে কাফির এবং তার উপর কুফরের হুকুম আপতিত হবে, যে প্রেক্ষিতে এ নাম এবং আপতিত তাকফির তার উপর, তার বিয়ে শাদি, তার ওয়ারিশ হবার যোগ্যতার উপর, তার উপর জানাযার সালাত পড়বার ব্যপারে, তার নেতৃত্বের উপর। কিন্তু তার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করা এবং তাঁকে হত্যা করবার বিষয়টিতে অবশ্যই রয়েছে তার উপর দলীল স্থাপন এবং তার দ্বারা তাওবা করানো।

আর আখিরাতের বিষয়ে, নিশ্চয়ই আল্লাহ্‌ তাআলা তাঁর পরিপূর্ণ ন্যায়বিচারের থেকে কখনও কাউকে তার উপর দলিল স্থাপন হওয়া ব্যতীত আযাব দেন না। যেভাবে আল্লাহ্‌ তাআলা বলেন,

وَمَا كُنَّا مُعَذِّبِينَ حَتَّى نَبْعَثَ رَسُولاً

আমি রাসূল না পাঠানো পর্যন্ত কাউকে শাস্তি দিই না। (১৭ঃ ১৫)

 

সুতরাং এরূপ ব্যক্তি ওজরপ্রাপ্ত এবং তার ব্যপারে হুকুম হচ্ছে আহলে ফিতরাত (যারা শুধু নিজেদের ফিতরাতের উপর স্থাপিত) অথবা পাগলদের কাফিরদের মত, যাদের প্রতি কিয়ামতের দিন রাসূল পাঠানো হবে। যে তাঁকে মান্য করবে সে জান্নাতে প্রবেশ করবে আর যে তাঁর অবাধ্যতা করবে এবং বিমুখ হবে সে অবিশ্বাসী এবং সে আগুনে প্রবেশ করবে।

নিশ্চিতভাবে অনেক আলেমগণ এ ব্যপারে ভূলের মধ্যে আপতিত হন এবং তারা ইসলাম সাব্যস্ত করেন কবর-পূজারী মুশরিকদের মধ্যে যারা মূর্খ রয়েছে তাদের ব্যপারে। এবং তারা এদেরকে শারিয়াতের ধারণকারী বলেন, কেননা তারা সাক্ষ্যদ্বয় (لا إلاه إلا الله এবং محمد الرسول الله) উচ্চারণ করেছে এবং তাদের মূর্খতা এবং তাদের ব্যাখ্যাকে তাদের উপর তাকফির করার বিরুদ্ধে কারণ স্বরূপ দাঁড় করিয়েছেন।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ১৪২-১৪৩, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

(চলবে)