মূলঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনু
ব্যাখ্যা সংকলনঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী
স্বত্বাধিকারীর অনুমতিদাতাঃ যুলফিকার ইবরাহীম মেমোন আল আথারী।

ব্যাখ্যা সংকলনঃ

 

اركان لا إله إلا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এর রুকন বা স্তম্ভসমূহ)

মুহাম্মাদ বিন আব্দিল ওয়াহহাব বলেছেন: জেনে নাও, আল্লাহ তোমার উপর রহম করুন, لا إله الا الله (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, নেই কোন সত্য উপাস্য  এক আল্লাহ ব্যতীত) এর অর্থে রয়েছে نفي (অস্বীকৃতি) এবং إثبات (স্বীকৃতি)। (অর্থাৎ لا إله الا الله এর রুকন দুটিঃ نفي (অস্বীকৃতি) এবং إثبات (স্বীকৃতি)।

 

نفي (অস্বীকৃতি)ঃ

نفي (অস্বীকৃতি) রয়েছে চারটি বিষয়েঃ

১। الآلهة (আল আলিহাহ)

২।الطواغيت (আত তাওয়াগিত)

৩।الانداد (আল আনদাদ)

৪।الارباب (আল আরবাব)

 

১। الآلهة (আল আলিহাহ)ঃ 

الآلهة (আলিহাহ, এক বচন إله অর্থ- উপাস্য): যা কিছুকে আপনি কোন কিছুর মাধ্যমে প্রার্থনা করেছেন উপকার লাভের আশায় অথবা বিপদ মুক্তির আশায়। (এ কাজ করলে) আপনি তাঁকে الآلهة হিসেবে নিয়েছেন।

আল্লাহ্‌ বলেন,

أَئِنَّكُمْ لَتَشْهَدُونَ أَنَّ مَعَ اللَّهِ آلِهَةً أُخْرَى قُل لاَّ أَشْهَدُ قُلْ إِنَّمَا هُوَ إِلَهٌ وَاحِدٌ وَإِنَّنِي بَرِيءٌ مِّمَّا تُشْرِكُونَ

তোমরা কি এই সাক্ষ্য দিতে পার যে, আল্লাহর সাথে অন্য কোন উপাস্য রয়েছে? তুমি (মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম)) বল, আমি এ সাক্ষ্য দিতে পারি না, তুমি ঘোষণা কর যে তিনিই একমাত্র উপাস্য আর তোমরা শিরকে লিপ্ত রয়েছ, তা থেকে আমি সম্পূর্ণ মুক্ত।(৬ঃ১৯)

لَوْ كَانَ فِيهِمَا آلِهَةٌ إِلاَّ اللَّهُ لَفَسَدَتَا فَسُبْحَانَ اللَّهِ رَبِّ الْعَرْشِ عَمَّا يَصِفُونَ

যদি আল্লাহ্‌ ছাড়া আকাশ মন্ডলী ও পৃথিবীতে বহু উপাস্য থাকত, তবে উভয়েই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যে সকল (বদ) গুণে ভূষিত করে তা হতে আরশের অধিপতি আল্লাহ্‌ সুমহান।(২১ঃ২২)

أَمِ اتَّخَذُوا مِن دُونِهِ آلِهَةً قُلْ هَاتُوا بُرْهَانَكُمْ هَذَا ذِكْرُ مَن مَّعِيَ وَذِكْرُ مَن قَبْلِي بَلْ أَكْثَرُهُمْ لا يَعْلَمُونَ الْحَقَّ فَهُم مُّعْرِضُونَ

তারা কি তাঁকে (আল্লাহকে) বাদ দিয়ে অন্য ইলাহ গ্রহন করেছে? বলুন তোমরা তোমাদের প্রমান নিয়ে এসো। এটি উপদেশ তাদের প্রতি যারা আমার সাথে বর্তমান এবং যারা আমার পূর্বে এসেছিল। বরং তাদের অধিকাংশ সত্য জানত না, অতএব তারা বিমুখ।(২১ঃ২৪)

وَاتَّخَذُوا مِن دُونِهِ آلِهَةً لّا يَخْلُقُونَ شَيْئًا وَهُمْ يُخْلَقُونَ وَلا يَمْلِكُونَ لِأَنفُسِهِمْ ضَرًّا وَلا نَفْعًا وَلا يَمْلِكُونَ مَوْتًا وَلا حَيَاةً وَلا نُشُورًا

এবং তারা তাঁর (আল্লাহর) পরিবর্তে গ্রহন করেছে অন্য ইলাহকে, না তারা কোন কিছকে সৃষ্টি করে বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট। না তারা নিজেদের কোন ক্ষতি করবার ক্ষমতা রাখে, না কোন কল্যাণ করবার। না তারা মৃত্যুর উপর কোন ক্ষমতা রাখে, না জীবনের উপর, না পুনরুত্থানের উপর। (২৫ঃ৩)

 

 

২।الطواغيت (আত তাওয়াগিত)ঃ

الطواغيت (তাওয়াগিত, এটি طاغوت তাগুত শব্দের বহুবচন): যাকে উপাসনা করা হয় অথবা যাকে ইবাদাতের জন্যে মনোনয়ন করা হয় এবং সে এ ব্যপারে খুশী।

 

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

(তাগুত অর্থ) সে সকল কিছু যা কিছু দিয়ে সীমা অতিক্রম করা হয়; অনুসরণকৃত, মান্যকৃত বা উপাস্যদের মধ্য হতে।

একে তাগুত বলা হয় কেননা (এর মূল শব্দ) طغى অর্থঃ সীমার অতিরিক্ত করা এবং এর মাধ্যমে সীমাকে অবজ্ঞা করা।

 

এর নির্ণায়ক এবং বৈশিষ্ট্য সমূহঃ

যে কেউ দাবী করল আল্লাহর নির্ধারিত বিশেষ বৈশিষ্ট্য সমূহ, যা শুধু সুমহান আল্লাহর জন্যে নির্ধারিত, যেমন ইবাদাত, উলুহিয়্যাহ (সংজ্ঞা পরবর্তীতে আসছে), রুবুবিয়্যাহ (সংজ্ঞা পরবর্তীতে আসছে) হতে, অথবা অদৃশ্যের জ্ঞান, সকল সংশ্লিষ্টের জ্ঞান হতে, অথবা শারীয়া প্রণয়নের বৈশিষ্ট্য, হুকুম, পরিপূর্ণ ক্ষমতা, কল্যাণ-অকল্যাণ অথবা আল্লাহর নিখুঁত হবার বৈশিষ্ট্য।

প্রত্যেক কুফর আর প্রত্যেক কাফির তাগুত নয়। সুতরাং তাগুত হচ্ছে যা কিছু অতিরিক্ত কুফর, জুলুম, বাড়াবাড়ি এবং বাধ্য করার মাঝে।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ৯০, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

 

শাইখ ইবনু কাথীর উল্লেখ করেন,

মুজাহিদ বলেন, তাগুত মানুষের রূপধারী শয়তান, যার নিকট বিচার আচারের জন্যে আর্জি করা হয়, আর সে তাদের বিষয় আশয়ের দায়িত্ববান।

ইমাম মালিক বলেন, তাগুত হচ্ছে সে সকল কিছু যাদের আল্লাহ্‌ ব্যতীত উপাসনা করা হয়। (تفسير القران العظيم, ইসমাইল ইবন কাথীর, পৃষ্ঠা ১৩৯, দার ইবনুল জাওযী)

 

 

তাগুতের প্রকারভেদঃ

শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি বলেন,

তাগুত তিন প্রকারঃ

১। طاغوت الاتباع (তাগুত আল ইত্তিবা’আ):

সে সকল কিছু যাকে আল্লাহ্‌ ব্যতীত অনুসরণ করা হয়, তা তাগুত।

২। طاغوت العبادة (তাগুত আল ইবাদাহ):

সে সকল কিছু যাকে আল্লাহ্‌ ব্যতীত ইবাদাত করা হয়, তা তাগুত।

৩। طاغوت الطاعة (তাগুত আত তা’আহ):

সে সকল কিছু যার কথা আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে মান্য করা হয়।

 

শাইখ ইবনুল কায়্যিম রাহিমাহুল্লাহ বলেন إعلام الموقعين গ্রন্থে তাগুতের সংজ্ঞা হিসেবে,

সে সকল কিছু যাকে দিয়ে বান্দা তার সীমা অতিক্রম করে থাকে, উপাস্য, অনুসরণকৃত অথবা যার কথা (আল্লাহকে বাদ দিয়ে) মানা হয়।

 

এ সংজ্ঞা থেকে তাগুতের প্রকারভেদ তিন প্রকারঃ

 

১। المعبود : (আল মা’বুদ, অর্থাৎ যাকে উপাসনা করা হয় আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে)ঃ

আল্লাহ্‌ বলেন,

وَالَّذِينَ اجْتَنَبُوا الطَّاغُوتَ أَن يَعْبُدُوهَا وَأَنَابُوا إِلَى اللَّهِ لَهُمُ الْبُشْرَى فَبَشِّرْ عِبَادِ

আর যারা তাগুতের পূজা হতে দূরে থাকে এবং আল্লাহর অভিমুখী হয়, তাদের জন্যে সুসংবাদ, সুতরাং বান্দাদের সুসংবাদ দাও। (৩৯ঃ১৭)

قُلْ هَلْ أُنَبِّئُكُم بِشَرٍّ مِّن ذَلِكَ مَثُوبَةً عِندَ اللَّهِ مَن لَّعَنَهُ اللَّهُ وَغَضِبَ عَلَيْهِ وَجَعَلَ مِنْهُمُ الْقِرَدَةَ وَالْخَنَازِيرَ وَعَبَدَ الطَّاغُوتَ أُوْلَئِكَ شَرٌّ مَّكَانًا وَأَضَلُّ عَن سَوَاء السَّبِيلِ

বলুন (হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমি কি তোমাদেরকে জানিয়ে দেব এর চাইতেও অধিক নিকৃষ্ট কোন কিছুর ব্যপারে, আল্লাহর নিকট হতে পুরষ্কার প্রসঙ্গেঃ  যাকে আল্লাহ্‌ অভিসম্পাত করেছেন এবং তার উপর ক্রোধান্বিত হয়েছেন, এবং তাদের মধ্য হতে বানর এবং শুকর বানিয়েছেন এবং তারা তাগুতের ইবাদাত করেছিল। এরাই হল সবচেয়ে নিকৃষ্ট স্থানের এবং সত্য পথ হতে অধিকতর বিচ্যুত।(৫ঃ৬০)

 

২। المتبوع (আল মাতবু’ অর্থাৎ যাকে অনুসরণ করা হয় আল্লাহ্‌কে বাদ দিয়ে)ঃ

আল্লাহ বলেন,

اللَّهُ وَلِيُّ الَّذِينَ آمَنُواْ يُخْرِجُهُم مِّنَ الظُّلُمَاتِ إِلَى النُّورِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ أَوْلِيَاؤُهُمُ الطَّاغُوتُ يُخْرِجُونَهُم مِّنَ النُّورِ إِلَى الظُّلُمَاتِ

আল্লাহ্‌ তাদের অভিভাবক, যারা বিশ্বাস এনেছে। তিনি তাদের অন্ধকার হতে বার করে আনেন আলোতে। আর যারা অবিশ্বাস করে, তাদের অভিভাবক তাগুতেরা, যারা তাদের আলো হতে বার করে অন্ধকারে নিয়ে যায়। (২ঃ২৫৭)

الَّذِينَ آمَنُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ اللَّهِ وَالَّذِينَ كَفَرُواْ يُقَاتِلُونَ فِي سَبِيلِ الطَّاغُوتِ فَقَاتِلُواْ أَوْلِيَاء الشَّيْطَانِ إِنَّ كَيْدَ الشَّيْطَانِ كَانَ ضَعِيفًا

যারা বিশ্বাস এনেছে তারা যুদ্ধ করে আল্লাহর রাস্তায় আর যারা অবিশ্বাস করেছে তারা যুদ্ধ করে তাগুতের রাস্তায়, সুতরাং যুদ্ধ কর শয়তানের সহযোগীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ কর। নিশ্চয়ই শয়তানের চক্রান্ত দূর্বল। (৪ঃ৭৬)

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ أُوتُواْ نَصِيبًا مِّنَ الْكِتَابِ يُؤْمِنُونَ بِالْجِبْتِ وَالطَّاغُوتِ وَيَقُولُونَ لِلَّذِينَ كَفَرُواْ هَؤُلاء أَهْدَى مِنَ الَّذِينَ آمَنُواْ سَبِيلاً

আপনি (মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) কি লক্ষ্য করেন না তাদের প্রতি যাদেরকে গ্রন্থের একাংশ দেওয়া হয়েছে? তারা জিবত এবং তাগুতের উপাসনা করে এবং অবিশ্বাসীদের বলে যে (অনুসরণ করবার) পথ প্রসঙ্গে বিশ্বাসীদের অপেক্ষা তারাই অধিক হিদায়াতের উপর প্রতিষ্ঠিত। (৪ঃ৫১)

(অনুবাদকঃ উলামারা جبت (জিবত) এর অর্থের ব্যপারে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন, উমর ইবনুল খাত্তাব, ইবনু আব্বাস, প্রমুখ বলেন, জিবত হচ্ছে জাদু। ইবনু আব্বাস আবার আরেক রিওয়ায়াতে শয়তানকে জিবত বলেছেন। আবার আরেক রিওয়ায়াতে শিরক বলেছেন। আবার আরেক রিওয়ায়াতে মূর্তি বলেছেন। শু’বা একে গণক বলেছেন)।

 

৩। المتاع و المتحاكم إليه (আল মাতা’ ওয়াল মুতাহাকিম ইলাইহি, অর্থাৎ যাকে মান্য করা হয় এবং বিচার আচারের জন্যে তার নিকট যাওয়া হয়)ঃ

আল্লাহ বলেন,

أَلَمْ تَرَ إِلَى الَّذِينَ يَزْعُمُونَ أَنَّهُمْ آمَنُواْ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْكَ وَمَا أُنزِلَ مِن قَبْلِكَ يُرِيدُونَ أَن يَتَحَاكَمُواْ إِلَى الطَّاغُوتِ وَقَدْ أُمِرُواْ أَن يَكْفُرُواْ بِهِ وَيُرِيدُ الشَّيْطَانُ أَن يُضِلَّهُمْ ضَلالاً بَعِيدًا

আপনি কি তাদের প্রতি লক্ষ্য করেন না, যারা দাবী করে যে তারা বিশ্বাস এনেছে তার উপর যা আপনার উপর এবং আপনার পূর্ব্বর্তীগণের উপর অবতীর্ণ হয়েছে। তারা তাগুতের নিকট তাদের বিচার আচার নিয়ে যেতে চায়, অথচ তাদের আদেশ করা হয়েছে যেন তাকে (তাগুতকে) তারা অবিশ্বাস করে। আর শয়তান চায় যে সে যেন তাদের সঠিক পথবিচ্যুত করে বহু দূরে নিয়ে যায়।(৪ঃ৬০)

 

 

তাগুতের মাথাঃ

ইবনু সাহমান বলেন, হুকুমের তাগুত, ইবাদাতের তাগুত, মান্য করবার ক্ষেত্রে তাগুত আর অনুসরণ করবার ক্ষেত্রে তাগুত। দাওয়াতের ইমাম (শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দিল ওয়াহহাব রাহিমাহুল্লাহ) বলেন, এদের মাথা পাঁচটিঃ

১। শয়তান

২। (আল্লাহর শারীয়াত বাদ দিয়ে) নতুন শারীয়াত প্রদানকারী

৩। সে বিচারক যে আল্লাহ্‌ যা নাযিল করেছেন তা ব্যতীত অন্য কিছু দিয়ে বিচার করে

৪। অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবীদার

৫। উলুহিয়্যাতের দাবীদার এমন কেউ নিজেকে ইবাদাত করবার দাওয়াত দেয় অথবা যে এতে খুশী।

(অনুবাদকঃ এ সকল বিষয়কে ভবিষ্যতে উপযুক্ত স্থানে বিশ্লেষণ করা হবে। এই বইয়ের জন্যে আপাতত শুধু এ সকল মাথার উল্লেখই যথেষ্ট।)

 

তাগুতের বিভিন্ন রূপঃ

এর মধ্যে রয়েছে কোন মাযহাবের প্রতি আসক্তি, তাকলিদ (এর বর্ণনা পরবর্তীতে আসছে) এবং আল্লাহর ওয়াহীকে অস্বীকার শাইখের বক্তব্যের বিপরীতে। একইভাবে কুফরকে শারীয়ারূপ প্রদানকারী বিচারক, গণক বা সাল্লুম (গণক বেদুঈন গোত্র) গোত্রের নিকট বিচার আচার পেশ করা। এমনিভাবে দেশপ্রেম, জাতিপ্রেম এত বেশীভাবে যেন তা দীনে এবং উপাস্যে পরিণত হয়, যেন এর কারণেই বন্ধুত্ব এবং শত্রুতা করা হয়।

 

তাগুতের ধরনঃ

১। الجماد (নিরেট): উদাহরণ স্বরূপ মূর্তি, (আল্লাহর বিরুদ্ধে) আইনের বিচারালয়, টেলিভিশ্ন এবং সে সকল কিছু যা আল্লাহর দীনের পথের বাধা। এ কারণেই الات (আল লাত, কুরাঈশদের জাহিলি জমানার উপাস্য) এবং الخلصة (আল খালসাহ, কাবা ঘরে এ মূর্তিটি রাখা ছিল) কেও তাগুত বলা হয়েছে।

২। الاحياء و العاقل (জীবিত এবং বুদ্ধি সম্পন্ন): এদের মধ্যে রয়েছে শয়তান, জাদুকর, উলুহিয়্যাতের অধিকার এবং অদৃশ্যের জ্ঞানের দাবীদার।

৩। الأمور المعنوية (ভাবগত অর্থে বিষয় সমূহ): বস্তুতঃ সে সকল কিছু যা আল্লাহর দীনের এবং তাঁকে (আল্লাহকে) ইবাদাত করবার পথে প্রতিবন্ধক হয়ে দাঁড়ায়, তাকেই তাগুত বলা হয়। ইবনুল কায়্যিম المجاز (উপমা) এবং التؤويل (মনগড়া ব্যাখ্যা) কেও তাগুত বলেছেন। এবং অনুরূপ বিষয়সমূহ আমাদের জমানাতে তাগুতের গন্ডিভূক্ত।

(شرح شروط لا إله إلا الله, শাইখ খালিদ বিন আলী আল মিরদি আল গামিদি, পৃষ্ঠা ৯১-৯২, মাক্তাবাতু দারিল হিজায)

 

 

৩। الانداد (আনদাদ, এটি ند (নিদ) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ নকল, সমান, ইত্যাদি):

যা আপনাকে আকর্ষন করে দীন (ধর্ম) ইসলামের উর্ধে তা হোক আপনার গোত্র, আপনার বাসস্থান, আপনার আত্মীয় অথবা আপনার ধন সম্পত্তি, তা হচ্ছে ند (নিদ)। আল্লাহ তা’আলা বলেছেনঃ

وَمِنَ النَّاسِ مَنْ يَتَّخِذُ مِنْ دُونِ اللَّهِ أَنْدَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ

এবং মানুষের মধ্যে কিছু রয়েছে যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিদ গ্রহন করেছে, তাদের তারা ঠিক আল্লাহকে ভালবাসবার মত ভালবাসে।(২ঃ১৬৫)

 

আল্লাহ্‌ বলেন,

الَّذِي جَعَلَ لَكُمُ الأَرْضَ فِرَاشاً وَالسَّمَاء بِنَاء وَأَنزَلَ مِنَ السَّمَاء مَاء فَأَخْرَجَ بِهِ مِنَ الثَّمَرَاتِ رِزْقًا لَّكُمْ فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ

যিনি তোমাদের জন্যে পৃথিবীকে করেছেন শয্যা আর আকাশকে করেছেন ছাদ স্বরূপ এবং আকাশ থেকে বর্ষণ করেছেন পানি, এর পর তা দ্বারা ফলমূল হতে উৎপাদন করেন তোমাদের জন্যে রিযক স্বরূপ। সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে ند (নিদ) স্থাপন করনা, যদিও তোমরা অবগত। (২ঃ২২)

ইবন আব্বাস (এ আয়াতের) فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادًا وَأَنتُمْ تَعْلَمُونَ (সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে ند (নিদ) স্থাপন করনা, যদিও তোমরা অবগত।) প্রসঙ্গে বলেন, তোমরা আল্লাহর সাথে অপর কাউকে অংশীদার করো না নিদ দের মধ্য হতে যারা না তোমাদের কোন কল্যাণ করতে পারে, না কোন ক্ষতি করতে পারে। আর তোমরা এ কথা জান যে তিনি ব্যতীত আর কোন রব নেই (যিনি তোমাদের রিযক দান করেন)। এবং তোমরা এ কথা জান যে, তোমাদেরকে তাঁর (আল্লাহর) দিকে আহ্বান করেন যে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাওহীদের তরফ হতে, তিনি সত্য যাতে কোন সন্দেহ নেই। এভাবেই কাতাদাহ উল্লেখ করেছেন।

(ইবনু আবি হাতিম, ২৩২ এবং তাফসীর আত তাবারী, আবু জা’ফার মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত তাবারী, পৃষ্ঠা ৪৮৬)

 

আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ উল্লেখ করেন, “আমি বললাম, ও রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, কোন গুনাহটি আল্লাহর নিকট সবচাইতে বড়? তিনি বললেন, তা হচ্ছে এই যে তুমি আল্লাহর সাথে ند (নিদ) স্থাপন কর অথচ তিনিই তোমাকে সৃষ্টি করেছেন।“ (সাহীহ আল বুখারী, মুহাম্মাদ ইবন ইসমাইল আল বুখারী, খন্ড ৮, পৃষ্ঠা ১৬৩)

আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস উল্লেখ করেন, “এক ব্যক্তি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কে বলল, যা আল্লাহ্‌ ইচ্ছা করেন এবং যা আপনি ইচ্ছা করেন। তখন তিনি (নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন, তুমি কি আমাকে আল্লাহর সাথে ند (নিদ) হিসেবে স্থাপন করলে??!! বরং বল, যা আল্লাহ্‌ একাই ইচ্ছা করেন।” (আন নাসায়ী, আহমাদ ইবন শু’আইব আন নাসায়ী, অধ্যায় রাত এবং দিনের কাজ, হাদিস ৯৮৮)

 

আবু জা’ফার আত তাবারী বলেন, الانداد (আল আনদাদ) শব্দটি ند (নিদ) শব্দটির বহুবচন, আর নিদ এর অর্থ সমকক্ষ বা সম উদাহরণ। (الديوان, আবু জা’ফার, পৃষ্ঠা ৭৬)

কাতাদাহ বলেন,  فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادًا  (সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে ند (নিদ) স্থাপন করনা) অর্থাৎ সমকক্ষ।

মুজাহিদ বলেন,  فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادًا  (সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে ند (নিদ) স্থাপন করনা) অর্থাৎ সমকক্ষ।

আব্দুল্লাহ ইবন মাস’উদ বলেন, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর সাহাবাবৃন্দ হতে ,  فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادًا  (সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে ند (নিদ) স্থাপন করনা) অর্থাৎ অধিকতর ক্ষমতাধর পুরুষেরা যাদের অনুসরণ করা হত আল্লাহর অবাধ্যতায়। (الدر المنثور, জালাল উদ দিন আস সুয়ুতি, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৪-৩৫ )

ইবন আব্বাস বলেন, فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادًا  (সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে ند (নিদ) স্থাপন করনা) অর্থাৎ একই রকম। (তাফসীর ইবনু আবি হাতিম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৬২)

ইকরিমাহ বলেন,  فَلاَ تَجْعَلُواْ لِلَّهِ أَندَادًا  (সুতরাং তোমরা আল্লাহর সাথে ند (নিদ) স্থাপন করনা) , (এটি এরূপ) আপনি বললেন, যদি না আমাদের কুকুর থাকত, আমাদের বাড়িতে চোর প্রবেশ করত। যদি না আমাদের বাড়িতে কুকুর থাকত। এবং এরূপ অন্যান্য। (তাফসীর ইবনু আবি হাতিম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৬২)

(تفسير الطبري, আবু জা’ফার মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত তাবারী, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৩৯০-৩৯২, দারুল আলাম আল কুতুব)

 

 

আল্লাহ্‌ বলেন,

وَمِنَ النَّاسِ مَن يَتَّخِذُ مِن دُونِ اللَّهِ أَندَادًا يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ

এবং মানুষের মধ্যে কিছু রয়েছে যারা আল্লাহকে বাদ দিয়ে নিদ গ্রহন করেছে, তাদের তারা ঠিক আল্লাহকে ভালবাসবার মত ভালবাসে। আর যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহর প্রতি ভালবাসায় প্রচন্ড। (২ঃ১৬৫)

 

ইমাম আত তাবারী বলেন,

যারা এ সকল নিদ দের গ্রহন করে আল্লাহকে বাদ দিয়ে, তারা তাদের নিদ সমূহকে ঠিক সেভাবেই ভালবাসে যেভাবে মুমিনেরা আল্লাহকে ভালোবাসে। এর তাদের জানিয়েছেন এই যে বিশ্বাসীরা আল্লাহর ভালোবাসায় প্রচন্ডতর এই সকল লোকেদের ভালোবাসার চাইতে যারা তা পেশ করেছে এ সকল নিদ কে নিদ স্বরূপ গ্রহন করে।

ব্যাখ্যাকারীগণ الانداد  শব্দটি নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত পোষণ করেছেন, যাকে এই (বিপথগামী) দল গ্রহন করেছে। আর তা কি? কেউ কেউ বলেছেন, এ সকল হচ্ছে তাদের উপাস্য, যাদেরকে তারা উপাসনা করত আল্লাহকে বাদ দিয়ে।

 

(পক্ষ ১ঃ) যারা এ কথা বলেছেনঃ

কাতাদাহ বলেন, (এ আয়াত প্রসঙ্গে), এটি কাফিরদের মধ্য হতে তাদের উপাস্যদের প্রতি। (তাফসীর ইবন আবি হাতিম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৬)

মুজাহিদ বলেন, يُحِبُّونَهُمْ كَحُبِّ اللَّهِ (তাদের তারা ঠিক আল্লাহকে ভালবাসবার মত ভালবাসে)ঃ  الانداد  (আনদাদ) এর দ্বারা সত্যের সমপরিমাণ সুমহান মর্যাদা এবং সমকক্ষতা প্রদান করা। وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ (আর যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহর প্রতি ভালবাসায় প্রচন্ড): এটি কাফিরদের তাদের ইলাহদের প্রতি ভালোবাসা অপেক্ষা। (তাফসীর ইবন আবি হাতিম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৬)

রাবি’ বলেন, (এ আয়াত প্রসঙ্গে) এ সকল হচ্ছে সে সকল ইলাহ যাদের আল্লাহকে বাদ দিয়ে উপাসনা করা হত। বলা হয়, তারা তাদের উপাস্যদের আল্লাহকে ভালবাসবার মত করে ভালবাসে। وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ (আর যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহর প্রতি ভালবাসায় প্রচন্ড)ঃ অর্থাৎ কাফিরদের তাদের উপাস্যদের প্রতি যে ভালোবাসা তা অপেক্ষা। (তাফসীর ইবন আবি হাতিম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৬)

ইবনু যাইদ বলেন, (এ আয়াত প্রসঙ্গে) এরা মুশরিক, এদের আনদাদ তাদের ইলাহ সমূহ যাদের তারা আল্লাহর সাথে সাথে পূজা করত। তারা তাদের ঠিক সেভাবে ভালবাসত যেভাবে বিশ্বাসীরা আল্লাহকে ভালবাসত। وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ (আর যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহর প্রতি ভালবাসায় প্রচন্ড)ঃ অর্থাৎ তাদের (আল্লাহকে) ভালোবাসার ক্ষেত্রে (কাফিরদের) নকল ইলাহ দের ভালোবাসার চাইতে।

 

(পক্ষ ২ঃ) অপর পক্ষ বলেনঃ

বরং এ ক্ষেত্রে আনদাদ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে তাদের গুরুজন বা নেতাদের ব্যপারে যাদের তারা মান্য করত আল্লাহর বিরুদ্ধাচরন করবার মাধ্যমে।

যারা এ কথা বলেছেনঃ

আস সুদ্দি বলেন, (এ আয়াত প্রসঙ্গে), আনদাদ মানুষদের মধ্য হতেই। তাদের মান্য করা হত যেভাবে আল্লাহকে মান্য করা হয়। আর যদি তারা আদেশ করত, তবে তাদের মান্য করা হত আর আল্লাহর বিরুদ্ধাচরণ করা হত।(তাফসীর ইবন আবি হাতিম, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ২৭৬)

(تفسير الطبري, আবু জা’ফার মুহাম্মাদ ইবন জারীর আত তাবারী, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ১৬-১৮, দারুল আলাম আল কুতুব)

 

 

 

৪। الارباب (আরবাব, এটি رب (রব) শব্দের বহুবচন, যার অর্থ প্রভু):

যে আপনাকে ফতোয়া দিয়েছে সত্যের বিপরীতে এবং আপনি তাকে মান্য করেছেন।  আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

তারা আল্লাহ্‌কে ছেড়ে নিজেদেরকে আলেম ও ধর্ম-যাজকদেরকে الارباب (প্রভু) বানিয়ে নিয়েছে এবং মারিইয়ামের পুত্র মাসীহকেও অথচ তাদের প্রতি শুধু এই আদেশ করা হয়েছিল যে, তারা শুধুমাত্র এক মা’বূদের ইবাদত করবে যিনি ব্যাতীত কোন সত্য উপাস্য নেই। তিনি তাদের অংশী স্থির করা হতে পবিত্র। (৯ঃ৩১)

 

এ বিষয়ে ‘আদি ইবনু হাতিম (رضي الله عنه) এর বর্ণিত হাদিসটি এরূপঃ

أتيت رسولَ الله صلى الله عليه وسلم وفي عُنُقي صليبٌ من ذهب, فقال: يا عديّ، اطرح هذا الوثنَ من عنقك ! قال: فطرحته، وانتهيت إليه وهو يقرأ في  سورة براءة “, فقرأ هذه الآية: (اتخذوا أحبارهم ورُهبانهم أربابًا من دون الله)، قال قلت: يا رسول الله، إنا لسنا نعبدُهم! فقال: أليس يحرِّمون ما أحلَّ الله! فتحرِّمونه, ويحلُّون ما حرَّم الله فتحلُّونه؟ قال: قلت: بلى! قال: فتلك عبادتهم

আমি নবী (صلى الله عليه وسلم) এর কাছে এলাম এবং আমার স্ক্রন্ধে (লটকানো ) ছিল সোনার ক্রস। তিনি বললেন, “ও ‘আদি তোমার স্ক্রন্ধ হতে এ মুশরিকেদের পূজনীয় বস্তুটি হটিয়ে ফেল”। ‘আদি বললেন, আমি হটিয়ে ফেললাম। এর পর তার নিকটে এলাম এবং তিনি সুরাহ বারা’আহ (অর্থাৎ তাওবাহ) (হতে) এই আয়াতটি পড়ছিলেনঃ (৯ঃ৩১)

اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ

‘আদি বললেন, ও রাসুলুল্লাহ, আমরা ওদের উপাসনা করিনা! তখন তিনি (صلى الله عليه وسلم) বললেন, তারা কি তারা হারাম করে না যা আল্লাহ্‌ হালাল করেছেন এবং এর পর তোমরাও তা হারাম কর। এবং তারা কি তা হালাল করে না যা আল্লাহ্‌ হারাম করেছেন এবং এর পর তোমরাও তা হালাল কর। তিনি (‘আদি) বললেন, “অবশ্যই!” নবী (صلى الله عليه وسلم)  বললেন, তবে এটিই হচ্ছে তাদের ইবাদাত করা!(তিরমিযী, ৩:৯০) (তারিখ আল কাবীর, ১০৬/১/৪)

 

হুযাইফাহ ইবন আল ইয়ামানকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল,  (اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ أَرْبَابًا مِنْ دُونِ اللَّهِ وَالْمَسِيحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا إِلَهًا وَاحِدًا لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ سُبْحَانَهُ عَمَّا يُشْرِكُونَ) (আয়াত প্রসঙ্গে), তারা কি তাদের পূজা করত? তিনি বললেন, না, যদি তারা তাদের জন্যে কোন কিছু হালাল করত, তারাও তা হালাল করে নিত আর যদি তারা তাদের জন্যে কোন কিছুকে হারাম করে নিত, তবে তারাও তাকে হারাম করে নিত।(در المنثور, জালাল উদ দীন আস সুয়ুতি, খন্ড ৩, পৃষ্ঠা ২৩১ এবং تفسير الثوري, পৃষ্ঠা ১২৪)

 

 

 

إثبات (স্বীকৃতি)ঃ

إثبات (স্বীকৃতি) চারটি বিষয়ে:

 

১। القصد (কাসদ, অর্থ অভিপ্রায় / উদ্দেশ্য ): আপনার অস্তিত্ব আল্লাহ ব্যতীত আর কিছুর জন্যে নয়। আল্লাহ্‌ বলেন,

وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُونِ

আমি জিন এবং মানব জাতিকে সৃষ্টি করিনি আর কোন উদ্দেশ্যে এ ব্যতীত যে তারা যেন আমার ইবাদাত করে।(৫১ঃ৫৬)

 

২। التعظيم (তা’যিম, অর্থ- শ্রধা ) এবং  المحبة (মুহাব্বাহ, অর্থ- ভালবাসা ):  আল্লাহর বক্তব্যে:

وَالَّذِينَ آمَنُواْ أَشَدُّ حُبًّا لِّلَّهِ

আর যারা বিশ্বাসী তারা আল্লাহর প্রতি ভালবাসায় প্রচন্ড। (২ঃ১৬৫)

 

৩।الخوف (ভয়)ঃ আল্লাহ্‌ বলেন,

إِنَّمَا ذَلِكُمُ الشَّيْطَانُ يُخَوِّفُ أَوْلِيَاءهُ فَلاَ تَخَافُوهُمْ وَخَافُونِ إِن كُنتُم مُّؤْمِنِينَ

নিশ্চয়ই এই হচ্ছে তোমাদের সেই শয়তান যে তার অনুসারীগণকে ভীতি প্রদের্শন করে, সুতরাং তাদের ভয় পেয়ো না, বরঞ্চ আমাকে ভয় কর, যদি তোমরা বিশ্বাসী হও। (৩ঃ১৭৫)

 

৪। الرجاء (আশা): আল্লাহর বক্তব্যে:

وَإِنْ يَمْسَسْكَ اللَّهُ بِضُرٍّ فَلَا كَاشِفَ لَهُ إِلَّا هُوَ وَإِنْ يُرِدْكَ بِخَيْرٍ فَلَا رَادَّ لِفَضْلِهِ يُصِيبُ بِهِ مَنْ يَشَاءُ مِنْ عِبَادِهِ وَهُوَ الْغَفُورُ الرَّحِيمُ

যদি আল্লাহ্‌ তোমাকে কোন কষ্টে নিপতিত করেন, তবে তিনি ছাড়া কেউ তার মোচনকারী নেই, আর যদি তিনি তোমার প্রতি কোন কল্যাণ ছান, তবে তাঁর অনুগ্রহের কোন অপসরণকারী নেই; তিনি স্বীয় অনুগ্রহ নিজের বান্দাদের মধ্য হতে যাকে চান দান করেন; এবং তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু। (১০ঃ১০৭)

( لا إلاه إلا الله  معناها-شروطها-نواقضها-فضلها, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সায়িদ রাসলান, পৃষ্ঠা ১৬-১৭, দার আল ফুরকান)

 

 

শাইখ মুহাম্মাদ আমীন আশ শানকিতি রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

“এবং বাস্তবতা হচ্ছে انفي (না বোধক) এবং الإثبات (হাঁ বোধক) সন্দেহাতীতভাবে উভয়েই সরাসরিভাবে منطوق (মানতুক, উসুল উল ফিকহের একটি আসল। এখানে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হবে না। তবে আমরা আপাতত “উল্লেখিত” বলে ধরে নিতে পারি)। বস্তুতঃ لا শব্দটি না বোধকের ব্যপারে সরাসরি এবং إلا শব্দটি হাঁ বোধকের ব্যপারে সরাসরি।”

শাইখ মুহাম্মাদ বিন সায়িদ রাসলান বলেন,

সুতরাং لا إلاه إلا الله   সাক্ষ্য দেবার অর্থ অন্য সকলের ইবাদাত পাবার অধিকারকে স্বীকৃতি না দেওয়া একমাত্র আল্লাহ্‌ ব্যতীত, যার কোন অংশীদার নেই। তাঁর ইবাদাতে কোন অংশীদার নেই, ঠিক যেভাবে তাঁর কোন অংশীদার নেই তাঁর রাজত্বেঃ

ذَلِكَ بِأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْحَقُّ وَأَنَّ مَا يَدْعُونَ مِن دُونِهِ هُوَ الْبَاطِلُ وَأَنَّ اللَّهَ هُوَ الْعَلِيُّ الْكَبِيرُ

আর এটি এজন্য যে, আল্লাহ্‌, তিনিই সত্য এবং তারা তাঁর পরিবর্তে যাকে ডাকে ওটা তো অসত্য এবং আল্লাহ্‌, তিনিই তো সমুচ্চ, মহান।(২২ঃ৬২)

(لا إلاه إلا الله  معناها-شروطها-نواقضها-فضلها, শায়খ মুহাম্মাদ বিন সায়িদ রাসলান, পৃষ্ঠা ১৮, দার আল ফুরকান)

(চলবে)