মূলঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনু
ব্যাখ্যা সংকলনঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী
স্বত্বাধিকারীর অনুমতিদাতাঃ যুলফিকার ইবরাহীম মেমোন আল আথারী।

 

ব্যাখ্যা সংকলনঃ

العقيدة (আল আকিদাহ)

সংজ্ঞাঃ  

শাব্দিক অর্থঃ عقيدة (আকিদাহ) বা (إعتقاد) ই’তিকাদ শব্দ দুটির মূল عقد (আক্দ) শব্দ হতে, যার অর্থ চুক্তি বা বন্ধন এবং তা অত্যন্ত শক্ত করে। (লক্ষ্য করুন কামুস আল মুহিত)

ইস্তিলাহী অর্থঃ শাইখ মুহাম্মাদ আলী ইবনু হাযম আল আন্দালুসী বলেন,

الإعتقاد (ই’তিকাদ) হচ্ছে কোন কিছুর মাধ্যমে কোন হুকুমের একমত হওয়া যা অন্তরে রয়েছে তার সাথে। হয় তা برهان (বুরহান) এর দ্বারা, অথবা এমন কারুর বক্তব্যকে অনুসরণ করা যে বুরহানকে সত্যায়িত করেছে, যার ফলে তা ইয়াকিনগত জ্ঞান স্বরূপ হয়ে গিয়েছে। আর আবশ্যিকভাবে, হয় তা إقناع (ইকনা’) হতে, তবে সে ক্ষেত্রে তা ইয়াকিনগত জ্ঞান নয়, আর হয় তা সত্য অথবা তা বাতিল। আর যদি তা ইকনা’ হতে না হয়, আর বুরহান হতে না হয়, তবে সে ক্ষেত্রে হয় তা ভাগ্যক্রমে সত্য, অথবা দূর্ভাগ্যক্রমে বাতিল।

البرهان (বুরহান): সে সকল বিচারিক বিষয় যা কোন হুকুমের হাকিকতের বা সত্যতার দিকে নির্দেশ করে।

الإقناع (ইকনা’): এমন বিচারিক বিষয় যার সাথে মানুষের নাফস একমত হয়েছে কোন কিছুর হুকুমের মাধ্যমে যা হুজ্জা বা দলিলের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া ব্যতীত, আর একই সাথে এর বাতিল হবার বুরহানও স্থাপিত হয়নি।

(الإحكام في أصول الأحكام, মুহাম্মাদ আলী ইবনু হাযম আল আন্দালুসী, পৃষ্ঠা ৩৫, খন্ড ১, দার আল আথার)

শাইখ সালেহ বিন আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ আল আশ শাইখ বলেনঃ

الإعتقاد (ই’তিকাদ): যা অন্তরকে তার উপর আবদ্ধ করে চুক্তিতে সে সকল বিষয় দিয়ে যা দিয়ে চুক্তি করা হয়। আর এর মূল হচ্ছে নিশ্চিতকারী জ্ঞান। কেননা এর ভেতর ই’তিকাদ নিশ্চিতকৃত হয়েছে জ্ঞানের উপর। সুতরাং যদি আপনি কোন কিছু বিষয়ে জ্ঞান লাভ করেন এবং এ বিষয়ে নিশ্চিত হন, তবে আপনি এ বিষয়ে হয়েছেন معتقد (মু’তাকিদ, অর্থাৎ আপনি এ বিষয়ে ই’তিকাদ করেছেন অর্থাৎ বিশ্বাস করেছেন)। আর এই ই’তিকাদ শব্দটি ঈমানের ছয়টি রুকন সমূহের ব্যাখ্যায় বিশেষ করে ব্যবহৃত হয়ঃ আল্লাহর উপর ঈমান, তার ফেরেশতাদের উপর, তার কিতাব সমূহের উপর, তার রাসূলগণের উপর, শেষ দিনের উপর এবং আল্লাহর নির্ধারিত القدر (আল ক্বাদর, ভাগ্যের নির্ধারণ) যার ভালো বা মন্দ আল্লাহ হতেই। এবং আল্লাহর নাম এবং গুণাবলী বিষয়ে যা কিছু সে সকলের সাথে সম্পৃক্ত, যাদের দ্বারা হকপন্থী আহলে ই’তিকাদ দের চিহ্নিত করা সম্ভব হয়।

আর ঈমানের ছয়টি আরকানের মধ্য রয়েছে তা যা দিয়ে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের লোকেদের চিহ্নিত করা সম্ভব হয় তাঁদের ব্যতিরেকে অন্যদের হতে, যারা হচ্ছে বিদআতপন্থী এবং অন্তরে বক্রতা সম্পন্ন লোকেরা, ভিন্ন ভিন্ন মতে বিভক্ত হয়ে যাওয়া লোকেরা। উদাহরণ স্বরূপ নেতৃত্ব, সাহাবা, সৎ কাজের আদেশ এবং অসৎ কাজের নিষেধ, আখলাক এবং এ ধরনের অন্যান্য কিছু সম্পর্কিত কালাম।

(الاليء البهيمة في شرح العقيدة الواسطية, সালেহ বিন আব্দুল আযীয বিন মুহাম্মাদ আল আশ শাইখ, খন্ড ১, পৃষ্ঠা ৫৭, দার আল আসিমাহ)

গুরুত্বঃ

শাইখ মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আস সুহাইম বলেন,

আকিদাতুল ইসলামিয়্যাহ বা ইসলামিক আকিদাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নিম্নোক্ত বিষয়সমূহের মধ্যেঃ

১। সকল রাসূলগণকে সঠিক আকিদাহ এর দাওয়াতের জন্যেই পাঠানো হয়েছে। আল্লাহ তা’লা বলেন,
وَمَا أَرْسَلْنَا مِن قَبْلِكَ مِن رَّسُولٍ إِلاَّ نُوحِي إِلَيْهِ أَنَّهُ لا إِلَهَ إِلاَّ أَنَا فَاعْبُدُونِ

আর আমি আপনার পূর্বে রাসূলগণকে পাঠাইনি এ ব্যতীত যে তার প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করা হয়েছে (এ নিয়ে) যে নেই কোন উপাস্য আমি ব্যতীত, সুতরাং আমার ইবাদাত কর। (২১ঃ২৫)

২। তাওহীদ আল উলুহিয়্যাহ এর সত্যায়ন এবং আল্লাহকে তার ইবাদাতের মধ্যে তাঁকে একক স্বরূপ নেওয়া; এটিই হচ্ছে মানুষ এবং জিন সৃষ্টির প্রধান উদ্দেশ্য। আল্লাহ সুবহানু ওয়া তা’আলা বলেন,
وَمَا خَلَقْتُ الْجِنَّ وَالإِنسَ إِلاَّ لِيَعْبُدُونِ

এবং আমি জিন এবং মানবজাতিকে সৃষ্টি করিনি আমার ইবাদাত ব্যতীত আর কোন কারণে। (৫১ঃ৫৬)

৩। আমল কবুল হওয়া বান্দার তাওহীদের (তথা আকিদার) সঠিক জ্ঞানের উপর নির্ভর করে, আর আমলের সম্পূর্ণতা নির্ভর করে তাওহীদ (বা আকিদা) এর সম্পূর্ণতার উপর। সুতরাং আকিদার বা তাওহীদের কোন প্রকার কমতি কখনো কখনো আমলকে ধ্বংস করে থাকে, অথবা ওয়াজিব বা মুস্তাহাব আমলের সম্পূর্ণতাকে কমিয়ে দেয়।

(সংকলকঃ আল্লাহ বলেন,

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا أَطِيعُوا اللَّهَ وَأَطِيعُوا الرَّسُولَ وَلا تُبْطِلُوا أَعْمَالَكُمْ

ও তোমরা যারা বিশ্বাসী, আল্লাহকে মান্য কর, এবং রাসুলকে মান্য কর, এবং তোমাদের আমলসমূহকে ধ্বংস করে দিও না। (৪৭ঃ৩৩) )

৪। আখিরাতের চিরকালীন নাজাত এবং সঠিক ফলাফল আকিদাহ এর সুস্থতার উপর নির্ভরশীল। এতেই পরিষ্কার হয় এর পাঠের গুরুত্ব এবং সঠিক মিনহাজ অনুযায়ী এ ব্যপারে বিশ্বাসের। আল্লাহর নবী মুহাম্মাদﷺ বলেন,

إن الله حرّم على النار من قال: لا إله إلا الله يبتغي بذلك وجه الله

নিশ্চিতভাবে আল্লাহ হারাম করেছেন আগুণের উপর, যে উচ্চারণ করেছে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ এবং এ দ্বারা শুধু আল্লাহর চেহারাই সে প্রার্থনা করেছে।
(বুখারী অধ্যায় সালাত, বাব গৃহে মসজিদ, ক্রম ৪১৫)
(মুসলিম, অধ্যায় মাসজিদ, বাব ওজরের কারণে জামায়াত হতে বিরত থাকবার ব্যপারে রুখসাহ, ক্রম ২৬৩)

৫। নিশ্চিতভাবে এই আকিদাহ বান্দা ও তার সৃষ্টিকর্তার সাথে সম্পর্কের সংজ্ঞা বা পরিসীমা নির্ধারণ করে থাকেঃ বুঝবার মাধ্যমে, তাওহীদের মাধ্যমে এবং আল্লাহর প্রতি সংশ্লিষ্ট ইবাদাতের মাধ্যমেঃ ভয়, আশার মাধ্যমে, সচেতনতা আর তা’জীম, আল্লাহ ভীতি এবং নিয়মিত হওয়া… আর আল্লাহর তরফ হতে বান্দার প্রতি সম্পূর্ণ মনোযোগঃ বীর্যাবস্থায়, ছেলেবেলায়, বয়োজ্যেষ্ঠকালে, ডাঙ্গায় এবং পানিতে,রিজিক এবং নিয়ামাতের মাধ্যমে, রক্ষা করা এবং দয়া করবার মাধ্যমে।

(সংকলকঃ এ বিষয়টি বান্দার প্রতি আল্লাহর হক আর আল্লাহর প্রতি বান্দার হকের সাথে সম্পর্কযুক্ত।

عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ -رَضِيَ اَللَّهُ عَنْهُ -قَالَ:» كُنْتُ رَدِيفَ اَلنَّبِيِّ صَلَّى اَللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عَلَى حِمَارٍ فَقَالَ لِي يَا مُعَاذُ؟ أَتَدْرِي مَا حَقُّ اَللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ، وَمَا حَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اَللَّهِ؟ قُلْتُ اَللَّهُ وَرَسُولُهُ أَعْلَمُ، قَالَ حَقُّ اَللَّهِ عَلَى الْعِبَادِ أَنْ يَعْبُدُوهُ، وَلا يُشْرِكُوا بِهِ شَيْئًا، وَحَقُّ الْعِبَادِ عَلَى اَللَّهِ أَنْ لا يُعَذِّبَ مَنْ لا يُشْرِكُ بِهِ شَيْئًا، قُلْتُ يَا رَسُولَ اَللَّهِ أَفَلا أُبَشِّرُ اَلنَّاسَ؟ قَالَ لا تُبَشِّرْهُمْ فَيَتَّكِلُوا

মু’আয ইবনু জাবাল রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, “আমি নবী ﷺ এর পিছনে একটি গাধার উপর সওয়ার ছিলাম। তখন তিনি বললেন, ও মু’আয, তুমি কি জানো বান্দার উপর আল্লাহর হক কি আর আল্লাহর উপর বান্দার হক কি? আমি বললাম, আল্লাহ ও তাঁর রাসুল সবচাইতে ভালো জানেন। তিনি বললেন, বান্দার উপর আল্লাহর হক হচ্ছে এই যে সে শুধু আল্লাহর ইবাদাত করবে এবং তাঁর সাথে কোন প্রকার শরীক স্থাপন করবে না। আর আল্লাহর উপর বান্দার হক হচ্ছে এই যে তিনি আযাব দেবেন না তাঁকে যে তাঁর সাথে কোন প্রকার শরীক স্থাপন করেনা। আমি বললাম, আমি কি লোকেদের এই সুসংবাদ পৌঁছিয়ে দেব না? তিনি বললেন, তাদেরকে এই সুসংবাদ দিওনা, এর পর তারা এর উপড়েই নির্ভরশীল হয়ে পড়বে (অর্থাৎ তারা ইবাদাত ছেঁড়ে দিয়ে শুধুমাত্র আল্লাহর উপর ভরসা করে আমল বিমুখ হয়ে পড়বে।)।”

(বুখারী ৬২৬৭,২৮৫৬) (মুসলিম ৩০))

৬। নিশ্চিতভাবে এ দুনিয়াতে সুখের মূল হচ্ছে আল্লাহ তা’আলা সম্পর্কে জ্ঞান দ্বারা, সুতরাং বান্দার আল্লাহর ব্যপারে চাওয়া সকল চাওয়ার উর্ধবে। সুতরাং কোন প্রকার বিরতি-বিশ্রাম নেই আর নেই অন্তরের সন্তুষ্টি এ ব্যতীত যে বান্দা তার রবকে জানবে তাঁর রুবুবিয়্যাতের মাধ্যমে, উলুহিয়্যাতের মাধ্যমে, তাঁর নাম এবং গুণাবলী সম্পর্কে।

৭। এই আকিদা জবাব দিয়ে থাকে সকল প্রকার প্রশ্নের যা বান্দার অন্তরে ঘুরপাক খায়। এর মধ্যে রয়েছেঃ সৃষ্টিকর্তার গুন, সৃষ্টি জগতের সূচনা, এর শেষ, এর উদ্দেশ্য, এর প্রেক্ষিতে সৃষ্টি সংক্রান্ত সে সকল জ্ঞান-বিজ্ঞান, এবং এদের একের সাথে ওপরের সম্পর্ক, এবং ভাগ্যের পূর্বনির্ধারণের বিষয়…

৮। আল কুরআন এবং আস সুন্নাহকে অন্তরে বপন করা আকিদার বিষয়েঃ ব্যাখ্যা এবং সহমত হবার মাধ্যমে, সত্যায়ন করবার মাধ্যমে, পরিষ্কার করবার মাধ্যমে, এবং এর প্রতি দাওয়াত দেবার মাধ্যমে।

৯। নিশ্চিতভাবে সঠিক আকিদাহই দুনিয়া এবং আখিরাতের জগতে (বিজয়ীরূপে) আবির্ভাব ঘটা, সাহায্য এবং সাফল্যের কারণ। সুতরাং যে দলটি একে আঁকড়ে ধরে থাকবে সেটি হচ্ছে সেই দল যা (বিজয়ীরূপে) আবির্ভূত, নাজাতপ্রাপ্ত এবং সাহায্যপ্রাপ্ত, যার কোন ক্ষতি হয় না একে পরিত্যাগকারী দ্বারা। আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদ ﷺ বলেছেন,

لا تزال طائفة من أمتي ظاهرين على الحق، لا يضرهم من خذلهم حتى يأتي أمر الله وهم كذلك

আমার উম্মত হতে সবসময় একটি দল আবির্ভূত হবে হকের উপর। তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না তাদের পরিত্যাগকারীরা যতক্ষণ না আল্লাহর আদেশ স্থাপিত হয় আর তারা এরূপই থাকবে।

(মুসলিম অধ্যায় কিতাবুল ইমারাহ, বাব তাঁর বক্তব্য আমার উম্মত হতে সবসময় একটি দল আবির্ভূত হবে হকের উপর। তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না তাদের বিরোধিতাকারীরা, ক্রম ১৯২০)

১০। সাহীহ আকিদাহই মুসলিমকে রক্ষা করে থাকে সে সকল পদচারণা হতে যা ভ্রান্ত ফাসিদ আকিদাহ এবং ধারণাকে ঘিরে হয়। এবং এভাবেও বলা যায়ঃ নিশ্চিতভাবে সঠিক আকিদাহ হচ্ছে সেই মূল যার উপর দীন দাঁড়িয়ে রয়েছে, এর সাথেই আমলসমূহ সঠিক হয়, যেভাবে আল্লাহ বলেছেন,

فَمَن كَانَ يَرْجُو لِقَاء رَبِّهِ فَلْيَعْمَلْ عَمَلا صَالِحًا وَلا يُشْرِكْ بِعِبَادَةِ رَبِّهِ أَحَدًا

যে কেউ তার রবের সাক্ষাত চাইবে সে যেন সালেহ বা সৎ আমল করে এবং তার রবের ইবাদাতে একেবারেই কাউকে শরীক না করে। (১৮ঃ১১০)

এবং আল্লাহ তা’আলা আরও বলেন,

وَلَقَدْ أُوحِيَ إِلَيْكَ وَإِلَى الَّذِينَ مِنْ قَبْلِكَ لَئِنْ أَشْرَكْتَ لَيَحْبَطَنَّ عَمَلُكَ وَلَتَكُونَنَّ مِنَ الْخَاسِرِينَ

এবং তোমার প্রতি ওয়াহী প্রেরণ করা হয়েছে এবং তাদের প্রতিও যারা তোমার পূর্ববর্তী – যদি তুমি শিরক কর, তবে আমি তোমার আমলসমূহ ধ্বংস করে দেব এবং নিশ্চয়ই তুমি অভাগা পরাজিতদের মধ্য হতে হবে। (৩৯ঃ৬৫)

সুতরাং এ সকল আয়াত কারীম এই নির্দেশ করে – আর একই অর্থধারী আয়াতসমূহ, যেগুলো অগণিত – এই যে আমল কবুল হয়না যদিনা তা শিরক হতে মুক্ত হয়। আর এ কারণেই রাসুলগণ সালাওয়াতুল্লাহ ওয়া সালামুহু আলাইহিম গুরুত্ব দিয়েছেন আকিদাকেই প্রথমে শুদ্ধ করতে। সুতরাং সর্বপ্রথম যার দিকে তাঁরা আহ্বান করেন তাঁদের কাওমদেরকে তা হচ্ছে একমাত্র আল্লাহরই ইবাদাত করা এবং তাঁকে ব্যতীত আর সকলের ইবাদাতকে তরক করতে। যেভাবে আল্লাহ তা’আলা বলেছেন,

وَلَقَدْ بَعَثْنَا فِي كُلِّ أُمَّةٍ رَّسُولاً أَنِ اعْبُدُواْ اللَّهَ وَاجْتَنِبُواْ الطَّاغُوتَ

আর আমি প্রেরণ করেছি প্রত্যেক উম্মাতে রাসুলগণকে, (যাতে তাঁরা এই বলে যে) আল্লাহর ইবাদাত করো এবং তাগুতকে পরিহার কর। (১৬ঃ৩৬)

আর নবী ﷺ তাঁর আবির্ভাবের পর তের বছর মক্কায় এ কাজেই রত ছিলেন যে তিনি লোকেদের তাওহীদের দিকে ডেকেছেন, এবং আকিদাহ সঠিক করেছেন। কেননা তা হচ্ছে সেই মূল যার উপর দীনের স্থাপনা দাঁড়িয়ে আছে। আর তাঁদের অনুসরণ করেছে দাওয়াত প্রদানকারী এবং সংশোধনকারীরা প্রত্যেক জমানাতে নবী রসুলদের পথেই, সুতরাং তাঁরা শুরু করেছেন তাওহীদের দিকে দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে এবং আকিদাহ সঠিক করবার মাধ্যমে। এর পর তাঁরা দীনের বাকি সকল বিষয়ের প্রতি দৃষ্টি প্রদান করেছেন।

(تعريف العقيدة الإسلامية، وبيان أهميتها, মুহাম্মাদ বিন আব্দুল্লাহ আল সুহাইম, ওয়েব লিঙ্কঃ http://www.alukah.net/web/sohaym/0/63961/ )

(চলবে)