মূলঃ শাইখ মুহাম্মাদ বিন জামীল যাইনু
ব্যাখ্যা সংকলনঃ আবু হাযম মুহাম্মাদ সাকিব চৌধুরী বিন শামস আদ দীন আশ শাতকানী
স্বত্বাধিকারীর অনুমতিদাতাঃ যুলফিকার ইবরাহীম মেমোন আল আথারী।

ব্যাখ্যা সংকলনঃ

 

৪। الإخلاص (ইখলাস, অর্থ আন্তরিকতা/একাগ্রতা)

আন্তরিকতা যা شرك (শিরক, আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব), نفاق (নিফাক, অর্থ কপটতা),  رياء (রিয়া, অহংকার করে লোক দেখানো), سمعة (সুম’আহ, লোকের কাছ থেকে প্রশংসা প্রাপ্তির আশা) কে অকার্যকর করে।  الإخلاص এর অর্থ কর্ম (এ ক্ষেত্রে ইবাদাত) কে শুদ্ধ করা সকল প্রকার  شرك এর অপমিশ্রতা হতে ন্যয়পরায়ণ আকাঙ্ক্ষার (نية , নিয়্যাত, অর্থ আকাঙ্ক্ষা) মাধ্যমে।  আল্লাহ তা’আলা বলেছেন:

إِنَّا أَنْزَلْنَا إِلَيْكَ الْكِتَابَ بِالْحَقِّ فَاعْبُدِ اللَّهَ مُخْلِصًا لَهُ الدِّينَ

أَلَا لِلَّهِ الدِّينُ الْخَالِصُ وَالَّذِينَ اتَّخَذُوا مِنْ دُونِهِ أَوْلِيَاءَ مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُونَا إِلَى اللَّهِ زُلْفَى إِنَّ اللَّهَ يَحْكُمُ بَيْنَهُمْ فِي مَا هُمْ فِيهِ يَخْتَلِفُونَ إِنَّ اللَّهَ لَا يَهْدِي مَنْ هُوَ كَاذِبٌ كَفَّارٌ

আমি তোমার নিকট এই কিতাব সত্যতা সহকারে অবতীর্ণ করেছি; সুতরাং তুমি আল্লাহর ইবাদাত কর তাঁর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে। জেনে রেখো, অবিমিশ্র আনুগত্য আল্লাহরই প্রাপ্য। যারা আল্লহর পরিবর্তে অন্যকে অভিভাবকরুপে গ্রহণ করে, (তারা বলে:) আমরা তো এদের পূজা এজন্যই করি যে, এরা আমাকে আল্লাহর সান্নিধ্য এনে দিবে। তারা যে বিষয়ে নিজেদের মধ্যে মতভেদ করছে আল্লাহ তার ফয়সালা করে দিবেন। যে মিথ্যাবাদী ও কাফির আল্লাহ তাঁকে সতপথে পরিচালিত করেন না। (৩৯ঃ২-৩)

 

وَمَا أُمِرُوا إِلَّا لِيَعْبُدُوا اللَّهَ مُخْلِصِينَ لَهُ الدِّينَ حُنَفَاءَ وَيُقِيمُوا الصَّلَاةَ وَيُؤْتُوا الزَّكَاةَ وَذَلِكَ دِينُ الْقَيِّمَةِ

তারা তো আদিষ্ট হয়েছিলো আল্লাহর আনুগত্যে বিশুদ্ধচিত্ত হয়ে একনিষ্ঠভাবে তাঁর ইবাদত করতে এবং নামায কায়েম করতে ও যাকাত প্রদান করতে, এটাই সুপ্রতিষ্ঠিত সঠিক দ্বীন। (৯৮ঃ৫)

قُلِ اللَّهَ أَعْبُدُ مُخْلِصًا لَّهُ دِينِي

বলঃ আমি ইবাদত করি আল্লাহরই তাঁর প্রতি আমার আনুগত্যকে একনিষ্ঠ রেখে। (৩৯ঃ১৪)

إِنَّ الْمُنَافِقِينَ فِي الدَّرْكِ الْأَسْفَلِ مِنَ النَّارِ وَلَنْ تَجِدَ لَهُمْ نَصِيرًا

 إِلَّا الَّذِينَ تَابُوا وَأَصْلَحُوا وَاعْتَصَمُوا بِاللَّهِ وَأَخْلَصُوا دِينَهُمْ لِلَّهِ فَأُولَئِكَ مَعَ الْمُؤْمِنِينَ وَسَوْفَ يُؤْتِ اللَّهُ الْمُؤْمِنِينَ أَجْرًا عَظِيمًا

নিশ্চয় মুনাফিকরা জাহান্নামের নিম্নতম স্তরে অবস্থিত হবে এবং তুমি কখনো তাদের জন্যে সাহায্যকারী পাবে না। কিন্তু যারা ক্ষমা প্রার্থণা করে ও সংশোধিত হয় এবং আল্লাহকে সুদৃঢ়ভাবে ধারণ করে ও আল্লাহর জন্যে তাদের দ্বীনকে বিশুদ্ধ করে, ফলতঃ তারাই মু’মিনদের সঙ্গী এবং অচিরেই আল্লাহ মু’মিনদেরকে উত্তম প্রতিদান দিবেন। (৪ঃ১৪৫-১৪৬)

সুতরাং আল্লাহ তা’আলা মুমিনদের মধ্যে অবস্থান করবার শর্ত দিয়েছেন এই বলে যে তারা তাদের দীন আল্লাহর উদ্দেশ্যে নিবেদন করবে। যে কেউ একথা মুখে স্বীকার করে নেবে কিন্তু আন্তরিকভাবে গ্রহন করবে না, সে মুমিনদের অন্তর্ভূক্ত হবে না। বরঞ্চ সে منافق (মুনাফিক, অর্থ কপট), তবে ইসলামিক পরিভাষায় মুনাফিকেরা অমুসলিমদের অন্তর্ভূক্ত হবে যাদের স্থান (জাহান্নামের) আগুণের সর্বনিম্ন স্তরে।

তাই لا إله الا الله এর উচ্চারণ করবার মধ্যে নিশ্চিতভাবে রয়েছে ইখলাস, এ বাক্য উচ্চারণ করবার উদ্দেশ্য হবে না কোন পার্থিব আশা আকাঙ্ক্ষা, (অহংকার বশত) লোক দেখানো এবং লোক প্রশংসা ।

 

এবং আবু হুরাইরাহ ( رضي الله عنه ) এর বরাতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন,

اسعد الناس بشفاعتي يوم القيامة من قال لا الاه الا الله خالصا من قلبه

কিয়ামতের দিনে আমার شفاعة (শাফা’আত , অর্থ সুপারিশ) লাভের জন্যে সবচাইতে যোগ্য ব্যক্তি সে যে আন্তরিকভাবে তাঁর হৃদয় হতে উচ্চারণ করেছে  لا إله الا الله  । (বুখারী ৯৯)

 

এবং ইতবান ইবনু মালিক ( رضي الله عنه ) এর বরাতে এসেছে, রাসুলুল্লাহ (صلى الله عليه وسلم) বলেছেন,

ان الله قد حرم على النار من قال لا إله الا الله يبتغي بذلك وجه الله

নিশ্চিতভাবে আল্লাহ তাকে (জাহান্নামের) আগুণের উপর হারাম করেছেন যে উচ্চারণ করে  لا إله الا الله  এবং তার মাধ্যমে (অর্থাৎ এ উচ্চারণের মাধ্যমে ) সে শুধু আল্লাহর চেহারা (তাঁর সন্তুষ্টি) আশা করে। (বুখারী ৪২৫, মুসলিম ৩৩)

 

شرك (শিরক, আল্লাহর সাথে অংশীদারিত্ব)ঃ

ইখলাসের বিপরীত হচ্ছে শিরক, এ বিষয়ে পরবর্তীতে আসছে।

 

(চলবে)